রোববার ২৫ জানুয়ারি ২০২৬, মাঘ ১২ ১৪৩২, ০৬ শা'বান ১৪৪৭

ব্রেকিং

বাংলাদেশের বন্ধু, সাংবাদিক মার্ক টালি আর নেই ২৪ দিনে রেমিট্যান্স এলো ৩০ হাজার ২৯৪ কোটি টাকা পাবনা-১: নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেন বিএনপিতে যোগ দেওয়া আবু সাইয়িদ ভারতে হাসিনার বক্তব্যের অনুমতি দেওয়ার প্রতিবাদ বাংলাদেশের ১২ ফেব্রুয়ারি ফ্যাসিবাদ কবর দেওয়ার ডাক জামায়াত আমিরের ১২ ফেব্রুয়ারি ‘চাঁদাবাজ-দখলদাররা’ পরাজিত হবে: নাহিদ রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পে ব্যয় বাড়ল সাড়ে ২৫ হাজার কোটি টাকা প্রধান নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার রুল দুর্নীতির টুঁটি চেপে ধরা হবে: তারেক রহমান সাবেক সেনাপ্রধান আজিজ আহমেদের ভাই আনিসের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা সেহেরি ও ইফতার: ৯ মিনিট যোগ বা বিয়োগের হিসাব ‘ভুল ও ভিত্তিহীন’ কোভিড নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সমালোচনা ভুল: ডব্লিউএইচও প্রধান ন্যাটো বিতর্কের মাঝেও যুক্তরাজ্যের সেনাদের প্রশংসায় ট্রাম্প ভূমিধসে নিখোঁজদের খোঁজে ইন্দোনেশিয়ায় উদ্ধার তৎপরতা তরুণদের সঙ্গে মতবিনিময় তারেক রহমানের সাকিবকে জাতীয় দলের জন্য বিবেচনা করার ঘোষণা বিসিবির আইসিসির ‘দ্বৈত নীতি’র শিকার বাংলাদেশ: শহীদ আফ্রিদি

জাতীয়

নির্বাচনের সকল পর্যায়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হবে: সিইসি

 প্রকাশিত: ২২:২৫, ২৫ জানুয়ারি ২০২৬

নির্বাচনের সকল পর্যায়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হবে: সিইসি

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেছেন, আসন্ন গণভোট এবং ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সকল পর্যায়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হবে। এজন্য নির্বাচন কমিশন সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে।

আজ (রোববার) রাজধানীর হোটেল ওয়েস্টিনে এক ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন। নির্বাচনের সার্বিক প্রস্তুতি সম্পর্কে সংশ্লিষ্টদের অবহিত করতে নির্বাচন কমিশন এই ব্রিফিংয়ের আয়োজন করে।

সেখানে উপস্থিত ছিলেন কূটনৈতিক মিশনসমূহের প্রধান, বাংলাদেশস্থ জাতিসংঘের সংস্থাসমূহের প্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তারা।

সিইসি বলেন, গণতান্ত্রিক সংহতি এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের প্রতি জনআস্থা সুদৃঢ় করার ক্ষেত্রে আসন্ন গণভোট ও জাতীয় সংসদ নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

নির্বাচন কমিশনের প্রস্তুতি তুলে ধরে তিনি বলেন, পুরো নির্বাচনি প্রক্রিয়াকে স্বাধীন, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য করার লক্ষ্যে কমিশন কাজ করছে। নির্বাচনী প্রস্তুতি সমন্বিত ও বহুমাত্রিক পদ্ধতির মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে আইনগত সংস্কার, প্রাতিষ্ঠানিক প্রস্তুতি, অংশীজনদের সঙ্গে পরামর্শ এবং কার্যকর পরিকল্পনা প্রণয়ন।

সিইসি বলেন, দেশব্যাপী ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রমের মাধ্যমে প্রায় ৪৫ লাখ নতুন ভোটার নিবন্ধিত হয়েছেন। এর মধ্যে নারী ভোটার প্রায় ২৬ লাখ ৬৫ হাজার। বর্তমানে মোট নিবন্ধিত ভোটারের সংখ্যা ১২ কোটি ৭৬ লাখের বেশি। এ কার্যক্রমে জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা নির্বাচন কমিশনকে গুরুত্বপূর্ণ কারিগরি সহায়তা দিয়েছে; যা নিবন্ধন কার্যক্রমের সফলতায় উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছে।

সিইসি আরও জানান, নাগরিকদের দাবি, আইনগত নীতি ও ন্যায্যতার ভিত্তিতে দেশের ৩০০টি সংসদীয় আসনের সীমানা পর্যালোচনা করা হয়েছে। যেখানে যৌক্তিকতা পাওয়া গেছে, সেখানে নির্বাচনী এলাকার সীমানা পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে।

পোস্টাল ভোটিং প্রসঙ্গে এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেন, নির্বাচন কমিশন প্রথমবারের মতো বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি ভোটারদের জন্য তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোটদানের ব্যবস্থা চালু করেছে। এটি ‘আউট অব কান্ট্রি ভোটিং’ কাঠামোর আওতায় পরিচালিত হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, এ প্রক্রিয়ায় প্রায় ৮ লাখ প্রবাসী ভোটার নিবন্ধন করেছেন। দেশের অভ্যন্তরেও পোস্টাল ভোটিং ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। এর আওতায় নির্বাচনী এলাকার বাইরে কর্মরত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, নির্বাচন-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং আইনি হেফাজতে থাকা নিবন্ধিত ভোটাররা ভোট দিতে পারবেন।

সিইসি বলেন, নির্বাচনের সকল উপকরণ প্রস্তুত রয়েছে। ব্যালট পেপার মুদ্রণ কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এছাড়া নির্বাচন-সংক্রান্ত অভিযোগ ও বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার আরও বলেন, ভোটদানে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করতে দেশব্যাপী সচেতনতামূলক প্রচার কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। পাশাপাশি নির্বাচনের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চলছে।

বাংলাদেশ সরকার সংবিধানসম্মত দায়িত্ব পালনে নির্বাচন কমিশনকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা দিচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। 

সিইসি বলেন, নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং নির্বাচন-সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোকে কমিশন সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। শান্তিপূর্ণ, সুশৃঙ্খল ও নিরাপদ ভোটগ্রহণ পরিবেশ নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো কাজ করছে।

নির্বাচন প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নিতে কূটনীতিকদের অব্যাহত সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন তিনি।

ব্রিফিংয়ে আসন্ন নির্বাচনের বিভিন্ন পরিসংখ্যান তুলে ধরেন নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ।

তিনি জানান, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মোট ৫১টি রাজনৈতিক দল অংশগ্রহণ করছে। মোট প্রার্থীর সংখ্যা ১ হাজার ৯৯৪ জন। এর মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী ২৫৬ জন। নির্বাচনে ৮১টি দেশি নিবন্ধিত সংস্থার মোট ৫৫ হাজার ৪৫৪ জন পর্যবেক্ষক দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া নির্বাচনে বিদেশি পর্যবেক্ষক থাকবেন প্রায় ৫০০ জন।

আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ আরও জানান, নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে থাকবেন বিভিন্ন বাহিনীর ৯ লাখ ৪৩ হাজার ৫০ জন সদস্য। এছাড়া নির্বাচনে প্রায় ৮ লাখ কর্মকর্তা নির্বাচনি দায়িত্ব পালন করবেন। এর মধ্যে রিটার্নিং কর্মকর্তা ৬৯ জন, সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ৫৯৮ জন, প্রিজাইডিং অফিসার ৪২ হাজার ৭৭৯ জন, সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৮২ জন এবং পোলিং অফিসার ৪ লাখ ৯৫ হাজার ৭৬৪ জন। পাশাপাশি পোস্টাল ভোটের দায়িত্বে থাকবেন কমপক্ষে ১৫ হাজার কর্মকর্তা।

নির্বাচন-সংক্রান্ত পরিসংখ্যান উপস্থাপন শেষে কূটনীতিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ।

ব্রিফিংয়ে আরও উপস্থিত ছিলেন নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ, বেগম তাহমিদা আহমদ, মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকারসহ ৪১টি কূটনৈতিক মিশনের প্রধান, বাংলাদেশস্থ জাতিসংঘের ১১টি সংস্থার প্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তারা।

অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ।