বিশ্বকাপের আগে উত্তর আমেরিকায় ফুটবলের জনপ্রিয়তা বাড়ছে
ফিফা বিশ্বকাপকে সামনে রেখে উত্তর আমেরিকায় ফুটবলপ্রেমীর সংখ্যা উল্লেযোগ্যভাবে বেড়েছে। মঙ্গলবার প্রকাশিত নিলসেন এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত পাঁচ বছরে উত্তর আমেরিকায় ফুটবলভক্তের সংখ্যা ১০.৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১৩ কোটি ৬০ লাখেরও বেশি হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো- এই তিন আয়োজক দেশের দর্শক প্রবণতা নিয়ে পরিচালিত গবেষণায় দেখা গেছে, লিওনেল মেসি ২০২৩ সালে ইন্টার মিয়ামিতে যোগ দেওয়ার পর অনুষ্ঠিত লিগস কাপ টুর্নামেন্টের টেলিভিশন দর্শকসংখ্যা গড়ের তুলনায় ১৭৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছিল।
নিলসেন প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে, “ইন্টার মিয়ামির শিরোপা জয়ের ফলে এমএলএস কাপের দর্শকসংখ্যা ২০২৪ সালের তুলনায় ৯৭ শতাংশ বেড়েছে। এটি প্রমাণ করে যে, ফুটবলের প্রতি বাড়তি আগ্রহ থেকে দেশীয় লিগও লাভবান হচ্ছে।”
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৬ কোটি ২৫ লাখ সমর্থক নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম ফুটবল-সমর্থকভিত্তিক দেশ।
ফিফার এক মুখপাত্র বলেন, “নিলসেনের নতুন প্রতিবেদন উত্তর আমেরিকায় ফুটবলের জনপ্রিয়তার উল্লেখযোগ্য ও পরিমাপযোগ্য উত্থানকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে। এটি মহাদেশজুড়ে ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ আয়োজনের সিদ্ধান্তকে আরও যৌক্তিক প্রমাণ করে।”
গবেষণায় আরও দেখা গেছে ৬৪ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন ভবিষ্যতে ফুটবলের প্রতি তাদের আগ্রহ আরও বাড়বে। প্রায় এক-চতুর্থাংশ সমর্থক গত পাঁচ বছরের মধ্যে ফুটবল অনুসরণ করা শুরু করেছেন। প্রতি ১০ জনের মধ্যে প্রায় ৭ জন বলেছেন, বিশ্বকাপ ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে গত তিন বছরে তাদের আগ্রহ বেড়েছে।
উত্তর আমেরিকার মধ্যে মেক্সিকো এখনও সবচেয়ে শক্তিশালী ফুটবল বাজার। সেখানে ৬৩ শতাংশ মানুষের সম্পৃক্ততা নিয়ে ফুটবল সব খেলাধুলার মধ্যে শীর্ষে রয়েছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রে জনপ্রিয়তার দিক থেকে ফুটবল চতুর্থ এবং কানাডায় তৃতীয় স্থানে রয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের ফুটবল সমর্থকদের বড় অংশই তরুণ ও তুলনামূলকভাবে সচ্ছল। ৭৬ শতাংশ সমর্থক মিলেনিয়াল ও জেনারেশন জেড প্রজন্মের অন্তর্ভুক্ত। ইউরোপের তুলনায় সেখানে নারী সমর্থকদের অংশগ্রহণও বেশি।
উত্তর আমেরিকা জুড়ে ৭২ শতাংশ সমর্থক টেলিভিশন বা অনলাইন স্ট্রিমিংয়ের মাধ্যমে খেলা দেখেন। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমও ফুটবল অনুসরণের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে ভূমিকা রাখছে।