স্ত্রী হত্যার দায়ে স্বামীর প্রাণদণ্ড
তের বছর আগে ভাটারা এলাকায় স্ত্রীকে শ্বাসরোধ করে হত্যার দায়ে স্বামী জীবন হোসেন ওরফে মুকুলকে প্রাণদণ্ড দিয়েছে আদালত।
ঢাকার দশম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম বুধবার এ রায় দেন।
সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী ফারুকুল ইসলাম দেওয়ান সাজার এই তথ্য জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, দণ্ডের পাশাপাশি আসামিকে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডও করা হয়েছে।
“জামিনে গিয়ে আসামি পলাতক রয়েছে। তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও জারি করা হয়েছে।"
মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, “২০১২ সালের মুকুল ও মোছা. ফাহিমা বেগম বিয়ে করেন। তাদের ৬ মাসের একটা ছেলে সন্তান রয়েছে। মুকুল চট্টগ্রামে বার্ণিচারের কাজ করত। মামলার ঘটনার কয়েক দিন আগে তারা ঢাকার ভাটারা এলাকায় আসে। মুকুল পরনারীর প্রতি আসক্ত ছিলেন। ফাহিমাকে নির্যাতন করতো।
“২০১৩ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ১০ টার দিকে রাতে খাওয়া-দাওয়া শেষে তারা ঘুমোতে যায়। পরদিন সকাল ৭ টার দিকে মুকুল ও ফাহিমার ছেলের কান্নার শব্দ শুনতে পায় প্রতিবেশীরা। তারা ফাহিমার পা বাঁধা অবস্থায় দেখেন।”
হত্যার অভিযোগ এনে পরদিন ফাহিমার বড় ভাই সিরাজুল ইসলাম ভাটারা থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় ফাহিমাকে ওড়না দিয়ে পা বেঁধে ‘শ্বাসরোধ করে হত্যার’ অভিযোগ আনা হয় মুকুলের বিরুদ্ধে।
মামলাটি তদন্ত করে ২০১৪ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর মুকুলকে অভিযুক্ত করে অভিযোগপত্র জমা দেন তদন্ত কর্মকর্তা ভাটারা থানার এসআই শহিদুল ইসলাম।
২০১৫ সালের ১ জুন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু হয়। মামলার বিচার চলাকালে আদালত ১৪ জন সাক্ষীর মধ্যে ৮ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করে। মামলার আত্মপক্ষ শুনানি, যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে এদিন মৃত্যুদণ্ডের রায় এল।