জেট ফুয়েলের দাম কমল আরেক দফা
উড়োজাহাজে ব্যবহৃত জ্বালানি তেল জেট এ-১ বা জেট ফুয়েলের দাম আবার কমিয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)।
জুন মাসের জন্য অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটে প্রতি লিটার জেট ফুয়েলের দাম ১৬৫ টাকা ৮৮ পয়সা থেকে কমিয়ে ১৫০ টাকা ২১ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে লিটারে দাম কমেছে ১৫ টাকা ৬৭ পয়সা।
আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে দেশি ও বিদেশি এয়ারলাইন্সের জন্য শুল্ক ও মূসকমুক্ত জেট ফুয়েলের দাম প্রতি লিটার ১ দশমিক ০৮২৩ মার্কিন ডলার থেকে কমিয়ে ০ দশমিক ৯৮০৮ ডলার করা হয়েছে।
রোববার জারি করা বিইআরসির আদেশে নতুন মূল্যহার নির্ধারণের কথা জানানো হয়।
নতুন দর রোববার রাত ১২টা থেকে কার্যকর হবে এবং পরবর্তী আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত বহাল থাকবে।
বিইআরসি বলেছে, আন্তর্জাতিক বাজারে প্রকাশিত ‘প্ল্যাটস রেটের’ ভিত্তিতে মাসভিত্তিক জেট ফুয়েলের মূল্য সমন্বয় করা হচ্ছে।
সর্বশেষ সমন্বয়ের ক্ষেত্রে ২২ মে থেকে ৪ জুন পর্যন্ত সময়ে প্রকাশিত ‘প্ল্যাটস রেটের’ গড় মূল্য বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) এলসি সেটেলমেন্টের ডলারের বিনিময় হার এবং ডিজেলের দামের পরিবর্তনের কারণে কোস্টাল ট্যাংকার ও ট্যাংক লরির পরিবহন ব্যয়ের পরিবর্তনও হিসাব করা হয়েছে।
বিইআরসি বলছে, এসব তথ্য বিশ্লেষণের জন্য গঠিত কারিগরি কমিটি ৭ জুন কমিশনে প্রতিবেদন জমা দেয়। ওই দিনই শুনানি শেষে নতুন মূল্য অনুমোদন করা হয়।
তিন দফায় কমল ৭৭ টাকা
এ নিয়ে গত এক মাসে টানা তিন দফা জেট ফুয়েলের দাম কমল। এর আগে ২৩ মে মধ্যবর্তী সমন্বয়ে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটে প্রতি লিটার জেট ফুয়েলের দাম ২০৫ টাকা ৪৫ পয়সা থেকে কমিয়ে ১৬৫ টাকা ৮৮ পয়সা করা হয়েছিল। তখন লিটারে দাম কমেছিল ৩৯ টাকা ৫৭ পয়সা।
তারও আগে ৭ মে প্রতি লিটার দাম ২২৭ টাকা ৮ পয়সা থেকে কমিয়ে ২০৫ টাকা ৪৫ পয়সা নির্ধারণ করা হয়। সেই হিসাবে তিন দফায় দাম কমেছে ৭৬ টাকা ৮৭ পয়সা।
আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের ক্ষেত্রেও প্রতি লিটারের দাম ১ দশমিক ৪৮ ডলার থেকে কমে ০ দশমিক ৯৮ ডলারে নেমে এসেছে।
মার্চ-এপ্রিলে ছিল বড় উল্লম্ফন
বর্তমান মূল্যহ্রাসের আগে মার্চ ও এপ্রিলে জেট ফুয়েলের দামে বড় ধরনের উল্লম্ফন দেখা যায়।
২৪ মার্চ অভ্যন্তরীণ রুটে প্রতি লিটার জেট ফুয়েলের দাম ১১২ টাকা ৪১ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ২০২ টাকা ২৯ পয়সা করা হয়। একই সময়ে আন্তর্জাতিক রুটে দাম ০ দশমিক ৭৪ ডলার থেকে ১ দশমিক ৩২ ডলারে উন্নীত হয়।
এরপর ৭ এপ্রিল আরেক দফা বাড়িয়ে অভ্যন্তরীণ রুটে দাম ২২৭ টাকা ৮ পয়সা এবং আন্তর্জাতিক রুটে ১ দশমিক ৪৮ ডলার নির্ধারণ করা হয়।
এরও আগে ৮ মার্চ অভ্যন্তরীণ রুটে প্রতি লিটার জেট ফুয়েলের দাম ৯৫ টাকা ১২ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ১১২ টাকা ৪১ পয়সা করা হয়েছিল। আন্তর্জাতিক রুটে দাম নির্ধারণ করা হয় ০ দশমিক ৭৩৮৪ ডলার।
চলতি বছরের জানুয়ারিতে অভ্যন্তরীণ রুটে প্রতি লিটার জেট ফুয়েলের দাম ছিল ৯৪ টাকা ৯৩ পয়সা।
বিইআরসি এর আগে জানিয়েছিল, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত, ইরানকে ঘিরে আঞ্চলিক উত্তেজনা এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্নের আশঙ্কার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জেট ফুয়েলের দামে অস্থিরতা তৈরি হয়েছিল।
মার্চে বড় ধরনের মূল্যবৃদ্ধির পর এভিয়েশন অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এওএবি) দাম বৃদ্ধিকে ‘অযৌক্তিক’ বলে সমালোচনা করে।
তবে মে মাসের দ্বিতীয়ার্ধ থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে জেট ফুয়েলের দর কিছুটা কমতে শুরু করায় বিইআরসি ধারাবাহিকভাবে মূল্য সমন্বয় করছে। সর্বশেষ সিদ্ধান্তে সেই ধারা অব্যাহত থাকল।