ইরানের স্কুলে হামলা: যা জানা গেছে
মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ শুরুর প্রথম দিনে ইরানের একটি স্কুলে প্রাণঘাতী ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে অভিযুক্ত করেছে তেহরান।
প্যারিস থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানায়।
তবে ইসরাইল এই হামলার সঙ্গে কোনো ধরনের সম্পৃক্ততার কথা অস্বীকার করেছে। বুধবার ‘নিউ ইয়র্ক টাইমস’ এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, মার্কিন সেনাবাহিনীর হামলা লক্ষ্যভ্রষ্ট হওয়ার কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটে থাকতে পারে।
এএফপি এখনো ঘটনাস্থলে গিয়ে হামলার পরিস্থিতি বা ইরানি সংবাদমাধ্যমের দেওয়া প্রাণহানির সংখ্যা স্বতন্ত্রভাবে যাচাই করতে পারেনি। কারণ, তেহরানের বাইরে প্রতিবেদন তৈরির জন্য বিদেশি গণমাধ্যমগুলোকে ইরান সরকারের কাছ থেকে বিশেষ অনুমতি নিতে হয়।
হামলাটি সম্পর্কে এ পর্যন্ত যা জানা গেছে:
ইরানের বক্তব্য:
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি দক্ষিণ ইরানের মিনাব কাউন্টির গভর্নরের বরাত দিয়ে ইরানি সংবাদমাধ্যম প্রথম এই হামলা ও প্রাণহানির খবর জানায়। ওই দিনই ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলা শুরু হয়, যাতে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন।
মৃতের সংখ্যা দ্রুত বাড়তে থাকে এবং রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্যমতে, নিহত শিক্ষার্থীসহ অন্তত ১৬৫ জনের জানাজা সম্পন্ন হয়েছে। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেখানো হয়, সাদা কাফনে মোড়ানো মরদেহের সামনে শোকাতুর মানুষের কান্নার দৃশ্য। এছাড়া ইরানি পতাকায় মোড়ানো ছোট ছোট কফিনের ছবিও প্রকাশ করা হয়েছে, যার কয়েকটিতে ছিল শিশুদের ছবি।
তবে এএফপি ছবিগুলো কবে তোলা হয়েছে তা যাচাই করতে পারেনি এবং সরেজমিনে যেতেও পারেনি।
এদিকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এই হামলার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকেই দায়ী করেছেন।
ওয়াশিংটনের বক্তব্য:
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুরুতে এই হামলার জন্য ইরানকেই দায়ী করেছিলেন। তবে পরে তিনি জানান, তদন্তে যা আসবে তা তিনি মেনে নেবেন।
বুধবার নিউ ইয়র্ক টাইমস জানায়, লক্ষ্যবস্তু নির্ধারনে ভুলের কারণে একটি মার্কিন টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র স্কুলটিতে আঘাত হানে।
মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে পত্রিকাটি জানায়, তদন্ত এখনো চলছে, তবে প্রাথমিক তথ্যে দেখা গেছে যুক্তরাষ্ট্রই এর জন্য দায়ী।
মার্কিন বাহিনী পাশের একটি ইরানি ঘাঁটিতে হামলা চালানোর সময় পুরনো তথ্যের ভিত্তিতে লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণ করায় স্কুল ভবনটিতে আঘাত লাগে। এক সময় স্কুলটি ওই ঘাঁটিরই অংশ ছিল।
নিউ ইয়র্ক টাইমসের এই প্রতিবেদনের বিষয়ে জানতে চাইলে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি এ বিষয়ে জানি না।’
পত্রিকাটি আরও জানায়, মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড ও ডিফেন্স ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি পুরনো তথ্য ব্যবহার করায় এই ভুল হয়েছে। স্কুলটি রেভল্যুশনারি গার্ডের নৌবাহিনীর ব্যবহৃত ভবনের ব্লকেই অবস্থিত। ২০১৩ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে ভবনটিকে মূল ঘাঁটি থেকে আলাদা করে স্কুল করা হয়েছিল।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও গত সপ্তাহে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো স্কুলে হামলা চালাবে না।
ইসরাইলের বক্তব্য:
ইসরাইল শুরু থেকেই এই ঘটনায় জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করে আসছে। ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাদাভ শোশানি বলেন, ‘আমরা বারবার যাচাই করেছি এবং এই ঘটনার সঙ্গে ইসরাইলি বাহিনীর কোনো সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি।’
স্কুলটির অবস্থান:
নরওয়েভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা ‘হেনগাও’ জানায়, হামলার সময় স্কুলে সকালের ক্লাস চলছিল এবং সেখানে
প্রায় ১৭০ জন শিক্ষার্থী ছিল।
একটি পার্কিং লট থেকে ধারণ করা ভিডিওতে দেখা গেছে, রঙিন দেয়ালচিত্র সংবলিত একটি ক্ষতিগ্রস্ত ভবন থেকে কালো ধোঁয়া বের হচ্ছে। ভিডিওর অবস্থানটি মিনাব শহরের একটি ভবনের বলে নিশ্চিত করেছে এএফপি। ভবনটি রেভল্যুশনারি গার্ডের নিয়ন্ত্রিত দুটি স্থাপনার খুব কাছে অবস্থিত। এর মাত্র ২৩৮ মিটার দূরে একটি ক্লিনিক এবং ২৮৬ মিটার দূরে একটি সাংস্কৃতিক কেন্দ্র রয়েছে। তবে ভিডিওটি কবে ধারণ করা হয়েছে, তা এএফপি নিশ্চিত করতে পারেনি।