ব্রেকিং:
লিবীয় উপকূলে নৌকাডুবি, ৫৭ অভিবাসীর মৃত্যুর আশঙ্কা ১৮ বছর পর ইরাকে ‘যুদ্ধ সমাপ্তির’ ঘোষণা মার্কিন প্রেসিডেন্ট রাজধানীতে আটক-জরিমানায় চলছে কঠোর লকডাউন

বৃহস্পতিবার   ২৯ জুলাই ২০২১,   শ্রাবণ ১৪ ১৪২৮,   ১৮ জ্বিলহজ্জ ১৪৪২

সর্বশেষ:
বিশ্বে করোনায় মৃতের সংখ্যা ৪১ লাখ ৮২ হাজার ছাড়াল দেশে টিকার আওতায় এসেছ প্রায় এক কোটি ২১ লাখ মানুষ ঈদের আগে দেশে ১৫৫ কোটি ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছে প্রবাসীরা
৪৩

মহামারীতে রাসূল সাঃ এর নির্দেশ

প্রকাশিত: ১৪ জুলাই ২০২১  

যুগে যুগে অনেক জাতি মহামারীতে আক্রান্ত হয়েছে। কখনো কখনো আল্লাহ রাব্বুল আলামীন এর মাধ্যমে এক জাতির বদলে  আরেক জাতিকে স্থলাভিষিক্ত করেছেন। মহামারীর কবলে সবরকারীদের কেউ হয়েছেন শহীদ আর শহর ছেড়ে পলায়নকারীদের কেউ কেউ হয়েছেন আযাব প্রাপ্ত। বর্তমান সময়ের পুরো বিশ্ব যখন মহামারীর আতঙ্কে ভীত, ঠিক সে সময় আমরা জেনে নিই পনেরোশত বছর আগে প্রিয় নবী কী বলে গিয়েছেন আমাদের জন্য! 

মহানবী (সা.) বলেন, 

‘যখন কোনো জাতির মধ্যে প্রকাশ্যে অশ্লীলতা ছড়িয়ে পড়ে, তখন তাদের মধ্যে দুর্ভিক্ষ ও মহামারী ব্যাপক আকার ধারণ করে, যা তাদের পূর্ববর্তীদের মধ্যে ছিল না।’

 (ইবনে মাজাহ, হাদিস : ৪০১৯)

মহামারী ছড়ানো কিয়ামতের নিদর্শন সমূহের একটি। 

রাসুল (সা.) বলেন,

 ‘কিয়ামতের আগের ছয়টি নিদর্শন গণনা করে রাখো। আমার মৃত্যু, অতঃপর বায়তুল মুকাদ্দাস বিজয়, অতঃপর তোমাদের মধ্যে বকরির পালের মহামারীর মতো মহামারী ছড়িয়ে পড়বে, সম্পদের প্রাচুর্য, এমনকি এক ব্যক্তিকে ১০০ দিনার দেওয়ার পরও সে অসন্তুষ্ট থাকবে। অতঃপর এমন এক ফিতনা আসবে, যা আরবের প্রতিটি ঘরে প্রবেশ করবে। অতঃপর যা তোমাদের ও বনি আসফার বা রোমকদের মধ্যে যুদ্ধবিরতির চুক্তি সম্পাদিত হবে। অতঃপর তারা বিশ্বাসঘাতকতা করবে এবং ৮০টি পতাকা উড়িয়ে তোমাদের বিপক্ষে আসবে; প্রতিটি পতাকার নিচে থাকবে ১২ হাজার সৈন্য।’ (বোখারি, হাদিস : ৩১৭৬) 

তবে আশার কথা কেউ যদি সবরের সাথে মহামারীতে নিজ শহরে রাসূলের নির্দেশ অনুযায়ী অবস্থান করে ও  মৃত্যুবরণ করে তবে সে শহীদের মর্যাদা লাভ করবে। আর হাদিসে এসেছে-রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,

‘যখন কোনো এলাকায় মহামারি ছড়িয়ে পড়ে তখন যদি তোমরা সেখানে থাকো তাহলে সেখান থেকে বের হবে না। আর যদি তোমরা বাইরে থাকো তাহলে তোমরা সেই আক্রান্ত এলাকায় যাবে না।’ বুখারি ও মুসলিম

রাসূল সা মহামারী আক্রান্ত অঞ্চলে যাতায়াত নিষিদ্ধ করেছেন। মুমিন ইমান ও ইখলাসের সঙ্গে ধৈর্য ধারণ করবে। তাই মহামারীর ব্যাপারে মহানবী সা বারবার বলেছেন 

 ‘কোথাও মহামারী দেখা দিলে এবং সেখানে তোমরা অবস্থানরত থাকলে সে জায়গা ছেড়ে চলে এসো না। আবার কোনো এলাকায় এটা দেখা দিলে এবং সেখানে তোমরা অবস্থান না করে থাকলে, সে জায়গায় গমন করো না।’ (তিরমিজি, হাদিস : ১০৬৫)

তাই যে এলাকায় মহামারি ছড়িয়ে পড়বে সেখানে অবস্থান করে যদি কেউ মৃত্যুবরণ করে তাহলে সে শহিদ বলে আখ্যায়িত হবে। আর মহামারী এলাকা থেকে যে পালিয়ে আসবে তাকে জেহাদ থেকে পলায়নকারীর মতোই গণ্য করা হবে।

অতএব এই নব মহামারীর সময়ে সচেতন যেকোন ব্যক্তির সুন্নাহ অনুযায়ী নিজ নিজ এলাকায় বা শহরে নিরাপদে অবস্থান করা উত্তম এখনকার সময়ে।  আল্লাহ আমাদের হেফাজত করুন। 


এই বিভাগের আরো খবর