ব্রেকিং:
বিশ্বে করোনায় আক্রান্ত সাড়ে ১১ কোটি, মৃত্যু সাড়ে ২৫ লাখ

বুধবার   ০৩ মার্চ ২০২১,   ফাল্গুন ১৯ ১৪২৭,   ১৮ রজব ১৪৪২

সর্বশেষ:
কারাগারে লেখক মুশতাকের মৃত্যু নিয়ে যা বললেন গোলাম রাব্বানী আন্দামান সাগরে ভাসমান রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে পাঠাতে চায় ভারত
১৫

বাণিজ্যিক উৎপাদনে ফিরছে ঐতিহ্যবাহী ঢাকাই মসলিন

প্রকাশিত: ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২১  

মসলিন মানেই বাংলাদেশের একটি গল্প। সে গল্প সূক্ষ্ম শিল্পের, ঐতিহ্যের।

গল্পগুলো বিস্ময়ের, গর্বের। যা ছিল বাংলাকে বিশ্বের কাছে সুপরিচিত করার মাধ্যম। সেই গর্ব, বিস্ময়, ঐতিহ্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ইচ্ছায়, একদল গবেষকের অক্লান্ত প্রচেষ্টায় ১৭০ বছর পর আবার ফিরেছে বাংলায়, বাংলাদেশে।

মসলিন এক ধরনের মিহি সুতিবস্ত্র। মূলত ‘ঢাকাই মসলিন’ নামে বিশ্বব্যাপী সুপরিচিত। ফুর্টি কার্পাস তুলা থেকে উৎপন্ন অতি চিকন সুতা দিয়ে তৈরি হয় এই কাপড়।  

১৮৫০ সালে লন্ডনে প্রদর্শনের ১৭০ বছর পর বাংলাদেশে বোনা হলো ঐতিহ্যবাহী মসলিন শাড়ি। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক অধ্যাপক মো. মনজুর হোসেনের নেতৃত্বে ১৭০ বছর পর ঐতিহ্য ফিরে পেয়েছে ঢাকাই মসলিন। তার নেতৃত্বে দেশের পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের একদল গবেষকের অক্লান্ত প্রচেষ্টায় শেষ পর্যন্ত সেই মসলিনের আদলে তৈরি হয়েছে এই শাড়ি।

এর মধ্যে দিয়ে তার অনেক সফলতায় যুক্ত হয়েছে আরও একটি সাফল্যের পালক। তার হাত ধরে চলা দীর্ঘ গবেষণা শেষে হারানো ‘ঢাকাই মসলিন’ এখন বাংলাদেশেরই। গবেষকদের দীর্ঘ ছয় বছরের প্রচেষ্টায় মিলেছে ভৌগোলিক নির্দেশক পণ্যের স্বীকৃতি। গত ২৮ ডিসেম্বর ঢাকাই মসলিনকে বাংলাদেশের ভৌগোলিক নির্দেশক পণ্য স্বীকৃতি দিয়ে গেজেট প্রকাশিত হয়েছে। তাই বহু বছর পর হলেও শিগগিরই মসলিনের যুগে শুভ সূচনা করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ।

গবেষকরা দীর্ঘ ছয় বছরের প্রচেষ্টায় আবারও মসলিন বুনতে সফল হয়েছেন। এরপরই মিলেছে স্বীকৃতি। সব কিছু ঠিক থাকলে কিছুদিনের মধ্যে প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ের কাজ শেষ হবে। মার্চের পর শুরু হবে দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজ। আর প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায়টা হবে বাণিজ্যিকভাবে ‘ঢাকাই মসলিনের’ উৎপাদন শুরু করা। তাই বলা যায় ফের সফলতার চূড়ায় উঠেবে ঢাকাই মসলিন। এরইমধ্যে সংশ্লিষ্টরা গাজীপুরের কাপাসিয়ায় শীতলক্ষ্যা নদীর তীরে এ কাপড় তৈরির বাণিজ্যিক কারখানা নির্মাণের চিন্তা-ভাবনা করছেন। গবেষণায় সফলতা আসায় এবার বাণিজ্যিক উৎপাদনে যাচ্ছে এই বিখ্যাত কাপড়।

বিখ্যাত কেন? কারণ এক সময় বিশ্বজোড়া খ্যাতি ছিল ঢাকাই মসলিনের। কালান্তরে এমন গল্পও আছে যে, ৫০ মিটার দীর্ঘ মসলিনের কাপড়কে একটি দিয়াশলাই বক্সে ভরে রাখা যেত। ১০ গজ দৈর্ঘ্য, ১ গজ প্রস্থের একটি মসলিন কাপড় ছোট্ট একটা আংটির মধ্য দিয়ে আনা-নেওয়া করা যেত। এর ওজন ছিল মাত্র ৬-৭ তোলা! কালের গর্ভে হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্যবাহী এই ঢাকাই মসলিনের তাই পুনর্জন্ম ঘটেছে বলা যায়।

এর আগে ২০১৪ সালে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ঢাকাই মসলিন তৈরির প্রযুক্তি ও পুনরুদ্ধার প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়। পুরো প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয় ১৪ কোটির কিছু বেশি টাকা। প্রকল্পে সবচেয়ে কঠিন ধাপ ছিল মসলিনের কাঁচামাল ফুর্টি কার্পাস জাতের তুলা গাছের সন্ধান পাওয়া।

ইতিহাস বিশ্লেষণ করে অনেক অনুসন্ধানের পর ২০১৭ সালে ঢাকার গাজীপুরের কাপাসিয়ার প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চল থেকে মেলে ফুর্টি কার্পাস জাতের তুলা গাছ। খবর পেয়ে গবেষকরা গিয়ে তুলার ধরন দেখে নিশ্চিত হন, এ দিয়ে মসলিন কাপড় তৈরি করা সম্ভব। এরপর সুতা কাটার জন্য নতুন করে তৈরি চরকা দিয়ে বিদেশ থেকে আমদানি করা সুতায় ৪০ তাঁতির মসলিন তৈরির প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় দুই বছর। আর তাঁতপিট লুম চালানের প্রশিক্ষণ দেওয়া ছয়জনকে। প্রশিক্ষণপ্রাপ্তদের মধ্যে এই ছয়জন তাঁতি দিয়ে কুমিল্লার চান্দিনায় ৩০০ থেকে ৪৫০ কাউন্টের সুতা বানানো হয়।

সেই সুতা দিয়ে সোনারগাঁওয়ে বানানো হয় মসলিন কাপড়। প্রায় ৩০০ বছর পর সেই সুতা দিয়ে তৈরি করা যায় মোট ছয়টি শাড়ি। যার মধ্যে একটি প্রধানমন্ত্রীকে উপহার হিসেবে দেওয়া হয়।

এই কাজ শেষ করার জন্য ‘বাংলাদেশের সোনালি ঐতিহ্য মসলিন সুতা তৈরির প্রযুক্তি ও মসলিন কাপড় পুনরুদ্ধার (প্রথম পর্যায়)’ শীর্ষক একটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়। প্রকল্পের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা করা হয়- রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক মো. মনজুর হোসেনকে। আর বাংলাদেশে তাঁত বোর্ডের প্রধান পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. আয়ুব আলী প্রকল্প পরিচালক হিসেবে নিযুক্ত হন।


অনলাইন নিউজ পোর্টাল
অনলাইন নিউজ পোর্টাল
এই বিভাগের আরো খবর