শাকসু নির্বাচনের দাবিতে অনড় শিক্ষার্থীরা, চেম্বার আদালতে যাবে প্রশাসন
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ-শাকসু নির্বাচনের দাবিতে অনড় অবস্থানে রয়েছেন শিক্ষার্থীরা। হাইকোর্টের স্থগিতাদেশের পর নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্যে চেম্বার আদালতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
শাকসু নির্বাচনের দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করেছেন বিভিন্ন প্যানেলের প্রার্থী ও শিক্ষার্থীরা।
বৈঠক শেষে শাকসু নির্বাচনের জন্য আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য। অন্যদিকে নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা এসেছে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে।
সোমবার সন্ধ্যা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনে শুরু হওয়া বৈঠক মধ্যরাত পর্যন্ত চলে। এ সময় উপাচার্যসহ প্রশাসনের একাধিক কর্মকর্তারা সেখানে অবরুদ্ধ ছিলেন। এরপর রাত ১টার দিকে উপাচার্য, উপ-উপাচার্য, কোষাধ্যক্ষ, রেজিস্ট্রারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মুক্ত হন।
শাকসু নির্বাচনের স্বতন্ত্র ভিপি প্রার্থী মমিনুর রশিদ শুভসহ তিনজনের করা রিট আবেদনের শুনানি শেষে সোমবার দুপুরে ভোট চার সপ্তাহেরর জন্য স্থগিতের আদেশ দেন হাইকোর্টের বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের বেঞ্চ। এরপর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ চেম্বার আদালতে যায়; কিন্তু সেখানে এর শুনানি হয়নি।
বৈঠক শেষে স্বতন্ত্র জিএস প্রার্থী পলাশ বখতিয়ার বলেন, “প্রশাসনের পক্ষ থেকে যেন সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা করা হয়, এজন্য আমরা তাদের অবরুদ্ধ করে রেখেছিলাম। কিন্তু এটা এখন পুরোটা আমাদের প্রশাসনের হাতে নেই; এটি হাইকোর্টে চলে গিয়েছে। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমরা এতটুকু আশ্বস্ত হয়েছি যে-তাদের পক্ষে যতটুকু করা সম্ভব হাইকোর্টে যাতে এ রিটটি খারিজ করা যায়, সেটা তারা করবে।
“তাদের উপর একটা অনাস্থা তৈরি হয়ছিল। এখন আমরা এটা নিশ্চিত হয়েছি, তিনি (উপাচার্য) মঙ্গলবার এ ক্যাম্পাস ছাড়বেন না। তবে কোনো কারণে তার ঢাকার যাওয়ার দরকার হলে, সেটা শাকসুর জন্যই যাবেন এবং সেটা শিক্ষার্থীদেরই বলেই যাবেন। চেম্বার আদালত তিনটায় খোলে। প্রশাসন সকাল থেকেই সবধরনের চেষ্টা করবেন, হাইকোর্ট স্থাগিত আদেশ খারিজ করতে।”
শাকসু নির্বাচনের দাবিতে মঙ্গলবার সকাল ১০টা থেকে আবার বিক্ষোভ কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণাও দেন পলাশ বখতিয়ার।
এর আগে সোমবার দুপুরে হাইকোর্টের আদেশ ঘোষণার আগ থেকেই শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয় ফটকের সামনে অবস্থান নেন এবং একই সময়ে প্রশাসনিক ভবনে তালা দেওয়া হয়। এতে উপাচার্যসহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা ভবনের ভেতরে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন।
আন্দোলনরতদের মধ্যে ইসলামী ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানেল, ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেলের অন্তর্ভুক্ত স্বতন্ত্র প্রার্থী, স্বতন্ত্র প্রার্থী ঐক্যবদ্ধ প্যানেলসহ বিভিন্ন পক্ষের প্রার্থীদের উপস্থিতি দেখা গেছে।
এ সময় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা স্বতন্ত্র ভিপি প্রার্থী মমিনুর রশিদ শুভকে ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে অবাঞ্ছিত’ ঘোষণা করেন।
বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী আবু সালেহ মো. নাসিম সাংবাদিকদের বলেন, “যার রিটের কারণে ২৮ বছর পর হতে যাওয়া শাকসু নির্বাচন স্থগিত হয়েছে, তাকে আমরা ক্যাম্পাসে স্বাগত জানাবো না।”
গণিত বিভাগের শিক্ষার্থী সাজ্জাদ হোসেন বলেন, “মঙ্গলবার হচ্ছে আমাদের আসল আন্দোলন সংগ্রাম। মঙ্গলবার তো শাকসু হচ্ছে না। চেম্বার আদালতের রায় আসবে তিনটার পরে।
“সেক্ষেত্রে ভার্সিটি প্রশাসন কাল থাকবে কি-না, সেটা নিয়ে ইনসিউরিটিতে ছিলাম। তবে ভিসি স্যার আমাদের কন্সেন্ট ছাড়া ক্যাম্পাস ছাড়বেন না।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ এম সরওয়ারউদ্দিন চৌধুরী বলেন, “তিন শিক্ষার্থীর রিটের প্রেক্ষিতে হাইকোর্ট শাকসু নির্বাচন স্থগিত করেছেন। আমরা চেম্বার আদালতে আবেদন করেছি, কিন্তু তারা বলছে তারা এটার শুনানি দেবে না। আমরা মঙ্গলবার ফের আপিল করব।”
“আমি যেটা ধরি সেটা হয়ে যায়। হাইকোর্টের শাকসু স্থগিতাদেশ খারিজ করার জন্য যা যা করার দরকার, আমরা সবরকম চেষ্টা করব। আমরা এই আদেশের বিরুদ্ধে চেম্বার আদালতে আবেদন করেছি এবং আইনি লড়াই চালিয়ে যাব।”
ভিসি বলেন, “চেম্বার আদালত যদি মঙ্গলবার আমাদের পক্ষে রায় দেন, তাহলে পরদিনই নির্বাচন আয়োজন করা সম্ভব হবে।”
দীর্ঘ ২৮ বছর পর ২০ জানুয়ারি শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদ নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল।