মায়ের মন্ত্রীদের মধ্যে যাদের নিজের সরকারে নিলেন তারেক
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে দুই দশক পর রাষ্ট্রক্ষমতায় ফিরল বিএনপি। প্রথমবার সরকার পরিচালনার দায়িত্বে এসে বেশির ভাগ নতুনদের নিয়ে পথ চলার পরিকল্পনা করেছেন তিনি, যা দৃশ্যমান তার মন্ত্রিসভার তালিকাতে। তবে অভিজ্ঞদেরও সঙ্গী হিসেবে রেখেছেন তিনি।
ম্ঙ্গলবার সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় শপথ নিয়েছেন নতুন প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীরা। নতুন-পুরোনোদের মিশেলে কেমন হল তারেক রহমানের মন্ত্রিসভা তা নিয়ে আলোচনা এখন সর্বত্র।
নতুন সরকারে মন্ত্রী ২৫ জন। তাদের মধ্যে ৯ জন এর আগের বিএনপির তিন সরকারের আমলে মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী হিসেবে তার মা খালেদা জিয়ার সরকারে দায়িত্ব পালন করেছেন। বাকি ১৬ জন এবারই প্রথম মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন।
অপরদিকে নতুন সরকারে আসা ২৪ জন প্রতিমন্ত্রীই প্রথমবারের মত এ দায়িত্ব পেলেন।
পুরোনো মন্ত্রীদের মধ্যে রয়েছেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু ও হাফিজ উদ্দিন আহমদ, ভাইস চেয়ারম্যান কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ ও নিতাই রায় চৌধুরী, আসাদুল হাবিব দুলু এবং আন্তজার্তিক বিষয়ক সম্পাদক আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
এরা সবাই তারেক রহমানের মা খালেদা জিয়ার আগের সরকারে মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
মির্জা ফখরুল ২০০১ সালে প্রথম ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। একই বছরে খালেদা জিয়ার দ্বিতীয় মন্ত্রীসভায় প্রথমে কৃষি প্রতিমন্ত্রী এবং পরে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।
আরেক জ্যেষ্ঠ নেতা আমীর খসরু ২০০১ সালে চট্টগ্রাম-৮ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ওই বছরে খালেদা জিয়ার মন্ত্রিসভায় বাণিজ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন তিনি।
এবার মন্ত্রী হওয়ার আগে সালাহউদ্দিন আহমদ ২০০১ সালে যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান। পরে তিনি মন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন একই দপ্তরে। কক্সবাজার-১ আসন থেকে ২০০১ সালে তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়।
এবার পূর্ণমন্ত্রীর দায়িত্ব পাওয়া সিরাজগঞ্জ থেকে নির্বাচিত তিনবারের সংসদ সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত খালেদা জিয়ার মন্ত্রিসভায় বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। ২০০১ সালে সিরাজগঞ্জ-২ আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী হয়ে জয়ী হয়েছিলেন।
সেনাবাহিনী থেকে অবসর গ্রহণের পর হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বীক্রম রাজনীতিতে সক্রিয় হন। তিনি ভোলা-৩ আসন থেকে এ পর্যন্ত সাতবার জাতীয় সংসদের সদস্য নির্বাচিত হন। এর আগে তিনি সরকারে পানিসম্পদ, বাণিজ্য ও পাটমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতাদের মধ্যে কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ এর আগে এরশাদ ও খালেদা জিয়ার সরকারে প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। জাতীয় পার্টির মনোনয়ন নিয়ে ১৯৮৬ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৯০ সালের ২ মে থেকে ৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত তিনি ধর্ম প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। ২০০১ সালে তিনি বিএনপির মনোনয়ন নিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরে ২০০২ থেকে একবছর পুনরায় ধর্মপ্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
পুরনো মন্ত্রীদের মধ্যে নিতাই রায় চৌধুরী ১৯৮৮ সালে মাগুরা-২ আসন থেকে জাতীয় পার্টির মনোনয়নে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। দায়িত্ব পালন করেন মন্ত্রীর মর্যাদায় মাগুরা জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে।
এরপর তিনি ১৯৯০ সালের ২ মে থেকে ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী এবং এরপর থেকে ওই বছর ৬ ডিসেম্বর এরশাদ সরকার পতনের আগ পর্যন্ত যুব ও ক্রীড়ামন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
খালেদা জিয়া সরকারের আরেক মন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন এবার তারেকের মন্ত্রিসভাতেও জায়গা পেয়েছেন। চাঁদপুর-১ আসন থেকে মোট তিনবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিন। ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারে তিনি শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সেই সময়ে তিনি পরীক্ষার হলে নকল মুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে দেশব্যাপী ব্যাপক অভিযান শুরু করেন। এতে সফল হলে আলোচনায় আসেন তিনি।
আসাদুল হাবিব দুলু যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের সাবেক উপমন্ত্রী এবং লালমনিরহাট সদরের প্রাক্তন সংসদ সদস্য। তিনি ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত খাদ্য ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা উপমন্ত্রী ছিলেন।