ময়মনসিংহ মেডিকেলে হাম উপসর্গ নিয়ে একদিনে ৪ শিশুর মৃত্যু
হামের উপসর্গ নিয়ে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে একদিনে আরও চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে। মারা যাওয়া শিশুদের বয়স আট মাসের মধ্যে। এ নিয়ে হাসপাতালটিতে রোগটির লক্ষণ নিয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৮।
শনিবার সকালে হাসপাতাল থেকে পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সিনিয়র স্টোর অফিসার ডা. ঝন্টু সরকার এসব তথ্য জানান।
বিজ্ঞপ্তিতে জানান হয়, নিহত চার শিশুর মধ্যে দুই শিশু ময়মনসিংহের বাসিন্দা। তার মধ্যে হালুয়াঘাটের শাপলা বাজার এলাকার চারমাস বয়সী শিশুকে ১৮ জুন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল; শুক্রবার দুপুরে তার মৃত্যু হয়। অপরদিকে ফুলপুর উপজেলার পলাশকান্দা এলাকার বাসিন্দা তিনমাস বয়সী শিশুকে শুক্রবার সকালে ভর্তি করলে সন্ধ্যার দিকে মারা যায়।
অপর দুই শিশুর একজন নেত্রকোনার কলমাকান্দার মাইশাচর গ্রামের চারমাস বয়সী। তাকে ১৬ জুন ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার মারা যায়। অপর আটমাস বয়সী শিশু সুনামগঞ্জের সদর উপজেলার বাসিন্দা।তাকে গত ৮ জুন ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার সকালে শিশুটি মারা যায়।
বিজ্ঞপ্তিতে জানান হয়, শুক্রবার সকাল থেকে শনিবার সকাল পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১৬ শিশু। এ সময় সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ৯ শিশু। ৬৪ শয্যার হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি রয়েছে ৯৪ শিশু।
গত ১৭ মার্চ থেকে শনিবার সকাল পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ২ হাজার ৩৭৮ শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ২ হাজার ২২৬ শিশু।
এদিকে একের পর এক শিশুর মৃত্যুতে হাসপাতালের হাম আইসোলেশন ওয়ার্ড জুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। ভর্তি এক শিশুর স্বজন শাহনাজ পারভীন বলেন, “প্রতিদিন কান্নার আওয়াজে কানভারী হয়ে আসছে। আমার সন্তানও এক সপ্তাহ ধরে ভর্তি। জানি না কি হয়, আল্লাহর কাছে দোয়া করি সেসহ সব শিশু যেন দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠে।”
শিশু বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডের ফোকাল পারসন ডা. গোলাম মাওলা বলেন, “মারা যাওয়া শিশুরা হামের পাশাপাশি অন্যান্য রোগেও আক্রান্ত ছিল। এই শিশুদের বেশির ভাগ দেখা যায় জন্মের পর তারা মায়ের দুধ খেতে পায়নি। তাই তাদের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতাও কম ছিল।”