প্রায় ৩০ বিলিয়ন ডলারের রিজার্ভ নিয়ে বিএনপি সরকারের যাত্রা
দুই দশকের চড়াই-উতরাই পেরিয়ে বিএনপি যখন দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নিয়েছে, তখন বাংলাদেশ ব্যাংকের বিদেশি মুদ্রার ভাণ্ডারে রয়েছে ২৯ দশমিক ৮৫ বিলিয়ন ডলার।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) নির্ধারিত বিপিএম৬ পদ্ধতি অনুসারে মঙ্গলবার এ সঞ্চিতি দাঁড়ায়।
সেদিনই জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের কাছ থেকে শপথ নেন নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যরা।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের ক্ষমতাচ্যুতির সময় বাংলাদেশ ব্যাংকে রিজার্ভ ছিল ২০ দশমিক ৪৮ বিলিয়ন ডলার।
অর্থনীতির টালমাটাল অবস্থার মধ্যে দায়িত্ব নেওয়া অন্তর্বর্তী সরকার গেল দেড় বছরে বিভিন্ন সংস্কারমূলক পদক্ষেপের মাধ্যমে বিদেশি মুদ্রার বিনিময় হারে স্থিতিশীলতা আনে।
সেই সঙ্গে রেমিটেন্স প্রবাহ ধীরে ধীরে বেড়ে যাওয়ায় রিজার্ভ বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হয়। বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ডলার কেনার কারণেও বেড়েছে সঞ্চিতি।
তাছাড়া অর্থপাচার রোধে নানমুখী তৎপরতার কারণে বিদেশি মুদ্রার ভাণ্ডার বৃদ্ধি সহজ হয়েছে। ফলে অন্তর্বর্তী সরকার প্রায় ৩০ বিলিয়ন ডলারের সঞ্চিতি রেখে যেতে পেরেছে, যা ‘গ্রস’ হিসাবে ৩৪ দশমিক ৫৩ বিলিয়ন ডলার।
বিদেশি মুদ্রার এই সঞ্চিতি গেল ৩৯ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। এর আগে ২০২২ সালের নভেম্বর মাস শেষে রিজার্ভ ছিল ৩৫ দশমিক ৮০ বিলিয়ন ডলার। একসপ্তাহ বাদেই ৭ ডিসেম্বর তা নেমে হয় ৩৩ দশমিক ৯২ বিলিয়ন ডলার। এরপর থেকে রিজার্ভ কমতে থাকে।
আর ২০২১ সালের অগাস্টে দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ৪৮ বিলিয়ন ডলার রিজার্ভ ছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংকের।
আন্তঃব্যাংকে তখন প্রতি ডলারের দর ছিল ৮৪ টাকা ২০ পয়সা; সবশেষ এ হারের পরিমাণ ১২২ টাকা ৫০ পয়সা।