জানুয়ারিতে সড়কে ঝরেছে ৫৪৬ প্রাণ
জানুয়ারি মাসে সারাদেশে ৫৫২টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৫৪৬ জনের মৃত্যু হয়েছে, আর আহত হয়েছেন ১ হাজার ২০৪ জন।
এরমধ্যে কেবল বাইকেই ২০৯ টি দুর্ঘটনা ঘটেছে, যা মোট দুর্ঘটনার ৩৭.৮৬ শতাংশ; এসব বাইক দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে ২২৩ জনের, আর আহত হয়েছেন ১৩২ জন।
রোববার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানিয়েছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি বলেছে।
দেশের জাতীয়, আঞ্চলিক ও অনলাইন সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত দুর্ঘটনার খবর থেকে এই প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে বলে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি জানিয়েছে।
সংগঠনটি বলছে, সড়ক বাদে জানুয়ারিতে রেলপথে ৩৭টি দুর্ঘটনায় ৩৩ জনের মৃত্যু এবং ২৮ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া নৌ পথে ৮টি দুর্ঘটনায় ৭ জনের মৃত্যু, ৬ জন আহত ও ৩ জন নিখোঁজ রয়েছেন।
সে হিসেবে সড়ক, রেল ও নৌ-পথ মিলিয়ে জানুয়ারিতে মোট ৫৯৭ টি দুর্ঘটনায় ৫৮৬ জনের মৃত্যু এবং ১ হাজার ২৩৮ জন আহত হওয়ার তথ্য দেওয়া হয়েছে বিজ্ঞপ্তিতে।
জানুয়ারিতে বিভাগভিত্তিক সড়ক দুর্ঘটনার তথ্য দিয়ে বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়েছে, এ সময়ে সবচেয়ে বেশি ১৩২টি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে ঢাকা বিভাগে। এতে ১৩৩ জনের মৃত্যুর পাশাপাশি আহত হয়েছেন ৩২৮ জন।
আর গেল মাসে সবচেয়ে কম ২৯টি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে সিলেট বিভাগে, আর এতে ২৮ জনের প্রাণ গেছে।
জানুয়ারির দুর্ঘটনাগুলোর ধরন বিশ্লেষণ করে সংগঠনটি বলছে, জানুয়ারির সড়ক দুর্ঘটনার ৪৮.৩৬ শতাংশই গাড়ি চাপা দেওয়ার ঘটনা। এছাড়া ২৮.৬২ শতাংশ মুখোমুখি সংঘর্ষ, ১৬.৮৪ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে, ৫.৬১ শতাংশ অন্যান্য কারণে হয়েছে।।
মোট দুর্ঘটনার ৪২.৫৭ শতাংশ জাতীয় মহাসড়কে, ২৭.৮৯ শতাংশ আঞ্চলিক মহাসড়কে, ২৪.০৯ শতাংশ ফিডার রোডে ঘটেছে।
আর সারা দেশে সংঘটিত মোট দুর্ঘটনার ৪.৫২ শতাংশ ঢাকা মহানগরীতে, ০.৫৪ শতাংশ চট্টগ্রাম মহানগরীতে ও ০.৩৬ শতাংশ রেলক্রসিংয়ে হয়েছে।
যানবাহনের ধরণ বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়েছে, দুর্ঘটনার ঘটনাগুলোর মধ্যে ৮২৯ টি যানবাহনের তথ্য পাওয়া গেছে। এরমধ্যে ২৮.৪৬ শতাংশ মোটরসাইকেল, ২৩.৬৪ শতাংশ ট্রাক-পিকাপ-কাভার্ডভ্যান ও লরি, ১৪.৩৫ শতাংশ বাস, ১৩.৬৩ শতাংশ ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ইজিবাইক, ৫.৫৪ শতাংশ সিএনজিচালিত অটোরিকশা, ৯.০৪ শতাংশ নছিমন-করিমন-মাহিন্দ্রা-ট্রাক্টর ও লেগুনা, ৫.৩০ শতাংশ কার-জিপ-মাইক্রোবাস দুর্ঘটনায় পড়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠনটির পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী গেল মাসে সড়ক দুর্ঘটনার নানা কারণ তুলে ধরার পাশাপাশি এমন ঘটনা প্রতিরোধে বিভিন্ন সুপারিশের কথা বলা হয়।