ভূমিধসে নিখোঁজদের খোঁজে ইন্দোনেশিয়ায় উদ্ধার তৎপরতা
ভয়াবহ ভূমিধসে নিখোঁজ প্রায় ৮০ জনের সন্ধানে রোববার আবারও উদ্ধার অভিযান শুরু করেছে ইন্দোনেশিয়ার উদ্ধারকারীরা।
বৈরী আবহাওয়ার কারণে রাতভর অভিযান স্থগিত রাখতে হয়েছিল বলে জানিয়েছেন মিশন সমন্বয়কারী।টানা ভারী বৃষ্টির ফলে সৃষ্ট ভূমিধসটি শনিবার ভোরে জাভা দ্বীপের পশ্চিম বান্দুং অঞ্চলের একাধিক গ্রামে আঘাত হানে।
এতে আবাসিক এলাকা মাটিচাপা পড়ে ও বহু মানুষকে ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ স্থানে সরে যেতে বাধ্য করে।
খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।
শনিবার স্থানীয় অনুসন্ধান ও উদ্ধার সংস্থা নিশ্চিত করেছে যে এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত অন্তত নয় জন প্রাণ হারিয়েছে এবং প্রায় ৮০ জন এখনও নিখোঁজ রয়েছে।
তবে হতাহত ও নিখোঁজের সংখ্যা সাময়িক বলে সতর্ক করা হয়েছে।
মিশন সমন্বয়কারী আদে দিয়ান পারমানা এক বিবৃতিতে জানান, টানা বৃষ্টির কারণে রাতের বেলা উদ্ধার কার্যক্রম বন্ধ রাখতে হয়।
তবে রোববার সকালে বৃষ্টি কমে গেলে পুনরায় অভিযান শুরু হয় বলে এএফপি’র প্রতিবেদকরা জানান।
সেনাবাহিনী, পুলিশ ও স্বেচ্ছাসেবকদের সহায়তায় উদ্ধার কর্মীরা এখন মূলত হাতে খনন কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
জাতীয় উদ্ধার সংস্থার তথ্যমতে, নিখোঁজদের খোঁজে ড্রোন ও প্রশিক্ষিত কুকুর ইউনিটও মোতায়েন করা হয়েছে।শনিবার পশ্চিম বান্দুংয়ের মেয়র সতর্ক করে বলেন, দুর্গম ভূপ্রকৃতি ও অস্থিতিশীল মাটির কারণে উদ্ধার কাজ অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
প্রসঙ্গত, অক্টোবর থেকে মার্চ পর্যন্ত চলা বর্ষা মৌসুমে ইন্দোনেশিয়ার বিস্তীর্ণ দ্বীপপুঞ্জজুড়ে বন্যা ও ভূমিধস একটি নিয়মিত ঘটনা।
গত বছরের শেষ দিকে ঘূর্ণিঝড় ও তীব্র মৌসুমি বৃষ্টিতে সুমাত্রা দ্বীপে সংঘটিত বন্যা ও ভূমিধসে প্রায় ১ হাজার ২০০ মানুষ প্রাণ হারিয়েছে এবং ২ লাখ ৪০ হাজারের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছিল বলে সরকারি হিসাবে জানা গেছে।
পরিবেশবাদী, বিশেষজ্ঞ ও সরকার মনে করছে, বন উজাড়ের ফলে কাদা ও ধ্বংসাবশেষের স্রোত গ্রামগুলোতে ঢুকে পড়ে এসব বন্যা ও ভূমিধসের তীব্রতা বাড়িয়েছে।
সুমাত্রার ওই বন্যার পর সরকার ছয়টি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ২০ কোটি মার্কিন ডলারের বেশি ক্ষতিপূরণ দাবি করে একাধিক মামলা দায়ের করে।
চলতি মাসে ইন্দোনেশিয়ার সিয়াউ দ্বীপে টানা ভারী বৃষ্টির ফলে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যায় অন্তত ১৬ জনের মৃত্যু হয়।