বুধবার ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ফাল্গুন ১৩ ১৪৩২, ০৮ রমজান ১৪৪৭

আন্তর্জাতিক

সীমান্তে পাকিস্তান, আফগানিস্তান বাহিনীর গুলি বিনিময়

 প্রকাশিত: ১১:০৮, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

সীমান্তে পাকিস্তান, আফগানিস্তান বাহিনীর গুলি বিনিময়

আফগানিস্তানে পাকিস্তানের বিমান হামলার পরে তিন দিন পার না হতেই সীমান্তে গুলি বিনিময় করেছে প্রতিবেশী দেশ দুটির বাহিনীগুলো।

মঙ্গলবার সীমান্ত বরাবর এ সংঘাতের সূচনা করার জন্য এক দেশ অপর দেশকে দায়ী করেছে, জানিয়েছে রয়টার্স।

এ ঘটনায় দেশ দুটির ২৬০০ কিলোমিটার সীমান্ত বরাবর ফের উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। অক্টোবরেও এ সীমান্তজুড়ে দুই পক্ষের মধ্যে প্রাণঘাতী সংঘাত হয়েছিল। তখন নড়বড়ে এক অস্ত্রবিরতির মধ্য দিয়ে সংঘাত থামানো গেলেও শনিবার ও রোববার পাকিস্তানের বিমান হামলার পরে উত্তেজনা ফের চরমে উঠেছে আর এতে অস্ত্রবিরতি হুমকির মুখে পড়েছে।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর মুখপাত্র মোশাররফ জাইদি রয়টার্সকে বলেছেন, আফগান তালেবান কর্তৃপক্ষ পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্ত বরাবর তোরখাম ও তিরাহ সাব-সেক্টরে ‘বিনা উস্কানিতে’ গুলিবর্ষণের সূচনা করেছে।

জাইদি বলেন, “পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনী অবিলম্বে ও কার্যকরভাবে জবাব দিয়ে তালেবান আগ্রাসনকে স্তব্ধ করে দিয়েছে।”

তিনি হুঁশিয়ার করে বলেন, “এরপর আর কোনো উস্কানি দেওয়া হলে অবিলম্বে ও কঠোরভাবে তার জবাব দেওয়া হবে।”

রয়টার্স জানায়, আফগানিস্তানের কর্মকর্তারা এই ঘটনা নিয়ে ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছেন। তারা বলেছেন, পাকিস্তানের বাহিনী গুলি শুরু করার পর আফগান সেনারা জবাব দিয়েছে।

আফগানিস্তানের নানগারহার প্রদেশের তথ্য ও সংস্কৃতি বিষয় পরিচালক জাবিহুল্লাহ নুরানি জানিয়েছেন, নাজিয়ান জেলার শাহকোট এলাকার সীমান্তে ঘটনাগুলো ঘটেছে। গোলাগুলি থেমেছে আর আফগান পক্ষে কেউ হতাহত হয়নি।

আফগানিস্তানের পূর্বাঞ্চলের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সেনাবাহিনীর কোরের মুখপাত্র মৌলভি ওয়াহিদুল্লাহ পৃথকভাবে জানিয়েছেন, অচিন ও দুর্বাবা জেলার ডুরান্ড লাইনের কাছে টহল দেওয়ার সময় সীমান্ত বাহিনীর ওপর গুলিবর্ষণ করা হয়।

তিনি জানান, গুলি বিনিময় প্রতিশোধমূলক ছিল না বরং সীমান্তের অপর পাশ থেকে আসা গুলির জবাব ছিল।

ইসলামাবাদ জানিয়েছে, শনিবার আফগানিস্তানের পূর্বাঞ্চলে তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) ও ইসলামিক স্টেট খোরসান প্রদেশের শিবিরগুলোতে বিমান হামলা চালিয়েছে তারা। এসব হামলায় ৭০ থেকে ৮০ জনের মতো ‘জঙ্গি’ নিহত হয়েছে বলে পাকিস্তানের নিরাপত্তা সূত্রগুলো রয়টার্সকে জানিয়েছে।

আফগানিস্তানে থাকা জাতিসংঘের সহায়তা মিশন জানিয়েছে, পাকিস্তানের বিমান হামলায় হতাহতের বিষয়ে ‘বিশ্বাসযোগ্য প্রতিবেদন’ পেয়েছে তারা। এই প্রতিবেদন অনুযায়ী, নানগারহারে অন্তত ১৩ জন বেসামরিক নিহত ও সাতজন আহত হয়েছেন।

তালেবান কর্মকর্তারা হতাহতের সংখ্যা আরও বেশি বলে অভিযোগ করেছেন। রয়টার্স স্বতন্ত্রভাবে এসব দাবি যাচাই করতে পারেনি বলে জানিয়েছে।

পাকিস্তান বলছে, টিটিপির নেতারা আফগান ভূখণ্ড থেকে তাদের বাহিনী পরিচালনা করে। এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে কাবুল।