শনিবার ৩১ জানুয়ারি ২০২৬, মাঘ ১৮ ১৪৩২, ১২ শা'বান ১৪৪৭

আন্তর্জাতিক

সামরিক পদক্ষেপের মুখোমুখি নয়, চুক্তি করতে চায় ইরান: ট্রাম্প

 আপডেট: ১২:০০, ৩১ জানুয়ারি ২০২৬

সামরিক পদক্ষেপের মুখোমুখি নয়, চুক্তি করতে চায় ইরান: ট্রাম্প

ইরান সামরিক পদক্ষেপের মুখোমুখি হওয়ার পরিবর্তে চুক্তি করতে চায় বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প।

তেহরান তাদের ক্ষেপণাস্ত্র ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাপনা নিয়ে কখনোই ‘দরকষাকষি’ হবে না বলে জোর গলায় বলছে, তার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের এ ভাষ্য এল, বলছে বিবিসি।

“আমি বলতে পারি, তারা চুক্তি করতে চায়,” শুক্রবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সমরশক্তির ব্যাপক উপস্থিতি নিয়ে করা প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প এ কথা বলেন। তবে ইরান যে সত্যিই চুক্তি করতে চায় তার সমর্থনে কোনো তথ্যপ্রমাণ দেননি তিনি।

মার্কিন নৌবাহিনীর বড় একটি বহর শিয়া সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশটির আশপাশে পৌঁছানোর পর রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট বুধবার তেহরানকে সতর্ক করে বলেছিলেন, পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে চুক্তি করতে ইরানের ‘সময় ফুরিয়ে আসছে’।

অন্যদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এখন আলোচনার কোনো পরিকল্পনা নেই। তবে তেহরান ‘পারস্পরিক সম্মান’ ও বিশ্বাসের ভিত্তিতে আলোচনার জন্য প্রস্তুত।

শুক্রবার ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ক সর্বোচ্চ পরিষদের প্রধান আলি লারিজানি রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে দেখা করেছেন বলে জানিয়েছে ক্রেমলিন।

তারা দুইজন ‘মধ্যপ্রাচ্য ও আন্তর্জাতিক ইস্যুসহ’ নানান বিষয়ে কথা বলেছেন বলে জানিয়েছে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা রিয়া-নভোস্তি।

ইরান বলছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরিই শান্তিপূর্ণ। তেহরান পারমাণবিক অস্ত্র বানাতে চাইছে বলে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের অভিযোগও প্রত্যাখ্যান করে আসছে তারা।

চুক্তি করতে তেহরানকে কোনো সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে শুক্রবার ট্রাম্প বলেন, “এটি কেবল তারাই জানে।

“আশা করছি একটি চুক্তি করতে পারবো। যদি ‍চুক্তি করতে পারি তাহলে ভালো। আর যদি না করতে পারি, তাহলে দেখা যাক কী হয়।”

বিশাল একটি ‘নৌবহর’ উপসাগরীয় অঞ্চলের দিকে যাচ্ছে বলেও জানান মার্কিন এ প্রেসিডেন্ট। এ বহর কবে নাগাদ সরতে পারে সে বিষয়ে কিছু বলতে রাজি হননি তিনি।

“দেখা যাক কী করা যায়। তাদের (নৌযান) তো কোথাও না কোথাও থাকতেই হবে, এ কারণেই তারা এখন ইরানের কাছাকাছি আছে,” বলেছেন তিনি।

এর কিছুক্ষণ আগে ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরগচি বলেন, তার দেশের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাপনা ‘কখনোই’ দরকষাকষির টেবিলে উঠবে না। তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি যে শান্তিপূর্ণ তাও পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।

মার্কিন সামরিক পদক্ষেপ এড়াতে ইস্তাম্বুলে বৈঠকের পর তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে করা সংবাদ সম্মেলনে আরাগচি বলেন, ‘ন্যায্য ও সুষ্ঠু আলোচনার জন্য’ প্রস্তুতি দরকার।

চলতি মাসের শুরুর দিকে ট্রাম্প ইরানে সরকারি দমনপীড়নের শিকার বিক্ষোভকারীদের সহায়তায় শিয়া সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশটিতে হস্তক্ষেপের অঙ্গীকার করেছিলেন। তবে বুধবার তিনি ইরানকে ‘পারমাণবিক চুক্তি’ করতে তাগাদা দেন, না হলে তেহরানকে হামলার মুখোমুখি হতে হবে বলে সাবধানও করেন।

এর আগে তিনি ইরানি বিক্ষোভকারীদের আশ্বস্ত করে বলেছিলেন, সাহায্য ‘পথে রয়েছে’। পরে ট্রাম্প জানান, ইরান বিক্ষোভকারীদের মৃত্যুদণ্ড স্থগিত করেছে বলে তাকে জানানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার মার্কিন এ প্রেসিডেন্ট বলেন, তিনি সামরিক পদক্ষেপ এড়াতে ইরানকে দুটো জিনিস করতে বলেছেন।

“এক নম্বর, কোনো পারমাণবিক (অস্ত্র) নয়। আর দুই, বিক্ষোভকারীদের হত্যা বন্ধ করা,” বলেন ট্রাম্প।

এদিকে পশ্চিমা মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলো ইরানে বিক্ষোভে নিহতের সংখ্যা প্রতিদিনই বাড়াচ্ছে। সপ্তাহখানেক আগেও তারা ডিসেম্বরের শেষ দিক থেকে শুরু হওয়া দুই সপ্তাহের বিক্ষোভে ইরানে হাজার পাঁচেক মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা দিলেও এখন সেই সংখ্যা ২৫ হাজারের কাছাকাছি পৌঁছে গেছে।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্টস নিউজ এজেন্সি (এইচআরএএনএ) বলেছে, তারা ইরানে ৫ হাজার ৯০০ বিক্ষোভকারীসহ ৬ হাজার ৩০০-র বেশি মানুষের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হতে পেরেছে। আরও ১৭ হাজার মৃত্যুর খবর খতিয়ে দেখছে তারা। দেশটিতে প্রায় তিন সপ্তাহ ইন্টারনেট বন্ধ থাকার পরও এসব মৃত্যুর খবর পেয়েছে তারা।

নরওয়েভিত্তিক ইরান হিউম্যান রাইটস বলছে, ইরানে বিক্ষোভে মোট মৃত্যু ২৫ হাজার ছাড়াতে পারে বলে তাদের আশঙ্কা।