ঈদযাত্রা: ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ‘তুলনামূলক স্বস্তি’
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা অংশে দীর্ঘদিন পর ঈদযাত্রায় দেখা গেছে স্বস্তির চিত্র। নেই কোনো যানজট বা দীর্ঘ ভোগান্তি।
স্বাভাবিক গতিতে চলাচল করছে দূরপাল্লার বাস, ব্যক্তিগত গাড়ি ও পণ্যবাহী যানবাহন। ফলে যাত্রীরা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই পৌঁছাতে পারছেন নিজ নিজ গন্তব্যে।
কুমিল্লার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে সড়কের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে কাজ করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। পাশাপাশি মাঠে সক্রিয় রয়েছে সেনাবাহিনী ও রোভার স্কাউট সদস্যরা। তাদের সমন্বিত তৎপরতায় মহাসড়কের এই অংশে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখা সম্ভব হয়েছে। চুরি, ছিনতাই রোধেও ভূমিকা রাখছেন তারা।
সড়কের কুমিল্লা অংশের বিভিন্ন পয়েন্ট ঘুরে দেখা যায়, ব্যস্ত মোড় ও সংযোগ সড়কগুলো বৃহস্পতিবার স্বাভাবিক রয়েছে। বিশেষ করে দাউদকান্দি, চান্দিনা, নিমসার বাজার, ক্যান্টনমেন্ট, আলেখারচড়, কোটবাড়ি ও পদুয়ার বাজার এলাকায় যেখানে সবসময় যানজট থাকে সেই সব স্থানের কোথাও নেই দীর্ঘ যানবাহনের সারি কিংবা স্থবিরতা।
সব মিলিয়ে কুমিল্লা অংশে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বর্তমান পরিস্থিতি যাত্রীদের জন্য স্বস্তিদায়ক এক অভিজ্ঞতা তৈরি করেছে।
ঢাকা থেকে কুমিল্লা এসেছেন ব্যাংক কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম সুজন। তিনি বলেন, “এক ঘণ্টা ৪৫ মিনিটেই সায়েদাবাদ থেকে কুমিল্লায় পৌঁছেছি। মহাসড়কে যানজট নেই। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যাপক উপস্থিতি দেখেছি। এমন দৃশ্য এর আগে কখনো দেখা যায়নি।”
আলেখারচর বিশ্বরোড এলাকায় ট্রাফিকের দায়িত্ব পালন করছেন রোভার স্কাউটের সদস্য সাজিদুর রহমান জেমস। তিনি বলেন, “গতকালের তুলনায় আজকে মহাসড়কে যানজটের চাপ কিছুটা কম মনে হচ্ছে। তবে দুপুরের পর চাপ বেশি থাকে।
“স্থানীয় মাইক্রোবাস এবং বাস চালকরাই মহাসড়কে প্রতিটি বাজারে যানজট সৃষ্টি করছে। এ ছাড়া মহাসড়কে বড় ধরনের কোনো যানজটের চিত্র আমরা দেখিনি। আমাদের অর্ধশতাধিক রবার স্কাউট টিম সদস্য মাঠে কাজ করছে।”
দাউদকান্দি আমিরাবাদ হাইওয়ে থানার ইনচার্জ ইকবাল বাহার মজুমদার বলেন, দাউদকান্দি এলাকায় গত দুদিন গাড়ির প্রচণ্ড চাপ ছিল। তবে কোনো যানজটের সৃষ্টি হয়নি।
“আশা করছি, এবার ঈদে মহাসড়কে কোনো দুর্ঘটনা না ঘটলে নির্বিঘ্নে বাড়ি ফিরতে পারবে মানুষ।”
হাইওয়ে পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি শাহিনুর আলম বলেন, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের দাউদকান্দি থেকে টেকনা পর্যন্ত ঈদে মানুষের বাড়ি ফেরা নিশ্চিত করতে মহাসড়কে কাজ করছে প্রায় নয় শতাধিক পুলিশ সদস্য। এখনো পর্যন্ত বড় ধরনের কোনো যানজট হয়নি। ২৪ ঘণ্টা পুলিশ মহাসড়কে অবস্থান করছে।