বৃহস্পতিবার ১২ মার্চ ২০২৬, ফাল্গুন ২৮ ১৪৩২, ২৩ রমজান ১৪৪৭

ইসলাম

মক্কা ও মদিনায় হাজারো মুসল্লির ইতিকাফ

 প্রকাশিত: ১৫:৫২, ১২ মার্চ ২০২৬

মক্কা ও মদিনায় হাজারো মুসল্লির ইতিকাফ

পবিত্র মসজিদুল হারাম ও মসজিদে নববীতে কয়েক হাজার মুসল্লি ইতিকাফ শুরু করেছেন। 

রমজানের শেষ ১০ দিন তারা ইতিকাফ পালন করবেন। আরব গণমাধ্যমগুলোর তথ্য অনুসারে ২০২৬ সালের রমজানে মদিনার মসজিদে নববীতে তিন হাজার দুই ’শ মুসল্লি ইতিকাফ করছেন। যাদের মধ্যে পুরুষের সংখ্যা দুই হাজার চার ’শ জন এবং নারীদের সংখ্যা আট ’শ। মসজিদে নববীর পূর্ব দিকের ছাদে পুরুষদের এবং পূর্ব সম্প্রসারণ অংশে নারীদের জন্য আলাদা ইতিকাফ এলাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। সেখানে লকার, বিশ্রাম স্থান এবং অন্যান্য সুবিধাও রাখা হয়েছে। অন্যদিকে মক্কার মসজিদুল হারামে কয়েক হাজার মুসল্লি ইতিকাফ করছেন। এর আগে ইতিকাফে অংশগ্রহণের জন্য অনলাইনে রেজিস্ট্রেশন বাধ্যতামূলক করা হয়।

রমজানের শেষ ১০ দিনের ইবাদত নির্বিঘ্ন করতে মক্কা ও মদিনায় ১৮ হাজারের বেশি কর্মী এবং প্রায় ৬ হাজার যানবাহন ও সরঞ্জাম মোতায়েন করা হয়েছে। সৌদি প্রেস এজেন্সি জানিয়েছে, যারা আগে থেকেই নিবন্ধন করে অনুমতি নিয়েছেন, তারা ইতোমধ্যে মসজিদে নববীতে ইতেকাফ পালন শুরু করেছেন। মসজিদুল হারাম ও মসজিদে নববীর বিষয়ক জেনারেল অথরিটি মুসল্লিদের জন্য নানা ধরনের সেবা চালু করেছে। এর মধ্যে রয়েছে—দিকনির্দেশনা ও ব্যবস্থাপনা, স্বাস্থ্যসেবা, অনুবাদ সেবা, আপ্যায়ন, প্রয়োজনীয় সামগ্রী সরবরাহ ইত্যাদি। এসব সেবা প্রদানের লক্ষ্য হলো মুসল্লিদের ইতিকাফ আরামদায়ক ও স্বস্তিপূর্ণ করা। 

এছাড়া মাঠ পর্যায়ে বিশেষ দল মোতায়েন করা হয়েছে, যারা প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ নিয়ন্ত্রণ করছে এবং সেবা কার্যক্রম তদারকি করছে, যাতে মুসল্লিরা পুরো মনোযোগ দিয়ে ইবাদত ও ধ্যানে নিমগ্ন থাকতে পারেন।

মদিনা সিটি করপোরেশনও নবীজির মসজিদ ও শহরের অন্যান্য বড় মসজিদে আগত দর্শনার্থীদের সেবা প্রদান কার্যক্রম জোরদার করেছে। এই সময়ে পৌরসেবা নিশ্চিত করতে পাঁচ হাজার সাত শর বেশি কর্মী এবং এক হাজার ২৩০টি যানবাহন ও সরঞ্জাম নিযুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি শহরে দর্শনার্থীর সংখ্যা বাড়ায় কর্তৃপক্ষ ব্যবসায়িক প্রতারণা রোধ এবং ফুটপাতের দোকান নিয়ন্ত্রণে বিশেষ অভিযানও চালাচ্ছে।

মক্কায়ও পৌরসভা ১৩ হাজারের বেশি কর্মী ২৪ ঘণ্টা কাজ করছেন, বিশেষ করে মসজিদুল হারাম ও আশপাশের এলাকায় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও অন্যান্য কার্যক্রম পরিচালনার জন্য। এছাড়া মসজিদুল হারামে যাতায়াত সহজ করতে ৪২ হাজারের বেশি গাড়ি রাখার সক্ষমতা নিয়ে ৫টি বড় পার্কিং এলাকা প্রস্তুত করা হয়েছে, যাতে যানজট কম হয়।