সোমবার ২৬ জানুয়ারি ২০২৬, মাঘ ১৩ ১৪৩২, ০৭ শা'বান ১৪৪৭

জাতীয়

পোস্টাল ব্যালট: কোথায় রাখা হবে, কী পদ্ধতিতে গণনা

 প্রকাশিত: ১১:৫৪, ২৬ জানুয়ারি ২০২৬

পোস্টাল ব্যালট: কোথায় রাখা হবে, কী পদ্ধতিতে গণনা

দেশের পোস্টাল ব্যালটে প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থীর নাম ও প্রতীক থাকবে-পরিপত্র জারি।

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের পোস্টাল ব্যালট পেপার প্রবাস থেকে আসা শুরু করেছে; সেসব গ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিচ্ছে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়।

প্রতি আসনে ৪০০ পোস্টাল ব্যালটের জন্য একটি করে বাক্স রাখা হচ্ছে। এবার ৩০০ আসনে প্রবাসে ও দেশে ১৫ লাখেরও বেশি নাগরিক পোস্টাল ভোটিংয়ে নিবন্ধন করেছেন।

১২ ফেব্রুয়ারি ভোটের দিন বিকালে সাড়ে ৪টার মধ্যে রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে যাদের ব্যালট পেপার পৌঁছাবে, তাদের ব্যালট গণনা করা হবে।

রোববার ঢাকা-১৩ ও ঢাকা-১৫ আসনের রিটার্নিং কর্মকর্তারা প্রার্থীদের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে পোস্টাল ব্যালটের স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স ‘লক’ করেছেন এবং তা গ্রহণের জন্য কক্ষ নির্ধারণ করেছেন।

রিটার্নিং অফিসার মো. ইউনুচ আলী নির্বাচনী প্রশিক্ষণ ইন্সটিটিউটে ব্যালট বাক্স ‘লক’ করার পর সাংবাদিকদের বলেন, “ওসিভি ও আইসিপিভি-ভোটের ব্যবস্থা হয়েছে এবার। পোস্টাল ব্যালটে যারা ভোট দেবেন, তাদের ব্যালট পেপার রাখার জন্য রিটার্নিং কর্মকর্তার কাযালয়ে কক্ষ স্থাপন করা হয়েছে। এ ভোটকক্ষে ঢাকা-১৩ আসনের জন্য ২৪টি ব্যালট বাক্স রয়েছে।”

ঢাকা-১৩ আসনে পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিতে নিবন্ধিত হয়েছেন ৫৬১৭ জন, আর ঢাকা-১৫ আসনে ৭৪০৫ জন।

ইউনুচ আলী বলেন, “প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের আমন্ত্রণ জানিয়েছি; তাদের উপস্থিতিতে বাক্স বন্ধ করাসহ সার্বিক কার্যক্রম করা হয়েছে। ১২ ফেব্রুয়ারি সবশেষ ডাক বিভাগের ডাক আসবে; নিয়ম অনুযায়ী বারকোড মেশিন দিয়ে, কিউআর কোড স্ক্যান করে যথাযথভাবে ল্যাপটপে ডিজিটালি সেভ করা হবে এবং ব্যালটের খামটি বাক্সে রাখা হবে।”

তিনি জানান, ব্যালট বাক্স, লক নম্বরসহ সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। প্রতিটি কক্ষে সার্বক্ষণিক পুলিশি নিরাপত্তায় থাকবে।

“১২ তারিখ সাড়ে ৪টার মধ্যে যেসব ব্যালট আসবে, তা বাক্সে রাখা হবে; এরপর এলে তা বাক্সে রাখা হবে না; আলাদাভাবে থাকবে।”

অতিরিক্ত আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা এএইচএম কামরুল হাসান বলেন, “প্রতিনিয়ত ডাক বিভাগ থেকে যেসব পোস্টাল ব্যালট আসবে, তা স্ক্যান করে, চেক করে রেজিস্ট্র এন্ট্রির করে বাক্সে রাখা হবে। ভোটগণনার সময় বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী প্রতিনিধিরাও উপস্থিত থেকে সব কিছু মিলিয়ে নেবেন; তারপর গণনা করা হবে।”

প্রবাসে সব প্রতীক, দেশের পোস্টালে প্রতিদ্বন্দ্বীর নাম ও প্রতীক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে পোস্টাল ব্যালট প্রাপ্তির পর করণীয় এবং পোস্টাল ব্যালট গণনা সংক্রান্ত বিশেষ পরিপত্র জারি করেছে নির্বাচন কমিশন।

প্রবাসের পোস্টাল ব্যালট পেপারে (ওসিভি) দলীয় ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের সব প্রতীক (নৌকা বাদ দিয়ে ১১৮টি প্রতীক ও ‘না’ ভোট) থাকবে। আর দেশের পোস্টাল ব্যালট পেপারে আসনভিত্তিক প্রার্থীর নাম ও প্রতীক থাকবে।

>> রিটার্নিং অফিসার পোস্টাল ভোটিংয়ের সফটওয়্যারে লগইন করার পর সংশ্লিষ্ট সংসদীয় আসনের নিবন্ধিত ভোটার সংখ্যা ও প্রদত্ত ভোটের সামগ্রিক চিত্র দেখতে পারবেন।

>> পোস্টাল ভোটের জন্য নিবন্ধিত ভোটার সংখ্যার ওপর ভিত্তি করে প্রতিটি আসনের জন্য সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসার প্রতি ৪০০ ব্যালটের (ব্যালটের খাম) জন্য একটি ব্যালট বাক্স ব্যবহার করবেন। প্রত্যেক ব্যালট বাক্সের উপর আসনের নম্বর ও নাম সম্বলিত স্টিকার যুক্ত করবেন।

>> লট বাক্স বন্ধ: ২১ জানুয়ারির পর থেকে পোস্টাল ব্যালট রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে পৌঁছানো শুরু হয়েছে। পোস্টাল ব্যালট সংরক্ষণের জন্য ব্যালট বাক্স প্রস্তুত রাখা হচ্ছে। পোস্টাল ব্যালট সংক্রান্ত কার্যক্রমের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জন্য ব্যালট বাক্স বন্ধ (লক) করার আগে প্রার্থী বা তার নির্বাচনী এজেন্টকে উপস্থিত থাকার জন্য দিন ও সময় উল্লেখ করে রিটার্নিং অফিসার লিখিত অনুরোধ করবেন। নির্ধারিত দিনে উপস্থিত সকলের উপস্থিতিতে প্রত্যেক আসনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক ব্যালট বাক্সের প্রত্যেকটিতে চারটি করে সিল/লক লাগাবেন। সিল/লক লাগানোর আগে প্রত্যেকটি বাক্স ও সিল/লক এর নম্বর উচ্চস্বরে পাঠ করবেন এবং উপস্থিত প্রার্থী বা নির্বাচনী এজেন্টকে তা লিপিবদ্ধ করতে বলবেন। কোনো ব্যালট বাক্স পোস্টাল ব্যালট দ্বারা পূর্ণ হয়ে গেলে ওই বাক্সের ঢাকনাটি পঞ্চম লক/সিল দিয়ে বন্ধ করে তা নিরাপদ স্থানে সংরক্ষণ করতে হবে।

>> ডাকযোগে আসা পোস্টাল ব্যালট পেপার সম্বলিত ফেরতগ্রহণ ও সংরক্ষণ: ডাক বিভাগ থেকে পাওয়া পোস্টাল ব্যালট গ্রহণ ও সংরক্ষণের জন্য রিটার্নিং অফিসার একজন কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেবেন। এছাড়া ডাক বিভাগ থেকে পাওয়া পোস্টাল ব্যালট স্ক্যানিংসহ অন্যান্য কাজে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে সহযোগিতা করার জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক সাপোর্টিং স্টাফ নিয়োগ দেবেন। দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ডাকযোগে পোস্টাল ব্যালটের খামগুলো পাওয়ার পর তার খামের উপরের কিউআর কোড স্ক্যান করবেন। এরপর আসন ভিত্তিক নির্ধারিত ব্যালট বাক্সে খামগুলো নিরাপত্তার সাথে সংরক্ষণ করবেন। কিউআর কোড স্ক্যান করার মাধ্যমে ফরম-১২ আকারে পোস্টাল ব্যালট বিতরণ ও প্রাপ্তির আসন ভিত্তিক তালিকা সফটওয়্যার থেকে জেনারেট হবে। দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা প্রতিদিন সফটওয়ার থেকে জেনারেট হওয়া ফরমে স্বাক্ষর করে তা সংরক্ষণ করবেন।

এছাড়া কিউআর কোড স্ক্যান করার সময় সফটওয়ারে কিউআর কোড ‘ডুপ্লিকেট’ হিসেবে দেখানো হলে রিটার্নিং অফিসার ব্যালটটি বাতিল করবেন। এক্ষেত্রে খামটি না খুলেই অন্যত্র সংরক্ষণ করবেন। কিউআর কোড স্ক্যানের জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম নির্বাচন কমিশন সরবরাহ করবে।

>> ভোটার কিউআর কোড স্ক্যান না করলে: প্রত্যেক ভোটারকে পাঠানো ভোটদান নির্দেশিকা অনুযায়ী, পোস্টাল ব্যালটের খাম পাওয়ার পরপরই ভোটাররা পোস্টাল ভোট বিডি মোবাইল অ্যাপে লগইন করে খামের উপর দেওয়া কিউআর কোডটি স্ক্যান করবেন। তাতে সিস্টেমে বুঝবে যে ভোটার ব্যালট পেপারটি হাতে পেয়েছেন। কিন্তু ভোটার যদি খামের উপর কিউআর কোড স্ক্যান না করেই ভোট দেন এবং খাম ফেরত পাঠান, তাহলে তা স্ক্যানের সময় সিস্টেমে শনাক্ত হবে না। ফলে ওই ব্যালটটি বাতিল বলে গণ্য হবে। এক্ষেত্রে খামটি না খুলেই অন্যত্র সংরক্ষণ করা হবে এবং এর হিসাব রাখা হবে।

>> পোস্টাল ব্যালট গ্রহণের সময়সীমা: ভোট গ্রহণের দিন অর্থাৎ আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ডাকযোগে আসা পোস্টাল ব্যালট গণনার অন্তর্ভুক্ত হবে। ওই সময়ের পরে পাওয়া ব্যালটের খাম স্ক্যান না করে এবং গণনা কার্যক্রমের আওতায় না এনে বাতিল হিসেবে আলাদাভাবে সংরক্ষণ করতে হবে।

>> পোস্টাল ব্যালট গণনা কার্যক্রম: পোস্টাল ব্যালট পেপার গণনার জন্য রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে বা অন্য কোনো সুবিধাজনক স্থানে আসন ভিত্তিক গণনা কক্ষ প্রস্তুত করতে হবে। ভোটগ্রহণের দিন, অর্থাৎ আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বিকাল সাড়ে ৪টার পরপর-ই প্রিজাইডিং অফিসাররা স্ব স্ব আসনের পোস্টাল ব্যালট ভর্তি বাক্সগুলো রিটার্নিং অফিসারের কাছ থেকে বুঝে নেবেন।

‘ওসিভি-এসডিআই’ প্রকল্পের টিম লিডার সালীম আহমাদ খান বলেন, “প্রবাসীদের পোস্টাল ব্যালট ফেরত আসার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। আর দেশের ভেতরে পোস্টাল ব্যালট কবে নাগাদ পাঠানো শুরু করা হবে তা দুতিন দিনের মধ্যে সিদ্ধান্ত হবে। আশা করি, দ্রুতই ব্যালট পাঠানো শুরু করা যাবে।”

>> দেশে ও প্রবাসে ১৫ লাখ ৩৩ হাজারের বেশি নিবন্ধন।

>> দেশের ভেতরে ৭ লাখ ৬১ লাখের বেশি; আর ৭ লাখ ৭২ হাজারের বেশি প্রবাসী বাংলাদেশি নিবন্ধন করেছেন।

>> দেশের ভেতরে সরকারি চাকরিজীবী, নির্বাচনি দায়িত্বপ্রাপ্ত এবং আর কারাগারে থাকা ব্যক্তিরা ডাকযোগে ভোট দিতে পারবেন।