হে রমজান! তোমাকে জানাই বিদায়ী সালাম!
একটি মাস পূর্বে যখন তুমি ধরার বুকে আমাদের কাছে এসেছিলে, এক ফালি চাঁদের মাধ্যমে তোমার আগমন বার্তা আমাদেরকে জানিয়ে ছিলে, তখন আমরা তোমাকে বলেছিলাম আহলান সাহলান মাহে রমজান!
আর আজ!
তোমাকে বিদায় জানাতে আমাদের খুবই কষ্ট হচ্ছে। জানিনা এটাই তোমার সাথে আমাদের এ দুনিয়ায় শেষ সাক্ষাৎ কিনা। মহান আল্লাহ তা'আলা যেন এটাকে শেষ সাক্ষাৎ না করেন। আমিন।
হে কুরআন অবতরণের মাস!
তুমি আসার পর থেকে আমাদের মধ্যে কুরআন তেলাওয়াতের জোয়ার শুরু হয়েছিল। বিশেষভাবে তারাবির নামাযে যখন দাঁড়াতাম আর সুমধুর কন্ঠে তেলাওয়াত শুনতাম তখন আমাদের দেহ মন জুড়িয়ে যেত। আজ থেকে আর সেই তেলাওয়াত আমরা শুনতে পাব না। তোমার কারণে দিনের বেলা বেশি বেশি তেলাওয়াত করার তৌফিক হয়েছে। কাবা শরীফ থেকে শুরু করে পৃথিবীর প্রান্তে প্রান্তে যত মসজিদ আছে সব জায়গায় তেলাওয়াতের সুরে আকাশ বাতাস মুখরিত হয়ে উঠেছে।
হে লাইলাতুল কদরের মাস!
তোমার কারণে একটু বেশি করে নিশি জাগরণ করে ইবাদাত বন্দেগী করার তৌফিক হয়েছে। নয়ন যুগল অশ্রুসিক্ত হয়েছে। একটু বেশি করে দোয়া চাওয়ার তৌফিক হয়েছে। মহান আল্লাহ তায়ালা যেন সব দোয়াগুলোকে কবুল করেন। আমিন।
হে রহমতের মাস!
তোমার কারণে মহান আল্লাহ তায়ালা আমাদের উপরে করুণার বৃষ্টি বর্ষণ করেছেন। আমরা সেই বৃষ্টিতে সিক্ত হয়েছি। এভাবে যেন আমরা সর্বদা ও সর্বত্র তাঁর করুণার বৃষ্টিতে সিক্ত থাকতে পারি। মাটির উপরে ও নিচে। আমিন।
হে মাগফিরাতের মাস!
তোমার কারণে আমরা একটু বেশি করে ইস্তিগফার করার সুযোগ পেয়েছি। মহান আল্লাহ তায়ালা যেন আমাদের সকল ইস্তিগফারকে কবুল করে আমাদেরকে মাফ করে দেন। আমিন।
হে নাজাতের মাস!
তোমার কারণে আমরা বেশি বেশি করে জাহান্নাম থেকে নাজাতের দোয়া চেয়েছি। মহান আল্লাহ তায়ালা যেন আমাদের সকলকে জাহান্নামের আগুন থেকে চির মুক্তি দান করেন। আমিন।
হে ফিতরা প্রদানের মাস!
তোমার কারণে আমরা অনেক গরিব মানুষকে সাহায্য করতে পেরেছি। মহান আল্লাহ তায়ালা আমাদের সকল ফিতরাকে কবুল করুন। আমিন।
হে সাহরি ও ইফতারের মাস!
তুমি আমাদের জীবনের রুটিনকে বদলে দিয়েছিলে। তোমার কারণে আমাদের খাওয়া-দাওয়ার রুটিন সব পরিবর্তন হয়ে গিয়েছিল। মসজিদের আযানের অপেক্ষায় সকলে প্রহর গুনতাম। মসজিদের সিগনালেই চলতাম।
হে এতেকাফের মাস!
তোমার কারণে আমরা মসজিদের বাসিন্দা হয়েছিলাম। তোমার বিদায়ে আমরাও মসজিদ থেকে বিদায় নেব।
প্রিয় রমজান!
তোমার সাথে যেভাবে আপ্যায়ন করার দরকার ছিল সেভাবে আমরা আপ্যায়ন করতে পারিনি। সেজন্য আমাদেরকে ক্ষমা কর। মহান প্রভুর কাছে আমাদের বিরুদ্ধে যেন কোন অভিযোগ দিও না।
হে তাকওয়া অর্জনের মাস!
তোমার কারণে আমরা মহান আল্লাহ তায়ালাকে খুব কাছে মনে করেছিলাম। তাঁর ভয়ে দিনের বেলা পানাহার বর্জন করেছিলাম। অনেক বিষয়ে সংযম অবলম্বন করেছিলাম।
হে সিয়াম সাধনার মাস!
তুমি এসেছিলে আমাদের সকল গুনাহগুলো পুড়িয়ে দিতে। আমাদের অন্তরগুলোকে পবিত্র করতে। আমাদেরকে জান্নাতে যাওয়ার উপযুক্ত বানাতে। মহান আল্লাহ তাআলা আমাদের সকলকে যেন জান্নাত দান করেন। আমিন।
হে ভালোবাসার রমজান!
আজ তোমাকে বিদায় জানাতে আমাদের বুক ফেটে যাচ্ছে। যেন মনে হচ্ছে আমরা অন্য একটি জগতের বাসিন্দা হতে যাচ্ছি। তুমি যেনো জান্নাতে গিয়ে আমাদের কথা ভুলে যেও না। জান্নাতীদের সাথে আমাদের কথা বল। তাদেরকে আমাদের সালাম দিও। আর তাদেরকে বলে দিও আমরাও তাদের সাথে শিগগির মিলিত হব ইনশাআল্লাহ।
মহান আল্লাহ তায়ালা বাঁচিয়ে রাখলে আবার তোমার সাথে আমরা পরের বছর সাক্ষাৎ করব ইনশাআল্লাহ। তাঁর কাছে আমাদের বুক ভরা আশা তিনি আমাদেরকে যেমন দুনিয়াতে তোমার সাথে আমাদেরকে সাক্ষাৎ করাচ্ছেন তেমন আখেরাতেও সাক্ষাৎ করাবেন।
হে বিদায়ী বন্ধু!
তুমি আমাদের জন্য দোয়া কর যেন আমরা তোমার প্রশিক্ষণ অনুযায়ী জীবন যাপন করতে পারি। সর্বদা মহান আল্লাহ তায়ালাকে স্মরণে রাখতে পারি।পাপমুক্ত জীবন গঠন করতে পারি। সর্বদা ও সর্বত্র পবিত্র ভাবে জীবন যাপন করতে পারি। সকলের সাথে মিশে চলতে পারি। ভেদাভেদ ভুলতে পারি। সুখে দুখে মানুষের পাশে দাঁড়াতে পারি। বেশি বেশি করে ইবাদাত বন্দেগি করতে পারি। কুরআনের আলোয় আলোকিত হতে পারি। সর্বোপরি তোমার চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে একটি আলোকিত জীবন গঠন করতে পারি। যে জীবন আমাদেরকে ন্যায় ও সত্য পথে পরিচালিত করবে। সর্বদা আলোকিত পথ দেখাবে। যে পথ ধরে আমরা পৌঁছে যাব চিরস্থায়ী নিবাস ও নিয়ামতে পরিপূর্ণ জান্নাতের রাজপথে। যে পথের শেষে সাক্ষাৎ হবে মহান প্রভু দয়াময় আল্লাহ তায়ালার সাথে। যা দেখে ধন্য হবে আমাদের মানব জীবন! পূর্ণ হবে জীবনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য!
মহান আল্লাহ তায়ালা যেন আমাদের ও তোমার মনের আকুতিকে কবুল করেন। আমিন।