শনিবার ০৬ জুন ২০২৬, জ্যৈষ্ঠ ২৩ ১৪৩৩

ব্রেকিং

বিভাজন নয়, ‘উদার গণতন্ত্র’ প্রতিষ্ঠা করতে চাই: ফখরুল আইভীর বাড়ির সামনে পুলিশের নজরদারি, সিসি ক্যামেরা স্থাপন সব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হবে ১০১ শয্যার সিরাজগঞ্জে বাড়ছে যমুনার পানি, নদীতীরে ভাঙন আতঙ্ক নিম্ন আয়ের মানুষের বিদ্যুতের খরচ বাড়ছে না আদ-দ্বীনে ৬ শিশুর মৃত্যু: হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ‘অবহেলা’ ছিল, বলছে তদন্ত কমিটি অবসরভাতা বঞ্চিত শিক্ষকদের ভাতা চালু করবে সরকার: শিক্ষামন্ত্রী রামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা মামলার রায় ৭ জুন হাম: আরও ৪ শিশুর মৃত্যু, শনাক্ত ৬৯ ৩৮ ডিগ্রিতে পারদ, দিনাজপুরে তাপদাহে শ্রমজীবী মানুষের দুর্ভোগ হাদি হত্যাকাণ্ড নিয়ে বক্তব্যের পর মমতার বিরুদ্ধে মামলা ফোনালাপে নেতানিয়াহুকে ‘উন্মাদ’ বলার কথা স্বীকার করলেন ট্রাম্প

ইসলাম

ইসলাম কী বলে: ঋণ শোধের জন্য আত্মহত্যা বা অনাচারে জড়ানো

 প্রকাশিত: ০৮:২৩, ৬ জুন ২০২৬

ইসলাম কী বলে: ঋণ শোধের জন্য আত্মহত্যা বা অনাচারে জড়ানো

যদি কোনো নারী পুরুষ অভিভাবকহীন অবস্থায় এমন ঋণ ও সংকটে পড়ে যান যে তার সামনে আত্মহত্যা বা পতিতাবৃত্তি—এই দুইটি পথই খোলা মনে হয়, তাহলে ইসলামের দৃষ্টিতে এ দুটোর কোনোটিই বৈধ নয়। ইসলাম মানুষের কষ্ট, দারিদ্র্য ও অসহায়ত্বকে বিবেচনা করে; কিন্তু হারামকে হালাল করে দেয় না। বরং এমন অবস্থায় ধৈর্য, তাওবা, দোয়া, হালাল উপার্জনের চেষ্টা এবং মানুষের সাহায্য গ্রহণের নির্দেশ দেয়।

আত্মহত্যা সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তোমরা নিজেদের হত্যা করো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের প্রতি অত্যন্ত দয়ালু।’ (সুরা নিসা, আয়াত : ২৯)

আর ব্যভিচার ও পতিতাবৃত্তি সম্পর্কে আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা ব্যভিচারের কাছেও যেয়ো না। নিশ্চয়ই তা অশ্লীলতা ও অত্যন্ত নিকৃষ্ট পথ।’ (সুরা ইসরা/বনি ইসরাইল, আয়াত : ৩২)

এছাড়া কোরআনে বিশেষভাবে নারীদের পতিতাবৃত্তিতে বাধ্য করতে নিষেধ করা হয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তোমরা তোমাদের নারীদের পতিতাবৃত্তিতে বাধ্য করো না।’ (সুরা নূর, আয়াত : ৩৩)

অতএব, কোনো মা যদি ঋণ শোধের জন্য নিজের মেয়েকেও এ কাজে বাধ্য করতে চান, তাহলে তা হারাম, জুলুম এবং মারাত্মক গুনাহ। মেয়ের জন্য এ আদেশ মানা বৈধ নয়। কারণ ইসলামে আল্লাহর অবাধ্যতার কাজে কারো আনুগত্য করা যায় না। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘অসত্ কাজে আনুগত্য নয়; আনুগত্য কেবলমাত্র সত্কাজের ক্ষেত্রেই হতে হবে।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৭১৪৫)

তাই কন্যা সন্তানের করণীয় হলো—

এ কাজ দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করা, নিরাপদ কোনো আত্মীয়, আলেম, বিশ্বস্ত ব্যক্তি বা সহায়তাকারী প্রতিষ্ঠানের সাহায্য নেওয়া, নিজেকে নিরাপদ পরিবেশে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা, হালাল উপায়ে জীবিকা অর্জনের পথ খোঁজা। আর যদি কোনো মেয়ে ইতিমধ্যে এ কাজে জড়িয়ে পড়ে থাকে, তাহলে তার জন্য আল্লাহর রহমতের দরজা বন্ধ নয়। সে অবিলম্বে এ কাজ ছেড়ে দেবে, আন্তরিকভাবে তাওবা করবে, হারাম সম্পর্ক ছিন্ন করবে এবং হালাল জীবিকার দিকে ফিরে আসবে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘বলুন, হে আমার বান্দারা, যারা নিজেদের উপর জুলুম করেছ, তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না।’ (সুরা জুমার, আয়াত : ৫৩)

ইসলাম মানুষকে হতাশ হতে শেখায় না। যত কঠিন পরিস্থিতিই হোক, হারাম পথের পরিবর্তে হালাল পথ খোঁজার চেষ্টা করতে হবে এবং আল্লাহর রহমতের ওপর ভরসা রাখতে হবে।