মঙ্গলবার ২০ জানুয়ারি ২০২৬, মাঘ ৭ ১৪৩২, ০১ শা'বান ১৪৪৭

জাতীয়

মাইকে ঘোষণা দিয়ে র‍্যাবের ওপর সংঘবদ্ধ হামলা

 প্রকাশিত: ১০:৪০, ২০ জানুয়ারি ২০২৬

মাইকে ঘোষণা দিয়ে র‍্যাবের ওপর সংঘবদ্ধ হামলা

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার সলিমপুর ইউনিয়নের জঙ্গল-সলিমপুর এলাকায় অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী গ্রেপ্তারে অভিযানে গিয়ে র‍্যাব-৭ ওপর মাইকে ঘোষণা দিয়ে শত শত লোক জড়ো করে সংঘবদ্ধভাবে র‍্যাব সদস্যদের হামলা চালানো হয়েছে। এতে একজন র‍্যাব সদস্য নিহত হয়েছেন এবং আরও তিনজন গুরুতর আহত হয়েছেন। 

সোমবার (১৯ জানুয়ারি) বিকেল সোয়া চারটার দিকে এ ঘটনা ঘটে। 

র‍্যাব-৭ এর সহকারী পরিচালক (গণমাধ্যম) এ. আর. এম. মোজাফ্ফর হোসেন জানান, সোমবার (১৯ জানুয়ারি) বিকেল আনুমানিক সোয়া চারটার দিকে র‍্যাব-৭, চট্টগ্রামের একটি আভিযানিক দল সীতাকুণ্ড উপজেলার সলিমপুর ইউনিয়নের জঙ্গল-সলিমপুর এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে।

অভিযানের সময় র‍্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে মাইকে ঘোষণা দিয়ে স্থানীয়ভাবে প্রায় ৪০০ থেকে ৫০০ জন দুষ্কৃতকারী জড়ো হয়ে অতর্কিত হামলা চালায়। হামলায় র‍্যাবের চার সদস্য গুরুতর রক্তাক্ত জখম হন।

তিনি আরও জানান, থানা পুলিশের সহায়তায় আহত র‍্যাব সদস্যদের উদ্ধার করে চট্টগ্রাম সিএমএইচে নেওয়া হয়। সেখানে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক জেসিও-১০৭৫৯ নায়েব সুবেদার মো. মোতালেব হোসেন ভূঁইয়াকে মৃত ঘোষণা করেন।

আহত অপর তিনজন বর্তমানে চট্টগ্রাম সিএমএইচে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং হামলায় জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সেখানকার একটি সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, সাদা রঙের মাইক্রোবাসে কালো জ্যাকেট পরা র‌্যাব সদস্যরা সেখানে অভিযানে যায়। স্থানীয়দের হামলায় মাইক্রোবাস ফিরে আসার সময় ভাঙচুর করতে দেখা যায়।

প্রশাসনিক কাঠামোতে জঙ্গল সলিমপুরের অবস্থান সীতাকুণ্ড উপজেলার আওতায় হলেও ওই এলাকায় প্রবেশ করতে হয় চট্টগ্রাম নগরীর বায়েজিদ থানার বাংলাবাজার এলাকা দিয়ে। বায়েজিদ লিঙ্ক রোড দিয়ে ভাটিয়ারি যাওয়ার পথে ডান দিকে জঙ্গল ছলিমপুর।

জানা গেছে, জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় দীর্ঘ চার দশকের বেশি সময় ধরে সরকারি পাহাড় ও খাস জমি দখল করে গড়ে উঠেছে হাজারো অবৈধ বসতি। দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চল হওয়ায় এলাকাটি পাহাড়খেকো, ভূমিদস্যু ও সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের নিরাপদ ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। প্রায় ৩ হাজার ১০০ একর আয়তনের এই এলাকার দখলকৃত জমির আনুমানিক মূল্য প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকা।

টিলা কেটে গড়ে তোলা এ ঝুঁকিপূর্ণ বসতি পরিণত হয়েছে ‘দুর্ভেদ্য সাম্রাজ্যে’।

এলাকাটি ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে সংঘর্ষ, খুনোখুনি ও সন্ত্রাসী তৎপরতা চললেও বারবার প্রশাসনের অভিযান হামলার মুখে পড়ছে, যা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।