বুধবার ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ফাল্গুন ১৩ ১৪৩২, ০৮ রমজান ১৪৪৭

আন্তর্জাতিক

যুক্তরাষ্ট্রে যুগান্তকারী পরিবর্তনের দাবি ডোনাল্ড ট্রাম্পের

 আপডেট: ১১:৩২, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রে যুগান্তকারী পরিবর্তনের দাবি ডোনাল্ড ট্রাম্পের

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবার তার স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন ভাষণে দেশে এক “যুগান্তকারী পরিবর্তনের” দম্ভোক্তি করেছেন। মূলত নিজের শোচনীয় জনমত জরিপকে উল্টে দিতে এবং গুরুত্বপূর্ণ মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে দেশ-বিদেশে বাড়তে থাকা চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করতেই তিনি এমন বক্তব্য দিয়েছেন। 

সাম্প্রতিক জনমত জরিপে ভরাডুবির মধ্যেই মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ঘরোয়া ও আন্তর্জাতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তিনি এই বার্তা দেন। ওয়াশিংটন থেকে বার্তাসংস্থা এএফপি এ খবর জানায়।

কংগ্রেসের যৌথ অধিবেশনে ভাষণ দিতে গেলে রিপাবলিকানরা করতালি ও দাঁড়িয়ে অভিবাদনের মাধ্যমে ট্রামকে স্বাগত জানান। তবে অধিকাংশ ডেমোক্র্যাট আসনেই বসে থাকেন।

ট্রাম্প বলেন, ‘আমার প্রিয় আমেরিকানরা, আমাদের দেশ আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে এখন বড়, ভালো, সমৃদ্ধ ও শক্তিশালী।’

দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম আনুষ্ঠানিক স্টেট অব দ্য ইউনিয়নের ভাষণে তিনি দ্রুতগতির ও বিভাজন সৃষ্টিকারী প্রথম বছরের সাফল্য ভোটারদের সামনে তুলে ধরার চেষ্টা করেন।

৭৯ বছর বয়সী এই প্রেসিডেন্ট জনমত জরিপে এখনও অজনপ্রিয়। রিপাবলিকানদের আশঙ্কা, প্রতিনিধি পরিষদে তাদের অতি সামান্য সংখ্যাগরিষ্ঠতা ডেমোক্র্যাটদের হাতে চলে যেতে পারে। তা হলে ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের বাকি সময় কার্যত অচল হয়ে পড়বে ও তৃতীয় দফা অভিশংসনের ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে।

তবে ভাষণের শুরুতেই দৃঢ় অবস্থান নেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘মাত্র এক বছরে আমরা এমন পরিবর্তন এনেছি, যা আগে কেউ দেখেনি। এটি যুগান্তকারী ঘুরে দাঁড়ানো।’

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ট্রাম্প নতুন করে আলোচনায়। গত বছর নোবেল শান্তি পুরস্কার না পাওয়ায় আক্ষেপ করা এই নেতা এখন ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও বিক্ষোভ দমনের জেরে তেহরানের বিরুদ্ধে সামরিক হামলার বিষয়টি বিবেচনা করছেন।

ভাষণের অংশবিশেষে বলা হয়, ‘আমি যেখানে সম্ভব শান্তি স্থাপন করব। তবে আমেরিকার বিরুদ্ধে হুমকি এলে কখনো দ্বিধা করব না।’

ভাষণের আগে তার মুখপাত্র ট্রাম্পের সঙ্গে ইরান বিষয়ক আলোচক স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনারের ছবি প্রকাশ করেন।

সোমবার ট্রাম্প বলেন, দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন ভাষণ ‘দীর্ঘ হবে, কারণ বলার অনেক কিছু আছে।’

জল্পনা ছিল, ভাষণ তিন ঘণ্টা পর্যন্ত গড়াতে পারে। গত বছর কংগ্রেসে দেওয়া এক ঘণ্টা ৪০ মিনিটের দীর্ঘতম ভাষণকেও ছাড়িয়ে যেতে পারে এটি।

দ্বিতীয় মেয়াদের দ্বিতীয় বছরে একের পর এক ধাক্কায় চাপে আছেন ট্রাম্প। সম্প্রতি তার অর্থনৈতিক কর্মসূচির কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা শুল্ক ব্যবস্থা বাতিল করে দেয় সুপ্রিম কোর্ট।

রায়ে বিচারপতিদের ‘বোকার দল’ ও ‘তোষামোদকারী’ বললেও প্রতিনিধি পরিষদ কক্ষে প্রবেশের সময় তাদের সঙ্গে করমর্দন করেন তিনি।

মিনিয়াপোলিসে অভিবাসন অভিযানে দুই মার্কিন নাগরিক নিহত হওয়ার ঘটনায় ক্ষোভ, প্রয়াত বিলিওনিয়ার জেফ্রি এপস্টেইনকে ঘিরে বিতর্ক এবং আংশিক সরকারি অচলাবস্থাও ট্রাম্পকে চাপে ফেলেছে।

রোববার প্রকাশিত ওয়াশিংটন পোস্ট-এবিসি নিউজ-ইপসোস জরিপে তার জনপ্রিয়তা ৩৯ শতাংশে নেমে আসে। সামগ্রিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় সমর্থন ৪১ শতাংশ। মূল্যস্ফীতি মোকাবিলায় সমর্থন মাত্র ৩২ শতাংশ।

ভাষণ ঘিরে ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে বয়কট ও নীরব প্রতিবাদের প্রস্তুতি ছিল। নিউ ইয়র্ক টাইমস জানায়, অন্তত ৪০ জন ডেমোক্র্যাট ভাষণে অনুপস্থিত থাকতে পারেন।

যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান অনুযায়ী, প্রেসিডেন্টকে সময় সময় কংগ্রেসকে ‘স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন’ সম্পর্কে অবহিত করতে হয়।

প্রথা অনুযায়ী, রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাটরা অতিথিদের গ্যালারিতে আমন্ত্রণ জানান। ট্রাম্প অলিম্পিকে স্বর্ণজয়ী মার্কিন পুরুষ আইস হকি দলকে আমন্ত্রণ জানান। তবে নারীদের দলটি তার আমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান করে। কারণ, পুরুষ দলের উদ্দেশে দেওয়া তার এক রসিক মন্তব্য ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়।

এছাড়া ট্রাম্প ডানপন্থী কর্মী চার্লি কির্কের নিহত বিধবা এরিকা কির্ককে আমন্ত্রণ জানান।

ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি পরিষদের দুই সদস্য জানান, তারা প্রয়াত জেফ্রি এপস্টেইনের এক ভুক্তভোগীর পরিবারের সদস্যদের অতিথি হিসেবে নিয়ে আসবেন।

যৌন অপরাধে অভিযুক্ত এপস্টেইনের সঙ্গে কোনো সম্পর্কের কথা অস্বীকার করেছেন ট্রাম্প। তবু এ কেলেঙ্কারি তার প্রেসিডেন্সিকে এখনো তাড়া করে ফিরছে।