বৃহস্পতিবার ১১ জুন ২০২৬, জ্যৈষ্ঠ ২৮ ১৪৩৩

ব্রেকিং

বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের আবার হারিয়ে ঐতিহাসিক সিরিজ জয় সামাজিক সুরক্ষায় বরাদ্দ বাড়ছে ১৩% পোশাক খাতসহ দেশি শিল্প ‘সুরক্ষায়’ কর ছাড় ঘাটতি মেটাতে নিট বিদেশি ঋণ দ্বিগুণ করার লক্ষ্য বাজেট ‘ব্যবসায়বান্ধব’, কার্যকর বাস্তবায়ন জরুরি: ডিসিসিআই ব্যাংক হিসাবে ৪ লাখ টাকা হলে আবগারি শুল্ক ‘সৃজনশীল অর্থনীতি’ উন্নয়নে ৩০০ কোটি টাকা বরাদ্দ স্থিতিশীলতায় ফেরার বাজেটে ব্যয় বাড়ল ১৯% ছয় শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল মন্ত্রিসভায় বাজেট অনুমোদন কল্যাণ রাষ্ট্রের ভিত্তি দেওয়াই বাজেটের লক্ষ্য: অর্থমন্ত্রী গাইবান্ধায় বিএনপি-জামায়াত ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, ককটেল বিস্ফোরণ বাংলাদেশের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজ বাতিল করল অস্ট্রেলিয়া টানা ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষে আজ মধ্যরাতে সাগরে নামবেন জেলেরা বান্দরবান সদর হাসপাতালে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে ২ শ্রমিকের মৃত্যু

জাতীয়

ঘাটতি মেটাতে নিট বিদেশি ঋণ দ্বিগুণ করার লক্ষ্য

 প্রকাশিত: ২১:১১, ১১ জুন ২০২৬

ঘাটতি মেটাতে নিট বিদেশি ঋণ দ্বিগুণ করার লক্ষ্য

নতুন অর্থবছরে আয়-ব্যয়ের ঘাটতি মেটাতে বিদেশি উৎস থেকে ঋণ বাড়ানোর লক্ষ্য ঠিক করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

যে পরিকল্পনা ধরে তিনি বাজেট সাজিয়েছেন, তাতে নিট বিদেশি ঋণের পরিমাণ দাঁড়াবে গত অর্থবছরে পাওয়া নিট বিদেশি ঋণের প্রায় দ্বিগুণ।

বৃহস্পতিবার বিকালে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

এই ব্যয়ের মধ্যে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব বাবদে আয় করা যাবে বলে তিনি আশা করছেন।

সে হিসাবে আয় ও ব্যয়ের সামগ্রিক ঘাটতি থাকছে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা, যা মোট জিডিপির ৩.৬ শতাংশের সমান।

এই ঘাটতি মেটাতে তিনি বিদেশ থেকে ১ লাখ ৫৫ হাজার ৮৫০ কোটি টাকা ঋণ করবেন, যা জিডিপির ২ দশমিক ২৮ শতাংশ।

অর্থাৎ সংকটের এই সময়ে মোট ঘাটতির ৬৪ দশমিক ১৩ শতাংশই বিদেশি ঋণ দিয়ে পূরণের আশা করছে নতুন সরকার।

এর মধ্যে ৪৬ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হবে আগে নেওয়া ঋণের কিস্তি আর সুদ পরিশোধে। তাতে নিট বিদেশি ঋণের পরিমাণ দাঁড়াবে ১ লাখ ৯ হাজার ৮৫০ কোটি টাকা, যা বিদায়ী অর্থবছরের সংশোধিত নিট বিদেশি ঋণের চেয়ে ৮৯.৪ শতাংশ বেশি।

বিদায়ী অর্থবছরের বাজেটে বৈদেশিক ঋণ খাতে ধরা হয়েছিল ১ লাখ ৩৫ হাজার কোটি টাকা। সংশোধনের পর যা কমে দাঁড়ায় ৯৫ হাজার কোটি টাকা। আর কিস্তি ও সুদ মিটিয়ে নিট বিদেশি ঋণ ছিল ৫৮ হাজার কোটি টাকা।

বাজেট বক্তৃতার ভূমিকাতে অর্থমন্ত্রী বলেন, “অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, বিনিয়োগ, উৎপাদন, কর্মসংস্থান এবং বৈষম্যহীন সমাজ বিনির্মানকে প্রাধান বিবেচ্য বিষয় হিসেবে রেখে বাজেট বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে। অর্থনৈতিক গণতন্ত্রায়নের মাধ্যমে জনগণের আর্থিক পুনরুদ্ধার ও কল্যাণ নিশ্চিত করে ২০৩৪ সালের মধ্যে ১ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত করার লক্ষে স্থিতিশীল অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিই এই বাজেটের মূল দর্শন।

“মধ্যমেয়াদে রাজস্ব আদায়ে গতি বৃদ্ধির মাধ্যমে বাজেট ঘাটতিকে সহনীয় পর্যায়ে রেখে ঋণ ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে এনে মাঝারি ঝুঁকি থেকে নিম্ন ঝুঁকির ক্রেডিট রেটিংয়ে ফিরিয়ে আনা হবে। ঋণনির্ভর প্রবৃদ্ধি থেকে সরে এসে উৎপাদন, কর্মসংস্থান এবং বেসরকারি বিনিয়োগ-কেন্দ্রিক একটি অর্থনীতি গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

“এবার বাজেট ঘাটতি জিডিপির ৩ দশমিক ৬ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে; যা ঋণ ঝুঁকি সহনীয় পর্যায়ে রাখতে সহায়ক হবে।”

অর্থমন্ত্রী এবার অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা ধার করে বাকি ঘাটতি পূরণের লক্ষ্য ঠিক করেছেন।

এর মধ্যে ব্যাংক খাত থেকে সরকার নিতে চায় ১ লাখ ১৮ হাজার কোটি টাকা, যা জিডিপির ১ দশমিক ৭৩ শতাংশ। এছাড়া সঞ্চয়পত্র থেকে ৮ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ও নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে সরকার ১৫ হাজার কোটি টাকা নেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরের মূল বাজেটে অভ্যন্তরীণ ঋণের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকা। সংশোধন করে তা বাড়িয়ে ধরা হয় ১ লাখ ৩৭ হাজার কোটি টাকা।

এর মধ্যে ব্যাংক খাত থেকে ১ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা ধরা হয়, যা সংশোধনের পর বেড়ে ১ লাখ ১৮ হাজার কোটি টাকা।