বুধবার ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ফাল্গুন ১৩ ১৪৩২, ০৮ রমজান ১৪৪৭

জাতীয়

বগুড়ায় মাদক নিরাময় কেন্দ্রে ব্যাংক কর্মকর্তার মৃত্যু, পরিবারের দাবি হত্যা

 প্রকাশিত: ১১:০২, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

বগুড়ায় মাদক নিরাময় কেন্দ্রে ব্যাংক কর্মকর্তার মৃত্যু, পরিবারের দাবি হত্যা

বগুড়ায় একটি মাদক নিরাময় কেন্দ্রে এক ব্যাংক কর্মকর্তার মৃত্যু হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। পরিবার দাবি করেছে, তাকে হত্যা করা হয়েছে।

মঙ্গলবার রাতে সদর উপজেলার সাবগ্রাম এলাকায় অবস্থিত ‘মায়ের আশ্রয় মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে’ এ ঘটনা ঘটে বলে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোস্তফা মঞ্জুর জানান।

তিনি বলেন, এ ঘটনায় কেন্দ্রের এক কর্মীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

মৃত সামিউল হাসান শুভ (৩৩) কাহালু উপজেলার কাজীপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি জনতা ব্যাংক বগুড়ার দুপচাঁচিয়া শাখার জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ছিলেন।

নিহতের দুলাভাই এ টি এম ফরহাদ সোহাগ বলেন, চলতি মাসের ১৩ তারিখে মানসিক সমস্যার কারণে একজন চিকিৎসকের পরামর্শে শুভকে ওই নিরাময় কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়।

তিনি দাবি করেন, সামিউল মাদকাসক্ত ছিলেন না। প্রায় এক মাস আগে তিনি ডাকাতির শিকার হন এবং সে সময় তাকে মারধর করা হয়। ওই ঘটনার পর থেকে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন ও ট্রমায় ভুগছিলেন। চিকিৎসকের পরামর্শেই তাকে কিছুদিন পর্যবেক্ষণ ও চিকিৎসার জন্য কেন্দ্রে রাখা হয়।

“মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে হঠাৎ নিরাময় কেন্দ্র থেকে ফোন করে জানানো হয়, শুভর শারীরিক অবস্থা খারাপ এবং তাকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। আমাদেরও সেখানে যেতে বলা হয়। পরে হাসপাতালে গিয়ে আমরা তাকে মৃত অবস্থায় পাই।”

নিহতের চাচাতো ভাই তাপস বলেন, “কয়েকদিন আগে আমার সঙ্গে শুভর কথা হয়েছে। তখন তাকে সুস্থ ও স্বাভাবিক মনে হয়েছে। তার গুরুতর কোনো শারীরিক অসুস্থতার কথা আমাদের জানানো হয়নি। হাসপাতালে গিয়ে লাশের শরীরে একাধিক দাগ দেখতে পাই। তার ডান হাত ও ডান পাশের পাঁজরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। আমাদের ধারণা, তাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে।”

বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোস্তফা মঞ্জুর বলেন, “খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল ও হাসপাতালে যায়। সিসিটিভি ভিডিও সংগ্রহ ও পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

“প্রাথমিকভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না। লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন ও ময়নাতদন্তের পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।”

তিনি জানান, মাদক নিরাময় কেন্দ্রের কর্মী হুমায়ুনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তিনিই শুভকে হাসপাতালে নিয়ে এসেছিলেন। হাসপাতাল থেকেই তাকে হেফাজতে নেওয়া হয়।

এ ব্যাপারে মায়ের আশ্রয় মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রের বক্তব্য জানার চেষ্টা চলছে।