তারেকের প্রচারণা: প্রস্তুত সিলেটের আলিয়া মাদ্রাসা মাঠ
বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্বাচনি প্রচার শুরুর জন্য প্রস্তুত সিলেটের সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা মাঠ।
বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় এ মাঠ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রচারণা শুরু করবেন বিএনপি নেতা।
বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত জিয়াউর রহমান এবং সদ্যপ্রয়াত চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াও প্রতিবার নির্বাচনের আগে মাজার জিয়ারতের পাশাপাশি সিলেটে প্রথম নির্বাচনি জনসভা করতেন।
সকাল ৮টায় সরেজমিনে দেখা গেছে, কয়েকশ নেতা-কর্মী হলুদ ক্যাপ পরে আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে অবস্থান করছে। মঞ্চ প্রস্তুত হয়ে আছে। স্থাপন করা হয়েছে ডিজিটাল ব্যানার।
মঞ্চের চারপাশে বাঁশের ব্যারিকেড দিয়ে সংরক্ষিত এলাকায় নেতাদের জন্য আসনও রাখা হয়েছে। মাঠের চারপাশের সড়কগুলোতে যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। চৌহাট্টা, সড়ক, দাড়িয়াপাড়া সড়ক, দরগাঁ গেট সড়ক, মেডিকেল সড়ক, স্টেডিয়াম সড়ক, আম্বর খানা রোড়, জিন্দাবাজার সড়ক সড়কে যান চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে পুলিশ। আলিয়া মাদ্রাসা মাঠের পাশাপাশি এসব সড়কে লোকজন সমবেত হবে।
আয়োজকরা জানান, মাঠ প্রাঙ্গণসহ আশপাশের সড়কগুলোতে দুই শতাধিক মাইক লাগানো হয়েছে। এছাড়া মাঠের এক কোণায় বড় পর্দা বসানো হয়েছে, সেখানে মঞ্চের দৃশ্য দেখানো হবে।
আলিয়া মাদ্রাসা মাঠের সব ধরনের প্রস্তুতি শেষে হয়েছে বলে জানিয়েছেন সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি কাইয়ুম চৌধুরী।
তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমাদের সব আয়োজন শেষ হয়েছে। এখন অপেক্ষায় আছি আমাদের নেতা সিলেটবাসীর পরম আত্মীয় তারেক রহমান সাহেবকে স্বাগত জানাতে।
“যেহেতু এটি একটি নির্বাচনি সমাবেশ এবং এই প্রথম তারেক রহমান সাহেব সিলেটবাসীর উদ্দেশ্যে প্রথম বক্তব্য রাখবেন; সেজন্য আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে স্মরণকালের জনসমাগম ঘটবে।”
সিলেটের ছয়টি আসন এবং সুনামগঞ্জের পাঁচটি আসনের প্রার্থীরা এ নির্বাচনি সমাবেশে থাকবেন বলে জানান কাইয়ুম চৌধুরী।
আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে মঞ্চের চারপাশে রয়েছে চেয়ারম্যানের নিরাপত্তা বাহিনীর (সিএসএফ) সদস্যরা।
সিএসএফের এক সদস্য জানান, বুধবার রাতে থেকে তারা এখানে অবস্থান করছেন। মঞ্চে আশপাশে নির্ধারিত নেতারা ছাড়া কেউ প্রবেশ করতে পারবেন না।
তারেক রহমানের আগমন উপলক্ষে পুরো সিলেট শহরে ব্যানার-ফেস্টুনে ছেয়ে গেছে। বিএনপি চেয়ারম্যানকে স্বাগত জানিয়ে সিলেট জেলার বিভিন্ন আসনের প্রার্থী ও জেলা-মহানগর নেতারা ব্যানার টানিয়েছেন।
রিকশা চালক মিরানুল আলম বলেন, “আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে লোকজন আটবিনে (জায়গা হবে না)। এতো লোকজন হইব দেখবে রাস্তার মধ্যে থাকা লাগব।
“সেই সুনামগঞ্জ থেকেও লোকজন আইছে রাইতেই। সকলে তারেক রহমানকে দেখতে আইছে। এই সিলেটের তাইনো জামাই।”
দুই দশকের বেশি সময় পরে সিলেটে আসা তারেক রহমানকে নিয়ে লোকজনের কৌতূহলের কমতি নেই।
নাইওরপুল এলাকার বাসিন্দা হোটেল মালিক সোবহান চৌধুরী বলেন, “এবারের নির্বাচনে বিএনপির দিকে অনেকে তাকিয়ে আাছে। এই দলের নেতা ছিলেন জিয়াউর রহমান এবং এরপর ম্যাডাম খালেদা জিয়া। তারাই। এই কিছুদিন আগে ম্যাডাম চলে গেছেন পরপারে। স্বাভাবিকভাবে তারেক রহমানের প্রতি সবার দৃষ্টি।
“আমরা আশা করি, তার নেতৃত্বে বাংলাদেশ নতুন ভাবে সামনে দিকে এগিয়ে যাবে। সেজন্য আমি মনে করি, সিলেটে তারেক রহমানের আজকে বক্তব্য নতুন মাত্রা জানান দেবে।”
আনুষ্ঠানিক প্রচারাভিযান শুরু করতে বুধবার রাতে স্ত্রী জুবাইদা রহমানকে নিয়ে ঢাকা থেকে সিলেট এসেছেন তারেক রহমান। সিলেট পৌঁছে রাতেই হজরত শাহ জালাল (র.) ও হজরত শাহ পরাণের মাজার জিয়ারত করেন তিনি। পাশাপাশি শাহ জালালের মাজারের কবরস্থানে মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক এম এ জি ওসমানীর কবরও জিয়ারত করেন বিএনপি চেয়ারম্যান।
গভীর রাতে স্লোগানে মুখরিত আলিয়া মাঠ
একযুগ আগে সিলেটে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সবশেষ জনসভা হয়েছিল আলিয়া মাদ্রাসা মাঠেই। সেই আয়োজনে অংশগ্রহণ করেছিলেন সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলার শামীম মিয়া (৬৫)। এবার বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের জনসভাতে অংশ নিতে তিনি এসেছেন আগের দিনই।
শামীম মিয়া বুধবার গভীর রাতে জনসভাস্থলে বলেন, “বেগম জিয়া মারা গেছেন, দলের দায়িত্বে তারেক রহমান। তাই নেতাকে দেখতে এসেছি। এই বয়সে তারেক রহমানকে সরাসরি দেখতে সিলেটে আসা।
“সকালে আসতে দেরি হতে পারে, তাই এলাকার ৪০ জনের বহরের সঙ্গে বুধবার বিকালে রওনা দিই। আসতে রাত ১০টা হয়েছে। তাই এসে দরগাতে যাইনি, আগে আসলে মাজারে যেতাম লিডারকে দেখতে।”
আলিয়া মাঠে থাকা ধর্মপাশা উপজেলা সদরের বাসিন্দা হামিদ মিয়া (৫০) রাতে বলেন, “ধর্মপাশার নেতাকর্মীরা বুধবারই চলে এসেছেন। আমরা রাতে মাঠেই থাকছি।
“আমাদের নেত্রী মারা যাওয়ার পর দলের চেয়ারম্যানের প্রথম সিলেট সফর, তাই দলের চেয়ারম্যানকে দেখতে এসেছি। এর আগে তারেক রহমানকে সরাসরি দেখিনি, কালকে সকালে মাঠে দেখা পাবে। দোয়া করবেন আমাদের চেয়ারম্যানের জন্য।”
বৃহস্পতিবার রাত একটার দিকে জনসভা মাঠে গিয়ে দেখা যায়, নেতাকর্মীদের পদচারণায় মুখরিত মাঠ প্রাঙ্গণ। মাঠে আসা নেতাকর্মীদের কেউ গল্প করছেন, কেউ চা খাচ্ছেন; কেউবা দাঁড়িয়ে আছেন বিএনপির লোগো সম্বলিত কোট-পিন কেনার জন্য। কেউ কেউ আবার তারেক রহমানের নামে স্লোগান দিচ্ছেন। হই-হুল্লুরে মুখরিত চারপাশ। মাঠে থাকা নেতাকর্মীরা নিজ মোবাইল দিয়ে মঞ্চের পাশে ছবি তুলেও ব্যস্ত সময় পার করছেন। জনসভার জন্য প্রস্তুত রয়েছে মঞ্চটি।