ব্রেকিং:
গত ২৪ ঘণ্টায় বিশ্বে ৫৯৩৩ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত হয়েছেন ৩৭৯৭২৯ জন ৫জি’র যুগে প্রবেশ করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ২৪ ঘন্টায় ২২১ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় গুলাব, ভারী বৃষ্টির শঙ্কা আগামী সোমবার আসবে ২৫ লাখ ডোজ ফাইজারের টিকা

সোমবার   ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১,   আশ্বিন ১২ ১৪২৮,   ১৮ সফর ১৪৪৩

সর্বশেষ:
কুয়াকাটায় নির্দিষ্ট বাস টার্মিনাল না থাকায়, চরম যানজটে পর্যটকরা ইসরাইলি বাহিনীর গুলিতে ৪ ফিলিস্তিনি নিহত বগুড়ায় জিলা স্কুলের দশম শ্রেণির ২ শিক্ষার্থীর করোনা স্বাস্থ্যমন্ত্রী : আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে গণটিকা প্রদান শুরু গোয়েন্দা নজরদারিতে রয়েছে ডজনখানেক ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান দেশের সকল সিঙ্গেল রেল লাইনকে পর্যায়ক্রমে ডাবল করা হচ্ছে ডিএসই’র লেনদেনে শীর্ষে রয়েছে বেক্সিমকো বাণিজ্যিক উন্নয়নে প্রবাসীদের সহযোগিতা চাইলো এফবিসিসিআই আসামে মুসলিম নিধন নিয়ে পাকিস্তানের প্রতিবাদ বিমানবন্দরে করোনা পরীক্ষার ল্যাব প্রস্তুত জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে মুগ্ধ মার্কিন রাষ্ট্রদূত
৬৩

ফিতনা থেকে বাঁচার উপায়

প্রকাশিত: ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২১  

পৃথিবী যতই এগিয়ে যাচ্ছে নানা রকম ফিতনা, নানা রকম সংকট ততই দৃশ্যমান হচ্ছে। এক হাদিসে আল্লাহর রাসুল (সা.) শেষ জামানায় ফিতনার ভয়াবহ বিস্তার সম্পর্কে সতর্ক করে বলেন, ‘শিগগিরই ফিতনা রাশি রাশি আসতে থাকবে। ওই সময় উপবিষ্ট ব্যক্তি দাঁড়ানো ব্যক্তির চেয়ে উত্তম (নিরাপদ), দাঁড়ানো ব্যক্তি ভ্রাম্যমাণ ব্যক্তি থেকে বেশি রক্ষিত। আর ভ্রাম্যমাণ ব্যক্তি ধাবমান ব্যক্তির চেয়ে বেশি বিপদমুক্ত। যে ব্যক্তি ফিতনার দিকে চোখ তুলে তাকাবে, ফিতনা তাকে গ্রাস করবে। তখন যদি কোনো ব্যক্তি তার দ্বিন রক্ষার জন্য কোনো ঠিকানা অথবা নিরাপদ আশ্রয় পায়, তাহলে সেখানে আশ্রয় গ্রহণ করাই উচিত হবে।’ (বুখারি, হাদিস : ৩৬০১)

এই  হাদিস দ্বারা স্পষ্ট যে ফিতনা মানুষের জন্য এক বড় সংকট। তাই ফিতনা থেকে আত্মরক্ষা প্রতিটি মানুষের জন্য অপরিহার্য। নিম্নে ফিতনা থেকে আত্মরক্ষার কয়েকটি উপায় তুলে ধরা হলো—
তাকওয়াময় জীবনচর্চা

তাকওয়া বা আল্লাহভীতি মুমিনের অনিবার্য একটি গুণ। এই গুণ অর্জনের মাধ্যমে একজন মুমিন খুব সহজে ফিতনা থেকে বাঁচতে পারে। কোরআনের বিভিন্ন আয়াতে আল্লাহ তাআলা তাকওয়ার গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। তাবেয়িদের যুগে একবার ফিতনা দেখা দিলে লোকজন তালক ইবনে হাবিবের কাছে এসে জানতে চাইলেন যে চারদিকে অনেক ফিতনার প্রকাশ ঘটেছে, আমরা কিভাবে এর থেকে নিরাপদে থাকব? জবাবে তিনি বলেন, তাকওয়ার মাধ্যমে। তারা বলেন, আমাদের তাকওয়ার সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা দিন। তিনি ব্যাখ্যায় বলেন, ‘তাকওয়া হলো এমন আমল, যা আল্লাহর আনুগত্য প্রকাশের জন্য আল্লাহর দেখানো পথে সওয়াব লাভের আশায় করা হয় এবং গুনাহ বর্জন করে আল্লাহর শাস্তির ভয় করা হয়।’ (আজ-জুহদু ওয়ার রাকাইক : ১/৪৭৩)
 
ভালো কাজে আত্মনিয়োগ

সৎকর্ম বা আমালুস সালেহ মুমিনের অন্যতম গুণ। এ কর্মের মাধ্যমেই একজন মুমিন ফিতনা থেকে বাঁচতে পারে। রাসুল (সা.) বলেন, ‘আঁধার রাতের মতো ফিতনা আসার আগেই তোমরা সৎ আমলের দিকে ধাবিত হও। সে সময় সকালে একজন মুমিন হলে বিকেলে কাফির হয়ে যাবে। বিকেলে মুমিন হলে সকালে কাফির হয়ে যাবে। দুনিয়ার সামগ্রীর বিনিময়ে দ্বিন বিক্রি করে বসবে।’ (মুসলিম, হাদিস : ২১৩)

বিচ্ছিন্নতাবাদ পরিহার করা

একাকী বা বিচ্ছিন্নতাবাদ ইসলাম সমর্থন করে না। ইসলামের নির্দেশ হচ্ছে সমাজবদ্ধতা বা মুসলিমদের জামাত আঁকড়ে ধরা। হুজাইফা ইবনে ইয়ামান (রা.) বর্ণিত হাদিসে এসেছে, রাসুল (সা.) বলেন, ‘তোমরা মুসলিমদের জামাত ও ইমামের সঙ্গে আকঁড়ে থাকবে। আমি বললাম, যদি তাদের কোনো জামাত বা ইমাম না থাকে? তিনি বলেন, ‘তাহলে সে সব বিচ্ছিন্নতাবাদ থেকে তুমি আলাদা থাকবে, যদিও তুমি একটি বৃক্ষমূল দাঁত দিয়ে আঁকড়ে থাকো এবং এ অবস্থায়ই মৃত্যু তোমার নাগাল পায়।’ (মুসলিম, হাদিস : ৪৬৭৮)

কোরআন ও সুন্নাহর বিধান আঁকড়ে ধরা

প্রবৃত্তির চাহিদা পূরণ ও যাবতীয় ফিতনা থেকে আত্মরক্ষার আরেকটি কার্যকরী উপায় হলো, ইসলামী শরিয়তের দুই উৎস কোরআন ও সুন্নাহর বিধানকে নিজেদের জীবনের জন্য অপরিহার্য করে নেওয়া। যারা ইসলামের এই দুই উৎসকে আঁকড়ে ধরবে তারা কখনো পথভ্রষ্ট হবে না। ইরশাদ হয়েছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘আমি তোমাদের কাছে দুই বস্তু রেখে যাচ্ছি। তোমরা যতক্ষণ তা ধরে থাকবে, ততক্ষণ পর্যন্ত পথভ্রষ্ট হবে না। তা হলো আল্লাহর কিতাব ও তাঁর নবীর সুন্নত।’ (মুয়াত্তা ইমাম মালিক, হাদিস : ১৬০৪)

ফিতনা থেকে আশ্রয় চাওয়া

যেকোনো অকল্যাণ থেকে মুক্তির জন্য দোয়া মুমিনের অন্যতম হাতিয়ার। দোয়াকারীকে আল্লাহ ভালোবাসেন এবং না চাইলে তিনি ক্ষুব্ধ হন। তাই রাসুল (সা.) দুনিয়া ও আখিরাতের সব ফিতনা এবং কবর ও জাহান্নামের শাস্তি থেকে বাঁচাতে এই দোয়া বেশি পাঠ করতেন।

উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিন আজাবিল কবরি, ওয়া মিন আজাবিন নারি, ওয়া মিন ফিতনাতিল মাহয়া ওয়াল মামাতি, ওয়া মিন ফিতনাতিল মাসিহিদ দাজ্জালি।’

অর্থ : ‘হে আল্লাহ, আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই কবরের শাস্তি থেকে, জাহান্নামের শাস্তি থেকে, জীবন ও মরণের ফিতনা থেকে এবং মাসিহ দাজ্জালের ফিতনা থেকে।’ (বুখারি, হাদিস : ১৩৭৭)


এই বিভাগের আরো খবর