বৃহস্পতিবার ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ফাল্গুন ৭ ১৪৩২, ০২ রমজান ১৪৪৭

জাতীয়

সরকারের ১৮০ দিনের অগ্রাধিকারে কী থাকছে?

 প্রকাশিত: ১১:০৫, ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

সরকারের ১৮০ দিনের অগ্রাধিকারে কী থাকছে?

নতুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাত ধরে দুই দশক পর আবার ক্ষমতায় আসা বিএনপি জনগণের মাঝে স্বস্তি ফিরিয়ে জয় করতে চায় আস্থা; দিতে চায় নিরাপত্তা। আর জীবনযাত্রার কষ্ট কমাতে অর্থনীতিতে ফেরাতে চায় সুবাতাস।

এজন্য নতুন সরকারের কাজের পরিধি ঠিক করতে নেওয়া হয়েছে ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা; যা নির্ধারণ করে দেবে সরকারের গতিমুখও।

সরকারের প্রথম দিনেই বুধবার মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠক থেকে শুরু করে মন্ত্রীদের প্রথম কর্মব্যস্ত দিনের আলাপচারিতা আর নতুন প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে আভাস পাওয়া গেছে কী কী করতে চায় সরকার।

দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, আইনশৃঙ্খলার উন্নতি, বিদ্যুৎ-জ্বালানির নিশ্চয়তা, দুর্নীতি বন্ধ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অস্থিরতা কাটানো, সেবামুখী প্রশাসন আর ব্যবসা-বাণিজ্যে ছন্দ ফেরানো রয়েছে প্রথমদিকের প্রাধান্যের তালিকায়।

এসবের মাধ্যমে চব্বিশের অভ্যুত্থানের পরের অনিশ্চতা ও অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কার অস্থিরতার দিনগুলোকে পেছনে ফেলতে চায় তারেকের সরকার।

একজন রাজনৈতিক বিশ্লেষক বলছেন, সরকারের অগ্রাধিকার তো থাকতেই হবে। তবে তারা কী করছেন সেটাই অধিক গুরুত্বপূর্ণ।

“ঘোষণার চেয়ে কার্যকর বাস্তবায়ন এবং তথ্যনির্ভর মূল্যায়নই শেষ পর্যন্ত সরকারের প্রতি জনআস্থা নির্ধারণ করবে,” যোগ করেন শিক্ষক ও কলামিস্ট খালিদুর রহমান।

নতুন সরকার তার প্রথম দিনেই আনুষ্ঠানিকভাবে সব অগ্রাধিকারের কথা বলছে না। তবে ছয় মাসের মধ্যে এসব বিষয়ের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার লক্ষ্য ঠিক করার কথা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেছেন একাধিক মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী।

সচিবালয়ে প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকে আলোচনাও হয়েছে এগুলো নিয়ে।

এ নিয়ে মন্ত্রীদের স্পষ্ট বার্তা দেওয়ার পর পৃথক বৈঠকে সচিব ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদেরও তার সরকারের মনোভাব স্পষ্ট করেছেন নতুন প্রধানমন্ত্রী।

দুই যুগ পর নির্বাসন ভেঙে দেশে ফেরার দিনে প্রথম বক্তৃতাতেও তারেক রহমান তার পরিকল্পনা থাকার কথা বলেছিলেন। এর ৫৫ দিন পর প্রধানমন্ত্রীর চেয়ারে বসার প্রথম দিনেই কয়েকটি অগ্রাধিকার তুলে ধরে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছেন তিনি।

এ নিয়ে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের সঙ্গে আলাপকালে একাধিক মন্ত্রীও সরকারের অগ্রাধিকার নির্ধারণ এবং সে অনুযায়ী কাজের ছক সাজানোর কথা বলেছেন। মন্ত্রণালয়ভিত্তিক অগ্রাধিকার তালিকা করা হচ্ছে বলে তথ্য দিয়েছেন তারা।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও কলামিস্ট খালিদুর রহমান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, নতুন সরকার ১৮০ দিনের যে অগ্রাধিকারভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা নিয়েছে, তা নীতিগতভাবে একটি ইতিবাচক এবং সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে সময়োপযোগী উদ্যোগ।

তার মতে, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান- এসবই বর্তমানে দেশের অর্থনীতি ও সামাজিক স্থিতিশীলতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র। বিশেষ করে কর্মসংস্থান সৃষ্টির প্রতিশ্রুতি তরুণ প্রজন্মের জন্য আশাব্যঞ্জক।

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের এই অধ্যাপক বলেন, তবে এই পরিকল্পনাগুলোর সফলতা নির্ভর করবে স্বচ্ছতা, প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহি এবং নীতির ধারাবাহিক ও বাস্তবভিত্তিক প্রয়োগের ওপর।

রোজার মাসের প্রথম চ্যালেঞ্জ

দুই দশক পর আবার ক্ষমতায় ফিরেছে ৪৮ বছরের পুরনো দল বিএনপি। দায়িত্ব নিয়েই রোজার মাসের কঠিন সময়ের সামনে পড়েছে তারেকের সরকার।

এ মাসে সব সময়ই দ্রব্যমূল্যের দাম চড়তে থাকে আর নাকাল হতে থাকে সীমিত আয়ের মানুষ। মাসটি কেমন কাটছে সেই নিক্তিতেই নতুন সরকারকে বিচার করবে জনগণ।

এ বিষয়ে নজর দিয়েছেন নতুন প্রধানমন্ত্রীও। এ চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার করণীয় নিয়ে মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকেই দিয়েছেন নির্দেশনা। পরে রাতে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণেও বলেছেন এ নিয়ে।

সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন সরকারের অগ্রাধিকারের কথা তুলে ধরেন। বলেন, রোজায় পণ্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, , আইনশৃঙ্খলা ঠিক রেখে মানুষকে নিরাপত্তার স্বস্তি দেওয়া এবং ইফতার ও তারাবিহের সময়কে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে বিদ্যুৎ ঠিক রাখা।

পরে জাতির উদ্দেশে দেওয়া প্রথম ভাষণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ বিষয়ে সরকারের ভাবনার কথা তুলে ধরেন।

ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এই মাসটিকে আপনারা ব্যাবসায় মুনাফা লাভের মাস হিসেবে পরিগণিত করবেন না। দ্রব্যমূল্য যাতে সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে না যায়–এ ব্যাপারে ব্যবসায়ীরা সতর্ক থাকবেন।”

অগ্রাধিকারের শীর্ষে কী

বিএনপির স্থায়ী কমিটির একাধিক নেতা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে নতুন সরকারের প্রথম কর্মপরিকল্পনার বিষয়ে কথা বলেছে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।

তারা বলছেন, সরকার প্রধানের তরফে প্রথম ১৮০ দিনের অগ্রাধিকার নিয়ে কাজ শুরুর নির্দেশনা পেয়েছেন তারা। এ পরিকল্পনার মধ্য মোটাদাগে চারটি বিষয়কে শুরুতে অধিক প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে।

বুধবার নতুন মন্ত্রিসভার অনেক সদস্যের বক্তব্যেও বিষয়গুলো উঠে আসে। প্রধানমন্ত্রীর জাতির উদ্দেশে ভাষণেও স্পষ্ট করেছেন অগ্রাধিকারগুলোর কয়েকটি।

কয়েকজন মন্ত্রী বলেন, আগামী কয়েকদিনের মধ্যে সরকারের পক্ষ থেকে পুরো কর্মপরিকল্পনা হাজির করা হবে। এর মধ্যে আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট প্রণয়ণের বিষয়টিও রয়েছে।

মন্ত্রিপরিষদের প্রথম বৈঠক শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সরকারের ১৮০ দিনের একটি অগ্রাধিকার নির্ধারণের কথা বলেন। এর বিস্তারিত পরে তুলে ধরা হবে বলে তখন বলেন তিনি।

বিএনপি সরকার কীভাবে দেশ চালাতে চায়, সেই বার্তা দিয়ে নতুন প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণে বলেছেন, “দেশের প্রতিটি সাংবিধানিক এবং সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান চলবে বিধিবদ্ধ নীতি নিয়মে। দলীয় কিংবা রাজনৈতিক প্রভাব প্রতিপত্তি অথবা জোর জবরদস্তি নয়, আইনের শাসনই হবে রাষ্ট্র পরিচালনার শেষ কথা।”

কড়া নজর আইনশৃঙ্খলায়

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ঠিক করাকে অন্যতম অগ্রাধিকার দিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে নির্দেশনা দিয়েছেন নতুন প্রধানমন্ত্রী।

পুলিশের সাংগঠনিক কাঠামো ঠিক করা, প্রতিটি থানাকে জবাবদিহির মধ্যে আনা, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করে অবিলম্বে ব্যবস্থা নিতে বলেছেন।

জ্যেষ্ঠ একজন মন্ত্রী বলেন, ১৮০ দিনের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে স্বাভাবিক অবস্থায় আনতে চান।

জাতির উদ্দেশে ভাষণে তারেক রহমানও জোর দিয়েছেন এ বিষয়ে।

তিনি বলেন, “আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং কঠোরভাবে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে জনগণের মনে শান্তি ও নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনাই হচ্ছে আমাদের সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার।”

সারাদেশে জুয়া এবং মাদকের বিস্তারকেও বর্তমান সরকার ‘আইনশৃঙ্খলা অবনতির অন্যতম কারণ’ বলে চিহ্নিত করেছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। সে কারণে জুয়া ও মাদক নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলাবাহিনী সবরকমের কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলেন তিনি।

তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, জনজীবনে শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার ‘সর্বোচ্চ উদ্যোগ’ গ্রহণ করছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও এ বিষয়ে জোর দেওয়ার কথা বলেছেন।

সচিবালয়ে নিজের দপ্তরে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি বলেন, দেশে আর কোনোভাবেই ‘মবের কোনো ঘটনা সহ্য করা হবে না। বাংলাদেশে মব কালচার শেষ। মব কালচারকে আর কোনোভাবে উৎসাহিত করা যাবে না।’

দুর্নীতিতে ছাড় নয়

চব্বিশের আন্দোলনের ভিন্ন বাস্তবতায় ৩০ বছর পর নতুন একজনকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পেয়েছে বাংলাদেশ। বাবা ও মায়ের পর সন্তান হিসেবে বাংলাদেশের প্রথম সরকারপ্রধান তারেক রহমান।

‘সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগানে দেশকে বদলানোর কথা বলে আসছেন তিনি। এর দুটি নজিরও প্রথম দিনে রেখেছেন।

যানজটের ভোগান্তি থেকে রাজধানীবাসীকে মুক্তি দিতে প্রথম দিনেই প্রধানমন্ত্রীর গাড়ি বহরের সংখ্যা কমানোর সিদ্ধান্ত দিয়েছেন তিনি। মন্ত্রিসভার বৈঠক নিজের অফিসের বদলে সচিবালয়ে করতে চেয়েছেন যাতে মন্ত্রীদের চলাচলে দিনভর যানজট লেগে না থাকে।

জনবান্ধন এমন সিদ্ধান্তের পাশাপাশি সরকারের ১৮০ দিনের অগ্রাধিকারের তালিকায় গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে দুর্নীতি কমিয়ে আনাকে। সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে স্বাভাবিক সম্পর্ক সৃষ্টি করাই সরকারের লক্ষ্য।

প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণে বলেছেন, বিএনপি থেকে নির্বাচিত কোনো এমপি সরকারি সুবিধা নিয়ে ট্যাক্স ফ্রি গাড়ি আমদানি করবেন না এবং প্লট সুবিধা নেবেন না।

“আমি আপনাদের সামনে বলেছিলাম, রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পেলে বিএনপি সরকার মহানবীর 'ন্যায়পরায়নতার' আদর্শ অনুসরণ করবে। আমি মনে করি, বিএনপির সংসদীয় দলের এইসব সিদ্ধান্ত 'ন্যায়পরায়নতার' আদর্শেরই প্রতিফলন।”

নজরে কর্মসংস্থানও

১৮০ দিনের অগ্রাধিকারে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করার উদ্যোগ নেওয়ার প্রক্রিয়াও রয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একজন কর্মকর্তা।

প্রধানমন্ত্রীও তার ভাষণে কর্মসংস্থান নিয়ে তার প্রতিশ্রুতির কথা স্মরণ করেন। বলেন, “দেশের কোটি কোটি শিক্ষার্থী এবং তরুণ যুবশক্তির উদ্দেশে বলতে চাই, মেধায় জ্ঞানে বিজ্ঞানে নিজেদেরকে যোগ্য করে গড়ে তোলার জন্য যতরকমের সহযোগিতা দেয়া যায়, সবরকমের সহযোগিতা দিতে বর্তমান সরকার প্রস্তুত। কর্মসংস্থান এবং কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার সুনির্দিষ্ট অঙ্গীকার নিয়ে বর্তমান সরকার যাত্রা শুরু করেছে।”

সমস্যার পাশাপাশি সম্ভাবনার কথা বলতে গিয়ে নতুন প্রধানমন্ত্রী দেশের বৃহৎ জনগোষ্ঠীকে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তরিত করার কথাও বলেন।

অগ্রাধিকার বাস্তবায়ন কীভাবে

একাধিক মন্ত্রীর সঙ্গে আলাপে জানা গেছে, প্রথম ১৮০ দিনের অগ্রাধিকার নিয়ে বৃহস্পতিবারও মন্ত্রণালয়ে বৈঠক হবে। এছাড়া প্রথম ১৮০ দিনের অগ্রাধিকার জুলাই সনদ স্বাক্ষরের প্রতিশ্রুতিপূরণের উদ্যোগও নেবে তারেক রহমানের সরকার।

জ্যেষ্ঠ মন্ত্রীরাও নিজেদের অগ্রাধিকারে চলমান সমস্যা সমাধানে মনোযোগ দেওয়ার কথা বলছেন।

ইতোমধ্যে সরকারের সিনিয়র একজন মন্ত্রী তার মন্ত্রণালয়ে স্থানীয় সরকারের অধীনে সকল শহরকে পরিচ্ছন্ন রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হওয়া রমজানে যেন বিদ্যুতের সমস্যা না হয়, রমজানে নিরবচ্ছিন্নভাবে মসজিদে বিদ্যুত সঞ্চালন থাকে সেজন্য বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু অধীনস্থ কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রীও মন্ত্রিপরিষদের প্রথম বৈঠকে রোজা, ইফতার, সেহরি, তারাবির সময় বিদ্যুতের অবাধ সঞ্চালনের নির্দেশনা দেন।

আগামী ১৮০ দিনে বিদ্যুতের নিরবচ্ছিন্ন সঞ্চালন কীভাবে স্থায়ী করা যাবে, সেদিকেও সরকারের বাড়তি মনোযোগ রয়েছে বলে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলেছেন।

একই দিন সরকারের নির্বাচনি ইশতেহারের আলোকে প্রণীত জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের ১০০ দিনের কর্মপরিকল্পনা এবং আগামী পাঁচ বছরের পরিকল্পনা সংবলিত বই প্রকাশ করেছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়।

এতে জ্বালানি নিরাপত্তা, দেশীয় সম্পদ অনুসন্ধান, স্বচ্ছতা বৃদ্ধি এবং ডিজিটাল রূপান্তরকে অগ্রাধিকার দিয়ে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার রূপরেখা তুলে ধরা হয়েছে।

পরিকল্পনায় দেশীয় গ্যাস উৎপাদন বাড়াতে ১৫০টি কূপ খননের উদ্যোগ নেওয়া এবং সেই লক্ষ্যে একটি ‘সমন্বিত রোডম্যাপ’ প্রণয়ন করার কথা বলা হয়েছে।

বুধবার রাতে ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমাদের দলের ইশতেহারের আলোকেই এই ১০০ দিনের কর্মপরিকল্পনা ও আগামী ৫ বছরের পরিকল্পনা প্রকাশ হয়েছে। আমরা আবারও কাল (বৃহস্পতিবার) আবার বসবো। তারপর বিস্তারিত পরিকল্পনা সরকার জানাবে।”

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সদ্য নিযুক্ত একজন কর্মকর্তা বলেন, প্রথম ১৮০ দিনের অগ্রাধিকার তালিকায় বাজেট প্রণয়ন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

নির্বাচনি ইশতেহারে দলের তরফে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ডের বাস্তবায়ন, ঋণ নির্ভর অর্থনীতি থেকে বেরিয়ে আসার চ্যালেঞ্জ আছে। যেগুলো সমাধান হবে অগ্রাধিকারযোগ্য।

বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে মঙ্গলবারই এ বিষয়ে স্পষ্ট করেছেন। ঋণ নির্ভর অর্থনীতি থেকে বেরিয়ে বিনিয়োগ বাড়ানোর চ্যালেঞ্জ বিএনপির সামনে বলে মনে করেন তিনি।

শিক্ষাক্ষেত্রে চলমান সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সমাধানের অগ্রাধিকারও রয়েছে সরকারের।

বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান মনে করেন, ৩১ দফার প্রতিশ্রুতির প্রধান বিষয়গুলো, যা প্রথম দিকে স্বল্প সময়ের মধ্যে করা যায়, তা বাছাই করে করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।’

যুগপৎ আন্দোলনে বিএনপির দীর্ঘদিনের শরিক ছিল গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি। সরকারে অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে তিনি।

বুধবার রাতে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে ১৮০ দিনের অগ্রাধিকারভিত্তিতে পরিকল্পনার বিষয়ে কাজ হচ্ছে। একটি স্বল্প, মধ্যম ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা আমাদের সরকার দেবে। আশা করি খুব শিগগির কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে।”