কুমিল্লা বোর্ডের ৮ কলেজে কোনো এইচএসসি পরীক্ষার্থী নেই
আসন্ন উচ্চ মাধ্যমিক (এইচএসসি) পরীক্ষায় কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের আটটি কলেজ থেকে কেউ অংশ নিচ্ছে না। এর মধ্যে চারটি কলেজে কোনো শিক্ষার্থীই পরীক্ষার রেজিস্ট্রেশন করেনি। অন্য চার কলেজে ৩৫ শিক্ষার্থী রেজিস্ট্রেশন করলেও নির্বাচনি পরীক্ষার বৈতরণী পার হতে পারেনি একজনও।
চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে আগামী ২ জুলাই। এ পরীক্ষার জন্য শিক্ষার্থীদের রেজিস্ট্রেশন প্রথম বর্ষেই সম্পন্ন হয়েছিল, আর ‘ফরম ফিলাপের’ নির্ধারিত শেষ সময় ছিল ১০ জুন।
সেই সময়সীমা পার হবার পর পরীক্ষার্থী না থাকা আটটি কলেজের তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন কুমিল্লা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (উচ্চ মাধ্যমিক) মো. সালাহউদ্দিন।
তিনি বলেন, এ বছর কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ছয় জেলায় মোট ৪৬৪টি প্রতিষ্ঠান থেকে ৯৪ হাজার ৮০২ জন শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করছে।
“এর মধ্যে আমরা আটটি প্রতিষ্ঠানকে পেয়েছি যাদের কলেজের স্বীকৃতি ছিল কিন্তু তাদের কোনো পরীক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারছে না। এর মধ্যে চারটি কলেজ রয়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার, তিনটি কুমিল্লা জেলায় ও একটি ফেনী জেলায়।”
কলেজগুলো হল- কুমিল্লা জেলার বেগম জহুরা মহিলা কলেজ, ষাইটশালা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজ, সিসিএন মডেল কলেজ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সাতগাঁও আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজ, কৃষ্ণনগর আব্দুল জব্বার স্কুল অ্যান্ড কলেজ, তিতাস মডেল কলেজ এবং উলুকান্দি কলেজ এবং ফেনী জেলার নোবেল কলেজ।
কুমিল্লা ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার ষাইটশালা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ শিবু চন্দ্র সরকার বলেন, “২০১২ সাল থেকে প্রতিষ্ঠানটিতে কলেজ শাখা চালু আছে। এ বছরই প্রথম এই কলেজ থেকে কোনো শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে না। ”
তিনি বলেন, “বিগত কিছু বছর যাবতই শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমে আসছে। এ বছর যে ১০ জন এইচএসসিতে ভর্তি হয়েছিল তারাও চূড়ান্ত পরীক্ষার জন্য উত্তীর্ণ হতে পারেনি। এছাড়া প্রতিষ্ঠানে আর্থিক সংকট ও শিক্ষক সংকটের কারণে নতুন শিক্ষার্থী ভর্তির বিষয়েও এবার তোড়জোড় করা যায়নি।”
এছাড়া কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের সূত্রে জানা গেছে, গতবছর শূন্য থেকে পাঁচ শতাংশ পাশের হারের কারণে এই বোর্ডের ১৩টি প্রতিষ্ঠানের কলেজ স্বীকৃতি বাতিল করা হয়, ফলে সেসব প্রতিষ্ঠান থেকে শিক্ষার্থীরা এবার অংশ নিতে পারলেও আগামী বছর পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবে না।
কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান প্রফেসর জামাল নাসের মনে করেন, যেসব প্রতিষ্ঠানে উচ্চ বিদ্যালয় রয়েছে সেগুলোকে কলেজে উত্তীর্ণ করার কোনো প্রয়োজন নেই। সঠিকভাবে পরিচালনা না করা গেলে কলেজ চালাতে গিয়ে উচ্চ মাধ্যমিক শাখা ও আর্থিক সংকট এবং সুনামের ক্ষতির মুখোমুখি হয়। এতে অনেক ভালো প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী সংখ্যা কমে আসে।
“তার চেয়ে বরং যারাই মহৎ উদ্দেশ্যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠিত করতে চান তারা যদি আলাদা করে কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন এবং সেটি দায়িত্বশীলভাবে পরিচালনা করেন তাহলে এই দুর্ভাগা পরিণতিতে কাউকে পড়তে হবে না।”
কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, “কোন কোন কলেজ থেকে শূন্য পরীক্ষার্থী এবং কেন সেসব কলেজ থেকে কোনো শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারলো না এই বিষয়গুলো আমরা বিস্তারিত খতিয়ে দেখার চেষ্টা করবো।
“সেসব প্রতিষ্ঠানগুলের মানোন্নয়ন বা তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়ার পদ্ধতি আছে কি না সেটিও আমরা পর্যালোচনা করব।”
এবারও মেয়ে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি
কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে আছে ছয়টি জেলা। সেগুলো হল কুমিল্লা, নোয়াখালী, ফেনী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, চাঁদপুর ও লক্ষ্মীপুর। এসব জেলা থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় বসবেন ৯৪ হাজার ৮০২ জন।
তাদের মধ্যে মেয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৫৭ হাজার ১৯৬ জন এবং ছেলে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ৩৭ হাজার ৬০৬ জন। অর্থাৎ মেয়ে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ১৯ হাজার ৫৯০ জন বেশি।
উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (উচ্চ মাধ্যমিক) মো. সালাহউদ্দিন বলেন, “এবছরও মেয়ে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ২০ হাজার বেশি। মেয়েদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়া যেমনি নারী শিক্ষায় একটি ইতিবাচক দিক, তেমনি ছেলেদের সংখ্যা তুলনামূলক কম হওয়া- তার কারণ ও খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে।”