সিরীয় সীমান্তে ইসরাইলি হামলায় ৪ নিহত
লেবানন জানিয়েছে, দেশটির পূর্বাঞ্চলে সিরীয় সীমান্তের কাছে রোববার এক ইসরাইলি হামলায় চারজন নিহত হয়েছেন। একই সময়ে ইসরাইল বলেছে, তারা ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠী ইসলামিক জিহাদের সদস্যদের লক্ষ্য করে এ হামলা চালিয়েছে।
বৈরুত থেকে বার্তাসংস্থা এএফপি এ খবর জানায়।
২০২৪ সালের নভেম্বরে ইসরাইল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে এক বছরের বেশি সময়ের সংঘাত থামাতে যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়। তবে এরপরও লেবাননে নিয়মিত হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরাইল। অধিকাংশ ক্ষেত্রে তারা ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহকে লক্ষ্যবস্তু করার কথা বলেছে। মাঝে মধ্যে তাদের ফিলিস্তিনি মিত্র হামাসকেও লক্ষ্য করা হয়েছে।
যুদ্ধবিরতির পর এই প্রথম লেবাননে ইসলামিক জিহাদকে লক্ষ্য করে হামলার দায় স্বীকার করল ইসরাইল। ইসলামিক জিহাদও হিজবুল্লাহর মিত্র।
রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা জানায়, একটি ইসরাইলি ড্রোন ‘লেবানন-সিরিয়া সীমান্তে একটি গাড়ি লক্ষ্য করে’ হামলা চালায়। গাড়ির ভেতর থেকে ‘চারটি মরদেহ’ উদ্ধার করা হয়।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে নিহতের সংখ্যা নিশ্চিত করেছে।
ইসরাইলি সেনাবাহিনী এক বিবৃতিতে জানায়, তারা ‘মাজদাল আঞ্জার এলাকায় ফিলিস্তিনি ইসলামিক জিহাদের সন্ত্রাসীদের ওপর হামলা’ চালিয়েছে।
২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজা যুদ্ধকে ঘিরে ইসরাইল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে সংঘাত শুরু হয়। ওই সময় লেবাননে নিহতদের মধ্যে ইসলামিক জিহাদের যোদ্ধারাও ছিলেন।
ইসলামিক জিহাদ ও হামাস—দুই গোষ্ঠীই ওই সংঘাতের সময় লেবানন থেকে কয়েকটি হামলা ও অনুপ্রবেশের চেষ্টার দায় স্বীকার করেছিল।
যুদ্ধবিরতির পর থেকে লেবাননে ইসরাইলি হামলায় ৩৭০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদন অনুসরনকরে এএফপির হিসাব থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
২০২৪ সালের যুদ্ধবিরতি চুক্তির অংশ হিসেবে জানুয়ারিতে লেবানন সেনাবাহিনী জানায়, ইসরাইল সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করার সরকারি পরিকল্পনার প্রথম ধাপ সম্পন্ন হয়েছে।
রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে নিরস্ত্র করার উদ্যোগের অংশ হিসেবে গত বছর লেবাননের কয়েকটি শরণার্থী শিবিরে কিছু ফিলিস্তিনি গোষ্ঠী তাদের অস্ত্র লেবানন কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করে।
তবে হামাস ও তাদের মিত্র ইসলামিক জিহাদ লেবাননে নিরস্ত্র হওয়ার কোনো পরিকল্পনার ঘোষণা দেয়নি।