ব্রেকিং:
সংরক্ষিত নারী আসনের ভোট ৪ মার্চ ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নির্বাচন উপলক্ষে ১৮ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন.

মঙ্গলবার   ১৫ অক্টোবর ২০১৯   আশ্বিন ২৯ ১৪২৬  

সর্বশেষ:
সংরক্ষিত নারী আসনের ভোট ৪ মার্চ ওয়েজবোর্ডের বিষয়টিকে আমরা বিশেষভাবে গুরুত্ব দিচ্ছি
১৬১

চন্দনাইশের শুক্লাম্বর দিঘির পাড়ে ঢল নেমেছে পুণ্যার্থীর

ডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশিত: ১৬ জানুয়ারি ২০১৯  

 
উপজেলার বরমা ঐতিহ্যবাহী শুক্লাম্বর দিঘির মেলায় যার যার মনোবাসনা পূরণ করতে ঢল নেমেছে শুক্লাম্বর দিঘির পাড়ে। যে যার সাধ্যমত ছাগল, কবুতর, গাভীর দুধ, স্বর্ণালংকার দান ও প্রসাদ বিতরণ করেছেন। গতকাল ১৫ জানুয়ারি পৌষ সংক্রান্তির শেষে মাঘ মাসের প্রথমদিন বসে এ মেলা।

চন্দনাইশ উপজেলার ঐতিহ্যবাহী বরমা বাইনজুরী গ্রামে হিন্দু সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী শুক্লাম্বর দিঘি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের দর্শনীয় স্থান নামে পরিচিত। এ দিঘিতে মানত করে তাদের মনোবাসনা পূরণ হয় বলে তাদের ধারণা। প্রতি বছর ১ মাঘ এ দিঘিকে কেন্দ্র করে বসে বিশাল মেলা। সে মেলায় বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকাসহ পার্শ্ববর্তী ভারত, নেপাল, ভুটান থেকে আসে সনাতনী সম্প্রদায়ের বিভিন্ন পেশা ও শ্রেণির মানুষ।

মেলার দিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত পুণ্যার্থীদের ঢল নামে। স্থানীয়ভাবে জানা যায়, পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের নদীয়া থেকে ধর্ম প্রচারের জন্য আসা শুক্লাম্বর ভট্টাচার্যের ধর্মদেশনা স্থানে প্রায় দেড় শত বছর পূর্বে শুক্লাম্বর ভট্টাচার্যের নামে এ মেলা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন প্রয়াত নিত্যানন্দ বৈলয়। শুক্লাম্বর দিঘিকে কেন্দ্র করে পৌষ সংক্রান্তিতে এ মেলা দিঘির পাড়ে প্রতি বছর অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। ঐতিহ্যবাহী এ মেলায় পার্শ্ববর্তী ভারত, ভুটান, নেপালসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন বিভিন্ন মানত নিয়ে এ পীঠমন্দিরে আসে। মেলা ছাড়াও বছরের প্রতিদিন কেউ না কেউ এ পীঠমন্দিরে তাদের মানত নিয়ে আসতে দেখা যায়। তবে সরকারি ছুটি ও সাপ্তাহিক ছুটির দিনে এর সংখ্যা বেশি থাকে। 

স্থানীয়রা জানান, শুক্লাম্বর ভট্টাচার্য এ দিঘির পাড়ে বসে ধ্যানে মগ্ন থাকতেন। দীর্ঘদিন ধ্যান মগ্নে থাকার পর প্রায় দেড়শত বছর পূর্বে তিনি ইহজগত ত্যাগ করলে, তাকে এ দিঘির পাড়ে সমাহিত করা হয়। তার সমাহিত স্থানে একটি অশ্বত্থ বৃক্ষ বিশাল জায়গা জুড়ে স্মৃতি হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে। পূজারীরা এ অশ্বথ বৃক্ষের ডালে সুতা বাঁধে মনোবাসনা পূরণের আশায় এবং কবুতর ছেড়ে দেয়। মন্দিরের জন্য মানত করা শত শত ছাগল বলী দেয় এবং বিভিন্ন পূজনীয় দান মন্দিরে উৎসর্গ করে। তাছাড়া দিঘিতে মেলার দিনসহ বিভিন্ন সময়ে গাভীর দুধ ঢেলে দেয় এবং গোসল করে তাদের মনোবাসনা পূরণের জন্য। দিঘির পশ্চিম পাড়ে একটি শিবমন্দির রয়েছে। যেখানে হিন্দু সম্প্রদায়ের মহিলারা তাদের সন্তান-সন্ততীর জন্য মানত করে পূজা দেয় এবং তাদের সে মনোবাসনা পূরণ হয় বলেও তাদের বিশ্বাস। 

এছাড়া সারাবছর বিভিন্ন মানত নিয়ে পুণ্যের লক্ষ্যে দিঘিতে দুধ, ছাগল, কবুতর, ফল-ফলাদি উৎসর্গ করে থাকেন। তাদের মতে দিঘির পানিতে উৎসর্গকৃত দুধ পানির সঙ্গে না মিশে তলদেশে চলে যায়। তাছাড়া এক সময় ছেলেমেয়ের বিয়ের জন্য আবেদন জানালে বিয়ের সকল সরঞ্জাম দিঘিতে ভেসে উঠার অনেক গল্প-কাহিনীও রয়েছে এ রকম নানা উপাখ্যান আছে দিঘিকে ঘিরে। তাদের বিশ্বাস এখানে দুধ, ছাগল, কবুতর এমনকি সোনার অলংকার উৎসর্গ করলে মনের সব বাসনা পূর্ণ হবে। আর তাই সারা বাংলাদেশের হাজার হাজার হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের নানা মনের বাসনা পূরণের লক্ষ্যে মানুষগুলো একই মোহনায় মিলিত হয় শুক্লাম্বর দিঘিতে পৌষ সংক্রান্তির এ মিলন মেলায়। এখানে দিনব্যাপী চলে পূজা-উৎসব। সে সাথে প্রত্যেকে স্ব-স্ব ধ্যানে-জ্ঞানে মগ্ন থাকে পূজা-অর্চনায়। পুণ্যার্থীদের ভিড়ে এদিন উৎসবমুখর থাকে দিঘির চারিপাশ। 

মেলায় আসা পুণ্যার্থী পুরুষ-মহিলার একসাথে দিঘির চারপাশে ১০টি ঘাটে স্নান করার দৃশ্য লক্ষণীয়। সে সাথে অশ্বত্থ বৃক্ষে শত শত কবুতর অবস্থান করে, যা সবার নজর কাড়ে। একইভাবে পুণ্যার্থীদের দানের পাহাড় পড়ে যায় এ পীঠমন্দিরে যা ব্যবহার করে মন্দিরের পরিচালনা পরিষদ মন্দির সংস্কার ও নির্মাণ কাজ চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানা যায়। বর্তমানে এ পীঠমন্দির নির্মাণের জন্য ৪ কোটি টাকা ব্যয় করা হয়েছে। তাছাড়া পীঠমন্দিরকে ঘিরে বাউন্ডারি ওয়াল, ঘাটসহ অন্যান্য খাতে আরো ৫০ লক্ষ টাকা ব্যয়ের পরিকল্পনা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।


অনলাইন নিউজ পোর্টাল
অনলাইন নিউজ পোর্টাল
এই বিভাগের আরো খবর