বৃহস্পতিবার ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ফাল্গুন ৬ ১৪৩২, ০২ রমজান ১৪৪৭

ব্রেকিং

দেশের আকাশে চাঁদ দেখা গেছে, বৃহস্পতিবার থেকে রোজা মন্ত্রীদের স্বজনপ্রীতির ঊর্ধ্বে থেকে কাজ করার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর দেশে ‘মব কালচার শেষ’: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জিয়াউল আহসান ‘সিরিয়াল কিলার’: সাবেক সেনাপ্রধান ঢাকায় ‘ফ্ল্যাট দুর্নীতি’: ব্রিটিশ এমপি টিউলিপকে গ্রেপ্তারে পরোয়ানা টাকা আত্মসাৎ: বসুন্ধরা চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে মামলা করবে দুদক যত দ্রুত সম্ভব স্থানীয় সরকারের ভোট: মন্ত্রী ফখরুল মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার স্বাভাবিক গতিতে চলবে: আইনমন্ত্রী নতুন সরকারের প্রথম দিন সূচক হারাল পুঁজিবাজার জিয়া ও খালেদার সমাধিতে শ্রদ্ধা মন্ত্রিসভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে নতুন প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব হলেন আব্দুস সাত্তার

ইসলাম

জিকির: বিষণ্ণতা থেকে মুক্তির পথ

 প্রকাশিত: ১৬:০৬, ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

জিকির: বিষণ্ণতা থেকে মুক্তির পথ

অধুনা বিশ্বে মানুষ উন্নতির চরম শিখরে পৌঁছেছে। সবকিছু পেয়েছে। মালিক হয়েছে—গাড়ি, বাড়ি, ধন-দৌলতসহ সুখ-প্রশান্তির যাবতীয় উপকরণের। তবুও দিন শেষে মানুষের মাঝে শান্তির হাহাকার। ‘ভালো লাগে না কিছুই’ এই বাক্যটি যেন একটা রোগে পরিণত হয়েছে আজকাল। কী এর নিরাময়? কীসে আছে এর মুক্তি?


মানুষের দেহ মাটির তৈরি। ফলে দৈহিক প্রশান্তি নশ্বর দুনিয়ার যাবতীয় উপকরণে সম্ভব হলেও আত্মিক প্রশান্তি তাতে অসম্ভব। কারণ, আত্মা মাটির তৈরি কোনো বস্তু নয়। এ আল্লাহ তায়ালার ফুঁকে দেওয়া এক নেয়ামত। সুতরাং আত্মিক প্রশান্তি সম্ভব আত্মার সৃষ্টিকর্তার নির্দেশিত পথেই। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘জেনে রাখ, আল্লাহর জিকির দ্বারাই অন্তরসমূহ প্রশান্ত হয়।’ (সুরা রা'দ: ২৮)  আর রাসূল সা. বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি তার প্রতিপালকের জিকির করে আর যে করে না, তাদের তুলনা জীবিত ও মৃতের ন্যায়।’ (সহিহ বুখারি: ৬৪০৭)

আমাদের ছোট-বড় গুনাহ, দৈনন্দিন কাজের চাপে কিংবা অবহেলায় আল্লাহ বিমুখতার কারণে অন্তরে মরিচা পড়ে যায়। সেই মরিচা দূর করার পথ হলো আল্লাহ তায়ালার জিকির। হযরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর রা. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল সা. বলেছেন, প্রত্যেক বস্তুর (পরিষ্কার করার জন্য) একটি পলিশ আছে, আর অন্তরের (পরিষ্কার করার জন্য) পলিশ হলো আল্লাহ তায়ালার জিকির। (মিশকাত শরিফ: ২২৮৬)


মানুষ জাগতিক সফলতার পিছু ছুটে। অথচ প্রকৃত সফলতা আল্লাহর জিকিরে। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘তোমরা আল্লাহকে অধিক পরিমাণে স্মরণ করো, যেন তোমরা সফল হতে পারো।’ (সুরা আনফাল: ৪৫)


নিরাপদ জীবন সকলেই চায়। মানুষ নিজেদের জীবনের নিরাপত্তার জন্য আইন প্রণয়ন করে। বডিগার্ড রাখে। তৈরি করে মজবুত বাড়ি। ক্রয় করে দামি বুলেটপ্রুফ গাড়ি। তবুও নিরাপত্তার অভাবে ভীত সবাই। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘আর যে আমার স্মরণে বিমুখ থাকবে, অবশ্যই তার জীবনযাপন হবে সংকুচিত এবং আমি তাকে কিয়ামতের দিন উঠাব অন্ধ অবস্থায়।' (সুরা তোয়াহা: ১২৪) সুতরাং আমাদের সবসময় আল্লাহর জিকিরে মগ্ন থাকা চাই। তাহলেই সম্ভব নিরাপদ জীবন। কারণ, জিকিরকারীর সঙ্গে আল্লাহ থাকেন। হাদিসে কুদসিতে আছে, হযরত আবূ হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সা. বলেছেন, আল্লাহ বলেন, আমি আমার বান্দার ধারণার অনুরূপ এবং আমি তার সঙ্গেই থাকি যখন সে আমাকে স্মরণ করে। যদি সে আমাকে মনে মনে স্মরণ করে; আমিও তাকে নিজে নিজে স্মরণ করি। আর যদি সে আমাকে মজলিসে স্মরণ করে, তবে আমিও তাকে তাদের চেয়ে উত্তম মজলিসে স্মরণ করি। (সহিহ বুখারি: ৭৪০৫)


আমলের মধ্যে সর্বোত্তম ও আল্লাহ তায়ালার নিকট প্রিয় আমল হলো তাঁর জিকির করা। আল্লাহ তায়ালা বলেন,  ‘অবশ্যই আল্লাহর স্মরণ (জিকির) সর্বশ্রেষ্ঠ।’ (সুরা আনকাবুত: ৪৫) আর রাসূল সা. বলেছেন, ‘আমি কি তোমাদের সর্বোত্তম ও আল্লাহর কাছে অধিকতর প্রিয় আমলের কথা বলব না, ...তিনি বলেন, তা হলো আল্লাহ তায়ালার জিকির।’ (তিরমিজি শরিফ: ৩৩৭৭)


সর্বোত্তম জিকির হলো লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ। হযরত জাবের ইবনে আবদুল্লাহ রা. বলেন, আমি রাসূল সা.-কে বলতে শুনেছি, ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ হলো উত্তম জিকির আর ‘আলহামদুলিল্লাহ’ হলো উত্তম দোয়া। (তিরমিজি শরিফ: ৩৩৮৩)


রাসূল সা.-এর নিকট সবচেয়ে প্রিয় জিকির ছিল চারটি: সুবহানাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, আল্লাহু আকবার। হযরত আবূ হুরাইরা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সা. বলেছেন, যখন তোমরা জান্নাতের বাগানসমূহের পাশ দিয়ে অতিক্রম করবে, তখন সেখান থেকে পাকা ফল সংগ্রহ করবে। বর্ণনাকারী বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল, জান্নাতের বাগানসমূহ কী? তিনি বললেন, মসজিদসমূহ। আমি আবার বললাম, হে আল্লাহর রাসূল, পাকা ফল সংগ্রহ করার অর্থ কী? তিনি বললেন, ‘সুবহানাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, আল্লাহু আকবার বলা।’ (তিরমিজি শরিফ: ৩৫০৯)