সোমবার ১৬ মার্চ ২০২৬, চৈত্র ২ ১৪৩২, ২৭ রমজান ১৪৪৭

আন্তর্জাতিক

পাকিস্তানের গোলাবর্ষণে ৪ বেসামরিক লোক নিহত

 প্রকাশিত: ১৮:২৭, ১৬ মার্চ ২০২৬

পাকিস্তানের গোলাবর্ষণে ৪ বেসামরিক লোক নিহত

আফগানিস্তানে পূবাঞ্চর্লে  পাকিস্তানি বাহিনীর গোলাবর্ষণে তিন শিশু ও এক নারী নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে আফগান কর্মকর্তারা। 

রোববার ও সোমবার মধ্যরাতের মধ্যে এ গোলাবর্ষণের ঘটনা ঘটে।

আফগান কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, গত এক সপ্তাহে দুই দেশের সীমান্ত সংঘর্ষে আফগানিস্তানে মোট ১৮ জন বেসামরিক লোক নিহত হয়েছেন। 

আফগানিস্তানের খোস্ত প্রদেশ থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।

পূর্বাঞ্চলীয় খোস্ত প্রদেশের গভর্নরের মুখপাত্র মুস্তাগফির গুরবুজ এএফপিকে বলেন, ‘স্থানীয় সময় গত রাত ১২টা নাগাদ পাকিস্তানি বাহিনী গুরবুজ জেলার নারি গ্রামে মর্টার শেল নিক্ষেপ করে। এতে এক নারী ও এক শিশু নিহত হয়।’

তিনি আরও বলেন, বাজার, একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও আরেকটি গ্রামেও শেল নিক্ষেপ করা হয়। এতে এক নারীসহ চার জন আহত হন। আহতদের মধ্যে দুই জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

খোস্তের গভর্নর দফতর এক বিবৃতিতে জানায়, রোববার রাতে খোস্তের আফগান দুবাই এলাকায় পাকিস্তানি মর্টার শেল বিস্ফোরণে আরও দুই শিশু নিহত হয়েছে।

সরকারের উপমুখপাত্র হামদুল্লাহ ফিতরাত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ জানান, রোববার পূর্বাঞ্চলীয় নুরিস্তান প্রদেশে একটি ‘বেসামরিক বাড়িতে গোলা আঘাত হানলে একজন নিহত হন।

দুর্গম এলাকা হওয়ায় আফগানিস্তান ও পাকিস্তান— দুই দেশেই হতাহতদের তথ্য তাৎক্ষণিক ও স্বাধীনভাবে যাচাই করা কঠিন।

উভয় পক্ষই দাবি করে, তারা বেসামরিক লোকজনকে লক্ষ্য করে হামলা চালায় না।

তবে শুক্রবার আফগানিস্তানে জাতিসংঘের মিশন নিশ্চিত করেছে, গত ২৬ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানের সঙ্গে সংঘর্ষ তীব্র হওয়ার পর থেকে দেশটিতে অন্তত ৭৫ জন বেসামরিক লোক নিহত হয়েছেন।

দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে কয়েক মাস ধরেই উত্তেজনা চলছে।

ইসলামাবাদ অভিযোগ করেছে, আফগানিস্তান পাকিস্তানি তালেবান (টিটিপি) জঙ্গিদের আশ্রয় দিচ্ছে। তারা পাকিস্তানে একের পর এক প্রাণঘাতী হামলার দায় স্বীকার করেছে।

পাশাপাশি ইসলামিক স্টেট খোরাসান প্রদেশের জঙ্গিরাও সেখানে সক্রিয় বলে দাবি পাকিস্তানের।

তবে আফগান তালেবান কর্তৃপক্ষ এ অভিযোগ অস্বীকার করে।

গত বছরের অক্টোবরে দুই দেশের মধ্যে সংঘর্ষে বহু মানুষ নিহত হয়েছে। ওই ঘটনার পর সীমান্ত প্রায় পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।

মধ্যস্থতার পর কিছুদিন সংঘর্ষ কমে এলেও ২৬ ফেব্রুয়ারি আবার উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এর আগে পাকিস্তানের বিমান হামলার জবাবে আফগানিস্তান সীমান্তে সামরিক অভিযান শুরু করে। 

ইসলামাবাদ বলেছিল, ওই বিমান হামলা টিটিপিকে লক্ষ্য করেই চালানো হয়েছিল।

এর পরদিন, ২৭ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তান তালেবান কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ‘খোলা যুদ্ধ’ ঘোষণা করে এবং রাজধানী কাবুলে বোমা হামলা চালায়।

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে বারবার সীমান্ত সংঘর্ষ হয়েছে। 

জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, এই চলমান সংঘাতের কারণে প্রায় ১ লাখ ১৫ হাজার মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছেন।

রোববার বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) জানায়, তারা ২০ সহস্রাধিক বাস্তুচ্যুত আফগান পরিবারের কাছে জীবন রক্ষাকারী খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দেওয়া শুরু করেছে।

সংস্থাটি সতর্ক করে জানিয়েছে, ‘আরও অস্থিরতা তৈরি হলে, লাখো মানুষ দুর্ভিক্ষের ঝুঁকিতে পড়বে।’