বৃহস্পতিবার ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ফাল্গুন ৭ ১৪৩২, ০২ রমজান ১৪৪৭

ব্রেকিং

তারেক রহমানকে শুভেচ্ছা জানিয়ে ট্রাম্পের চিঠি হাসিনাকে ফেরানোর প্রক্রিয়া চালিয়ে যাওয়া হবে: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সরকারি দল সংস্কারের সঙ্গে প্রতারণা করেছে: নাহিদ বিদ্রোহের অভিযোগে দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ইউনের যাবজ্জীবন সচিবালয়েই অফিস করছেন প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তিন বাহিনীর প্রধানের সাক্ষাৎ ঈদের আগেই ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ শুরু: তথ্যমন্ত্রী ভারতীয় ভিসা প্রক্রিয়া দ্রুতই স্বাভাবিক হবে: সহকারী হাই কমিশনার আইজিপি বাহারুল স্বেচ্ছায় চলে যাচ্ছেন, আলোচনায় পুনরায় ডিএমপি কমিশনার সাজ্জাদ মিত্রদের সঙ্গে এআইয়ের ‘নিয়মের কাঠামো’ গড়তে বদ্ধপরিকর মাখোঁ ভারতে এআই সম্মেলনে ভাষণ বাতিল করলেন বিল গেটস শান্তি ও নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনাই প্রধান অগ্রাধিকার: প্রধানমন্ত্রী ইরানে নতুন কোনো মার্কিন হামলার বিরুদ্ধে সতর্কতা জানালেন ল্যাভরভ

ইসলাম

ইফতারের পূর্বে রাসুল (সা.) যে দোয়া পড়তেন

 আপডেট: ১৮:৫৯, ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

ইফতারের পূর্বে রাসুল (সা.) যে দোয়া পড়তেন

মুসলিম উম্মাহর কাছে রমজান মাস আত্মশুদ্ধি ও ত্যাগের এক অনন্য সময়। এই মাসের প্রতিটি মুহূর্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও ইফতারের ঠিক পূর্ব মুহূর্তটি অত্যন্ত বরকতময় এবং দোয়া কবুলের জন্য বিশেষভাবে নির্ধারিত। রাসুলুল্লাহ (সা.) এই সময়টিকে দোয়া কবুলের শ্রেষ্ঠ সময় হিসেবে অভিহিত করেছেন।

হাদিস শরিফের বর্ণনা অনুযায়ী, রোজাদার ব্যক্তি যখন দীর্ঘ সিয়াম সাধনা শেষে ইফতারের অপেক্ষায় থাকেন, তখন আল্লাহ তায়ালা তাঁর বান্দার আরজি কবুল করেন। মহানবী (সা.) নিজে ইফতারের আগে ও পরে নির্দিষ্ট কিছু দোয়া পাঠ করতেন এবং সাহাবায়ে কেরামকেও তা অনুসরণের শিক্ষা দিতেন।

রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘তিন ব্যক্তির দোয়া আল্লাহ তায়ালা কখনো ফিরিয়ে দেন না। তাদের মধ্যে রয়েছে- ন্যায়পরায়ণ শাসকের দোয়া, রোজাদারের দোয়া ইফতারের সময়, এবং মজলুমের দোয়া।’ (তিরমিজি, হাদিস: ২৫২৫)

ইফতারের পূর্বে রাসুল (সা.)-এর পাঠ করা তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দোয়া নিম্নে তুলে ধরা হলো-

১. সাধারণ দোয়া: রাসুলুল্লাহ (সা.) ইফতারের সময় এই দোয়াটি পড়তেন—

اللَّهُمَّ إِنِّي لَكَ صُمْتُ وَبِكَ آمَنْتُ وَعَلَيْكَ تَوَكَّلْتُ وَعَلَى رِزْقِكَ أَفْطَرْتُ

উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্নি লাকা সুমতু ওয়া বিকা আমান্তু ওয়া আলাইকা তাওয়াক্কালতু ওয়া আলা রিজকিকা আফতারতু।

অর্থ: হে আল্লাহ! আমি শুধু তোমার সন্তুষ্টির জন্য রোজা রেখেছি, তোমার ওপর ঈমান এনেছি, তোমার ওপর ভরসা করেছি এবং তোমারই দেওয়া রিজিকে ইফতার করছি। (আবু দাউদ, হাদিস: ২৩৫৮)

২. বিশেষ দোয়া: রাসুল (সা.) ইফতারের সময় আরও এই দোয়াটি পড়তেন—

ذَهَبَ الظَّمَأُ وَابْتَلَّتِ العُرُوقُ وَثَبَتَ الأَجْرُ إِنْ شَاءَ اللَّهُ

উচ্চারণ: যাহাবাজ জামা'উ ওয়াবতাল্লাতিল উরূকু ওয়া সাবাতাল আজরু ইনশাআল্লাহ।

অর্থ: পিপাসা দূর হলো, শিরাগুলো সিক্ত হলো এবং ইনশাআল্লাহ, সওয়াব স্থির হলো। (আবু দাউদ, হাদিস: ২৩৫৭; দারাকুতনি, হাদিস: ২৫)

৩. আল্লাহর সন্তুষ্টি কামনার দোয়া: রাসুল (সা.) আল্লাহর সন্তুষ্টি কামনা করে দোয়া করতেন—

اللَّهُمَّ أَسْأَلُكَ بِرَحْمَتِكَ الَّتِي وَسِعَتْ كُلَّ شَيْءٍ أَنْ تَغْفِرَ لِي

উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা আসআলুকা বি রাহমাতিকাল্লাতি ওয়াসিআত কুল্লা শাই'ইন আন তাকফিরালি।

অর্থ: হে আল্লাহ! তোমার সেই অসীম দয়ার বরকতে, যা সবকিছুকে আচ্ছাদিত করেছে, আমি তোমার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি।

(ইবনে মাজাহ, হাদিস: ১৭৫৩)

কেন এই সময়টি গুরুত্বপূর্ণ?

দীর্ঘ সময় ক্ষুধা ও তৃষ্ণা সহ্য করার পর যখন একজন মুমিন বান্দা ইফতারের সামনে বসেন, তখন তাঁর মধ্যে বিনয় ও আল্লাহর প্রতি চরম আনুগত্য প্রকাশ পায়। সৃষ্টির এই অসহায়ত্ব দেখে স্রষ্টা অত্যন্ত খুশি হন। তাই এই সন্ধিক্ষণে করা যেকোনো নেক মোনাজাত বা প্রার্থনা কবুলের সম্ভাবনা অনেক বেশি থাকে। এটি মূলত আল্লাহর পক্ষ থেকে রোজাদারদের জন্য এক বিশেষ উপহার।

তাই আমাদের উচিত ইফতারের সময় রাসুল (সা.)-এর শেখানো দোয়াগুলো পড়া এবং নিজের প্রয়োজনীয় দোয়াগুলো করা, যেন এসব দোয়ার উছিলায় আমরা আল্লাহর রহমত ও ক্ষমা লাভ করতে পারি।