স্কুলে শিশু নির্যাতন: পবিত্র কুমার ৪ দিনের রিমান্ডে
ঢাকার পল্টনের স্কুলে শিশু নির্যাতনের মামলায় প্রশাসনিক কর্মকর্তা পবিত্র কুমার বড়ুয়াকে চার দিনের রিমান্ডে পেয়েছে পুলিশ।
মঙ্গলবার শুনানি নিয়ে এ আদেশ দেন ঢাকার অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম মো. সেফাতুল্লাহ।
‘শারমিন একাডেমিতে’ ভর্তি হওয়ার মাত্র সাত দিনের মাথায় শিক্ষকের হাতে ৪ বছরের এক শিশু নির্যাতনের শিকার হওয়ার অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনার একটি ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর বৃহস্পতিবার শিশুটির মা পল্টন থানায় মামলা করেন।
মামলায় স্কুলের অ্যাডমিন অফিসার পবিত্র বড়ুয়া এবং তার স্ত্রী শিক্ষক শারমিন জামানকে আসামি করা হয়। ঘটনা জানাজানি হলে স্কুল বন্ধ করে আসামিরা পালিয়ে যান।
শুক্রবার মিরপুরের এক আত্মীয়ের বাসা থেকে পবিত্র কুমারকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করে তাকে আদালতে পাঠানো হয়। তবে রিমান্ড আবেদন করেও তদন্ত কর্মকর্তা এসআই নুর ইসলাম আদালতে উপস্থিত না থাকায় সেদিন শুনানি হয়নি। পরে শুনানির জন্য মঙ্গলবার দিন ঠিক করা হয়।
এদিন পবিত্র কুমারকে আদালতে হাজির করা হয়। তবে তদন্ত কর্মকর্তা নুর ইসলাম অসুস্থতার কারণে আদালতে হাজির হতে পারেননি। তার পক্ষে পল্টন থানার এসআই সামীম হাসান আদালতে উপস্থিত হয়ে আদালতকে বলেন, “শিশুটি ১১ তারিখ থেকে স্কুল শুরু করে। সাত দিনের মাথায় ১৮ জানুয়ারি তার সাথে এমন ঘটনাটা ঘটে। তাকে মারধর করা হয়। স্ট্যাপলার মুখে ঢুকিয়ে দিতে দেয়।“
এসময় আদালত তদন্ত কর্মকর্তার কাছে জানতে চায়, ওই নারী কোথায়?
তদন্ত কর্মকর্তা আদালতকে জানান, তাকে পাওয়া যায়নি।
এরপর শিশুটিকে নির্যাতনের বিষয়ের চিত্র তুলে ধরে তার রিমান্ড মঞ্জুরের প্রার্থণা করেন তদন্ত কর্মকর্তা।
বাদীপক্ষে আইনজীবী সালেহ উদ্দিন রিমান্ড আবেদনের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। তিনিই ভিডিওটি সোশাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দিয়েছেন বলে আদালতকে জানান।
রাষ্ট্রপক্ষে সহকারী পিপি মুহাম্মদ শামছুদ্দোহা সুমন ও কাইয়ুম হোসেন রিমান্ড আবেদন মঞ্জুরের আর্জি জানান। আসামিরা এর আগে চট্টগ্রামেও শিশুদের সঙ্গে এমন আচরণ করেছে বলে তারা আদালতকে জানান।
উভয়পক্ষের শুনানি শেষে শুনানি শেষে বিচারক পবিত্র কুমারের কাছে শিক্ষার্থী নির্যাতনের কারণ জানতে চান।
তবে নির্যাতনের কথা অস্বীকার করে আসামি আদালতকে বলেন, “আমি ওরে মারিনি স্যার। তবে ও দুষ্টামি করছিল।”
এরপর বিচারক বলেন, “আপনি তো ওই স্কুলের অ্যাডমিন অফিসার, শিক্ষক না; শাসন করেন কীভাবে?”
তখন পবিত্র কুমার বলেন, “স্কুলে নার্সিং থেকে ক্লাস ফোর পর্যন্ত আছে। সবার কাছে জিজ্ঞাসা করেন, আমি কেমন?”
নির্যাতনের বিষয়ে তিনি বলেন, “ও ক্লাসে অন্য শিক্ষার্থীদের থু থু মারছিল। আমি বলেছিলাম, ‘মেরো না’। এরপর তো গার্ডিয়ান ডাকা হয়।”
পরে বিচারক বলেন, “আপনি স্ট্যাপলার দিয়ে মেরেছেন।”
অস্বীকার করে পবিত্র কুমার বলেন, ‘মারিনি’।
পবিত্র কুমারের বিরুদ্ধে স্কুলের কম্পিউটারের পাসওয়ার্ড না দেওয়ার অভিযোগ সম্পর্কে বিচারক জানতে চাইলে আসামি চুপ থাকেন।
পরে আদালত তার চার দিনের রিমান্ডের আদেশ দেয় বলে জানিয়েছেন প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই রুকনুজ্জামান।
বুধবার থেকে ফেইসবুকে ছড়িয়ে পড়া সিসিটিভির ভিডিওতে দেখা গেছে, এক নারী স্কুল ইউনিফর্ম পরা শিশুটিকে টেনেহিঁচড়ে একটি কক্ষে নিয়ে যান। কক্ষে ঢোকার মুহূর্তে শিশুটিকে চড়-থাপ্পড় দেওয়া হচ্ছিল। এরপর সেখানে বসে থাকা আরেকজনের কাছে অভিযোগের মতো কিছু বলছে বলে মনে হচ্ছে।
সোফায় বসিয়ে ভীতসন্ত্রস্ত শিশুটিকে বারবার চড় মারছেন এবং ধমক দিচ্ছিলেন ওই নারী। এক পর্যায়ে ওই পুরুষ ব্যক্তিটি একটি ‘স্ট্যাপলার’ হাতে শিশুটির কাছে এগিয়ে গিয়ে তার মুখে ‘স্ট্যাপল’ করে দেওয়ার ভান করে কয়েকবার চেপে ধরেন। ওই পুরুষ ব্যক্তিটি হাতের ইশারা দিয়ে শিশুটিকে বার বার থামতে বলছিলেন।
একপর্যায়ে পুরুষ ব্যক্তিটি কক্ষের বাইরে যান, আবার ফিরে এসে শিশুটির গলায় ধরে সোফায় চেপে ধরতে দেখা যায়।
ভিডিওতে দেখা যায়, ঘটনাটি ১৮ জানুয়ারি দুপুর ১ টার দিকের। ৪ মিনিট ১৩ সেকেন্ডের ওই ভিডিওটি শেয়ার দিয়ে অনেকেই এই ঘটনার বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তারা জড়িতদের শাস্তির পাশাপাশি স্কুলে পাঠানো শিশুদের অভিভাবকদের এ বিষয়ে আরো সচেতন হওয়ার কথা বলেছেন।