সভ্যতার মুখোশের আড়ালে আধুনিক জাহেলিয়াত
পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেছেন—
“আর যখন জীবন্ত প্রোথিত কন্যাকে জিজ্ঞেস করা হবে— কোন অপরাধে তাকে হত্যা করা হয়েছিল?”(সূরা তাকভীর: ৮–৯)
আরবি শব্দ ‘আল-মাওউদাহ’ (المَوْءُوْدَةُ) অর্থ—জীবন্ত প্রোথিত কন্যা সন্তান। আইয়ামে জাহেলিয়াতে কিছু আরব গোত্র কন্যা সন্তানকে লজ্জা ও অপমানের কারণ মনে করে জীবন্ত মাটিতে পুঁতে ফেলত। ইসলাম এসে এই নিষ্ঠুর ও বর্বর প্রথার চূড়ান্ত অবসান ঘটায় এবং কন্যা সন্তানকে রহমত ও জান্নাতের সুসংবাদ হিসেবে ঘোষণা করে।
কিন্তু প্রশ্ন হলো:
আজকের তথাকথিত সভ্য বিশ্ব কি সত্যিই জাহেলিয়াতকে পেছনে ফেলতে পেরেছে?
ইতিহাসের সেই অন্ধকার যুগে কন্যা সন্তানকে সরাসরি হত্যা করা হতো। আর আধুনিক যুগে কন্যা শিশুদের অনেক সময় হত্যা করা হয় ধীরে ধীরে—পাচার, নিপীড়ন, শোষণ ও বিকৃত ভোগের মাধ্যমে। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন অনুসন্ধান, আদালতের নথি এবং ফাঁস হওয়া তথ্যে উঠে এসেছে, ক্ষমতার বলয়ে থাকা একটি শ্রেণি নারী ও শিশুদের পণ্য হিসেবে ব্যবহার করেছে। যৌন নিপীড়ন, ব্ল্যাকমেইল এবং মানবিক মর্যাদা ধ্বংসের ভয়াবহ চিত্র আজ আধুনিক দুনিয়ার এক অস্বীকারযোগ্য বাস্তবতা।
সবচেয়ে বেদনাদায়ক সত্য হলো—যারা সভ্যতা, মানবাধিকার ও শিশুঅধিকারের বড় বড় স্লোগান দেয়, অনেক ক্ষেত্রেই তাদের মধ্যেই নৈতিক অধঃপতনের সবচেয়ে ভয়ংকর দৃষ্টান্ত দেখা যায়। আধুনিক জাহেলিয়াত তাই আর কেবল ইতিহাসের পাতায় সীমাবদ্ধ নেই; এটি ক্ষমতা, প্রভাব ও বৈশ্বিক রাজনীতির আড়ালে নতুন ও ভয়াবহ রূপে হাজির হয়েছে।
আইয়ামে জাহেলিয়াতে কন্যা সন্তানকে কবর দেওয়া হতো মাটির নিচে। আর আজকের জাহেলিয়াতে কন্যা সন্তানকে কবর দেওয়া হয় জীবিত অবস্থায়—তার শৈশব, সম্মান ও মানবিকতা কেড়ে নিয়ে। এই বাস্তবতা তথাকথিত সভ্যতার দাবি ও মুখোশের ওপর গভীর প্রশ্ন তোলে।
এই প্রেক্ষাপটে কোরআনের সেই প্রশ্ন আজ আরও তীব্রভাবে প্রতিধ্বনিত হয়—
“কোন অপরাধে তোমাকে হত্যা করা হয়েছিল?”
হে আল্লাহ,
এই যুগের প্রকাশ্য ও গোপন সব জাহেলিয়াত, পাষবিকতা ও হিংস্রতা থেকে
মুসলিম উম্মাহসহ সমগ্র মানবতাকে হেফাজত করো।