বাকলিয়ায় ‘শিশু ধর্ষণ’: অভিযোগপত্র আমলে নিল আদালত
চট্টগ্রামের বাকলিয়ার চেয়ারম্যান ঘাটা এলাকায় সাড়ে তিন বছরের ‘শিশু ধর্ষণের’ ঘটনায় পুলিশের দেওয়া অভিযোগপত্র আমলে নিয়েছে আদালত।
সোমবার চট্টগ্রাম মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক সৈয়দা হাফছা ঝুমার আদালত অভিযোগপত্রটি আমলে নিয়ে অভিযোগ গঠনের শুনানির জন্য মঙ্গলবার দিন ধার্য করেন।
ট্রাইব্যুনালের পিপি মাহমুদ-উল আলম চৌধুরী মারুফ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আসামি মনির হোসেনের বিরুদ্ধে পুলিশের দেওয়া অভিযোগপত্রটি আমলে নিয়েছেন আদালত।”
সোমবার আসামি মনির হোসেনকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। শুনানি শেষে তাকে আবার কারাগারে পাঠানো হয়।
এরআগে গত ৪ জুন বিকেলে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বাকলিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) তানভীর আহমেদ আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন।
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধিত ২০০৩)-এর ৯ (১) ধারায় ধর্ষণের অভিযোগ আনা হয় আসামি মনির হোসেনের বিরুদ্ধে।
এর আগে শিশুটির ডিএনএ রিপোর্ট গ্রহণ এবং ১৬৪ ধারায় আসামির জবানবন্দি ও ভুক্তভোগী শিশুটির জবানবন্দি রেকর্ড করে পুলিশ। এই মামলার মোট ২২ জনকে সাক্ষী করা হয়।
গেল ২২ মে বিকেলে চট্টগ্রামের মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আবু বক্কর সিদ্দিকের আদালতে হাজির করার পর ‘স্বীকারোক্তিমূলক’ জবানবন্দি দিয়েছিলেন গ্রেপ্তার মনির হোসেন।
এর আগের দিন ২১ মে বিকেলে নগরীর বাকলিয়ার চেয়ারম্যান ঘাটা এলাকায় সাড়ে তিন বছর বয়সী এক শিশুকে স্থানীয় ডেকোরেটের কর্মচারী ৩২ বছর বয়সি মনির হোসেন ‘ধর্ষণ’ করেছেন বলে এলাকায় খবর ছড়িয়ে পড়ে। অভিযোগ পেয়ে পুলিশ গিয়ে তাকে আটক করে।
পুলিশ মনিরকে থানায় নেওয়ার চেষ্টা করলে এলাকাবাসী বাধ সাধেন, বলেন- তারাই ওই যুবকের ‘শাস্তি’ নিশ্চিত করবেন।
দুই ঘণ্টারও বেশি সময়ের চেষ্টায় সন্দেহভাজনকে নিয়ে আসতে না পেরে পুলিশ সন্ধ্যায় টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে। স্থানীয়রা জড়ো হয়ে পুলিশের গাড়ি ঘিরে ফেলে। দফায় দফায় সংঘর্ষে বাকলিয়া এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। পুলিশের একটি বড় ট্রাকে আগুন দেওয়ার ঘটনাও ঘটে। এসময় সাংবাদিকসহ অন্তত ৪০ জন আহত হন।
এই ঘটনায় শিশুটির বাবা বাদী হয়ে সে দিন গভীর রাতে বাকলিয়া থানায় মামলা করেন।
২২ মে পুলিশ জানিয়েছিল, ‘ধর্ষণের’ অভিযোগে গ্রেপ্তার মনির হোসেন পুলিশের কাছে ‘দোষ স্বীকার’ করেছেন।
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-কমিশনার (দক্ষিণ) হোসাইন মো. কবির ভূঁইয়া বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেছিলেন, “আমাদের জিজ্ঞাসাবাদে মনির হোসেন শিশুটিকে ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছেন। পরে তাকে আদালতে নেওয়া হলে সেখানেও স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। পরে আদালতের নির্দেশে আসামিকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
তিনি বলেছিলেন, “ঘটনার দিন ওই শিশুটির বাবা ঢাকায় ছিলেন এবং মা ছিলেন গার্মেন্টেসে। সেসময় শিশুটি তার নারীর সাথে ছিল। এ সুযোগে সন্দেভাজন মুনির কৌশলে শিশুটিকে ধর্ষণের চেষ্টা বা ধর্ষণ করেছে। তবে বিষয়টি মেডিকেল প্রতিবেদন পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।”
ঘটনার দিন শিশুটিকে উদ্ধারের পর চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ার স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।