১২ ফেব্রুয়ারি ফ্যাসিবাদ কবর দেওয়ার ডাক জামায়াত আমিরের
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, দেশে আর কোনো ফ্যাসিবাদী শাসন দেখতে চান না তারা। তাই আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ফ্যাসিবাদ কবর দেওয়ার ডাক দিয়েছেন তিনি।
জনগণের টাকায় কেনা অস্ত্র-গুলি কেন জনগণের বুকে ছোড়া হবে, এ প্রশ্ন তুলে তিনি বলেছেন, এসব ফ্যাসিবাদকে গোড়া থেকে উপড়ে ফেলতে হলে আগামী ১২ তারিখ ‘হ্যাঁ’ ভোট দিতে হবে।
রোববার (২৫ জানুয়ারি) যাত্রাবাড়ীর কাজলা ব্রিজে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আওতাধীন ঢাকা-৪ ও ঢাকা-৫ আসনের নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘হ্যাঁ’ মানে আজাদি আর ‘না’ মানে গোলামি। এই লড়াকু জাতি আজাদির জন্য লড়াই করে যাবে, ইনশাআল্লাহ। আজাদি অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত আমরা থামব না। বিজয় আমাদের নিশ্চিত হবে।
তিনি বলেন, জনগণ আর ‘বস্তাপচা রাজনীতি’ দেখতে চায় না। ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশই এখন মানুষের একমাত্র দাবি। যারা জনগণের এই দাবি বুঝতে চায় না, আগামী ১২ তারিখ জনগণ তাদের বুঝিয়ে দেবে।
চাঁদাবাজিকে নতুন ‘পেশা’ হিসেবে প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চলছে উল্লেখ করে জামায়াত আমির বলেন, পেশা হয় চাকরি বা ব্যবসা।
চাঁদাবাজি কোনো পেশা হতে পারে না। কেউ চাঁদাবাজের বাবা-মা বা সন্তান হতে চায় না। এ পথে জড়িতদের সম্মানজনক পেশায় ফিরে আসার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, না ফিরলে তাদের জন্য ‘লাল কার্ড’ দেখানো হবে।
তিনি আরও বলেন, জুলাইয়ের আন্দোলনে কওমি মাদরাসার শিক্ষার্থীরাও জীবন দিয়েছেন, অথচ অতীতের সব সরকারই তাদের অবহেলা করেছে। জামায়াত ক্ষমতায় এলে কওমি মাদরাসার শিক্ষার্থীদের আর কোনো অবহেলা করা হবে না বলে আশ্বাস দেন তিনি।
ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমরা দাড়িপাল্লা নিয়ে মাঠে নেমেছি ন্যায়বিচার কায়েম করতে। একই অপরাধে সাধারণ মানুষ বা প্রেসিডেন্ট, কারও জন্য আলাদা বিচার হবে না। মামা-চাচার প্রভাবে অপরাধীরা পার পেয়ে যাবে, এই সংস্কৃতির অবসান ঘটানো হবে বলেও জানান তিনি।
জনসভায় জামায়াতের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।