বুধবার ১৯ জুন ২০২৪, আষাঢ় ৬ ১৪৩১, ১২ জ্বিলহজ্জ ১৪৪৫

ফিচার

দিনাজপুরের বোচাগঞ্জে দুম্বার খামার

 প্রকাশিত: ১৩:২৩, ২৫ মে ২০২৪

দিনাজপুরের বোচাগঞ্জে দুম্বার খামার

দিনাজপুর জেলার বোচাগঞ্জ উপজেলায় শখের বশে মরুভূমির প্রাণি দুম্বার খামার গড়ে তুলেছেন আব্দুল হান্নান। পেশায় তিনি একজন ধান-চাল ব্যবসায়ী। ভারতের রাজস্থান থেকে দুম্বাগুলো সংগ্রহ করে এই খামার গড়েছেন তিনি।

শুক্রবার দুম্বা খামারে গিয়ে দেখা গেছে এই দুম্বার খামার। খামারের মালিক আব্দুল হান্নান জানান, কয়েক বছর আগে প্রথমে ভারতের রাজস্থান থেকে ৬টি দুম্বা সংগ্রহ করেছিলেন তিনি। সেই দুম্বা বেড়ে বর্তমানে ৩৫টি হয়েছে। পরম যতেœ প্রাণিগুলোকে লালন-পালন করছেন তিনি। খামারটি এক নজর দেখার জন্য প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে আসছেন দর্শনার্থীরা। কেউ চাইলে সেখান থেকে কোরবানির দুম্বা সংগ্রহ করতে পারবেন বলেও জানিয়েছেন ওই খামারি।

খামার শ্রমিকরা বলেন, আমরা প্রতিদিন দুম্বাগুলোকে নেপিয়ার ঘাস, ভুসি, ডাল ও ছোলা দিয়ে থাকি। দুম্বাগুলো স্বভাবে খুবই শান্ত প্রকৃতির। এজন্য দেখাশোনা করতে তেমন সমস্যা হয় না।

দুম্বা খামারি আব্দুল হান্নান বলেন, শখের বশেই আমার এই দুম্বার খামার গড়ে তোলা। তবে প্রতি বছর কোরবানির সময় দুম্বাগুলো প্রস্তুত করা হয়ে থাকে। কেউ চাইলে ক্রয় করতে পারে। গত কোরবানিতে বিক্রয় করা হয়েছিলো ৮ টি দুম্বা। আসন্ন কুরবানীর ঈদে বিক্রির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে ২০টি দুম্বা। আশা করছি প্রতিটি দুম্বার মূল্য ১ লাখ টাকা করে পাবো।

এর মধ্যেই বেশকিছু গ্রাহক তার খামারে এসে আসন্ন কুরবানী ঈদের জন্য দুম্বা পছন্দ করে গেছেন। অনেক ক্রেতা দর-দাম করছেন। চাহিদা মত দাম হলেই প্রস্তুত করা ২০ টি দুম্বা আসন্ন কুরবানীতে বিক্রি করবেন বলে নিশ্চিত করেন তিনি।

দিনাজপুর জেলা প্রাণিসম্পদ (ডিএলও) কর্মকর্তা ডা. আশিকা আকবর ত্রিশা বলেন, এবার জেলায় কোরবানির পশুর চাহিদা রয়েছে ২ লাখ ৬৪ হাজার ৫৭৬টি। প্রস্তুত রয়েছে ৩ লাখ ৯৮ হাজার ২০টি। চাহিদা পূরণ করেও অবশিষ্ট থাকবে ১ লাখ ৩৩ হাজার ৩৭৩টি কোরবানির পশু। জেলার অবশিষ্ট পশুগুলো অন্যত্র পাঠানো যাবে।

তিনি আরও বলেন, বৃহত্তর এই জেলায় গড়ে উঠেছে বিভিন্ন পশুর খামার। বর্তমান বোচাগঞ্জ উপজেলায় একটি দুম্বার খামারও গড়ে উঠেছে। এটা একটা ভাল উদ্যোগ। উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তারা তাদের নিজ নিজ এলাকার সকল খামারিদের সুপরামর্শসহ সেবা দিয়ে আসছেন। জেলা ও উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর থেকে খামারিদের সব ধরনের সহযোগিতা দিয়ে উৎসাহ প্রদান করা হচ্ছে।