‘নরকের দুয়ার খোলা রাখব’, মার্কিন ঘাঁটি, জাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র মেরে বলল ইরান
সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি হত্যাকাণ্ডের প্রতিশোধের অঙ্গীকার করার কয়েক ঘণ্টা পর ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন দিয়ে আরেক দফা তুমুল হামলা চালিয়েছে ইরান।
তাদের হামলার পর সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে ও কাতারের রাহধানী দোহার ওপর একাধিক বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কাতার ওয়াশিংটনের ঘনিষ্ঠ মিত্র। তেহরানের শত্রুর পাশে থাকলে পরিণতি ভোগ করতে হবে— প্রতিবেশী দুই দেশে হামলা চালিয়ে ইরান এই বার্তাই দিতে চাইছে বলে জানিয়েছে এনডিটিভি।
এদিকে ইরানের বিপ্লবী রক্ষীবাহিনী আইআরজিসি জানিয়েছে, অপারেশন ট্রু প্রমিজের পঞ্চম ধাপে দুবাইয়ের জেবেল আলিতে মার্কিন নৌযানগুলোর জন্য গোলাবারুদ বহন করা একটি জাহাজে তাদের চারটি ড্রোন আঘাত হানার পর বিস্ফোরণ ও ক্ষয়ক্ষতির ঘটনায় ওই জাহাজটি পুরোপুরি অকার্যকর হয়ে পড়েছে।
“কুয়েতের আবদুল্লাহ মোবারক এলাকায় মার্কিন নৌ ঘাঁটিতে ৪টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ১২টি ড্রোন আঘাত হেনেছে, সেখানকার সব স্থাপনা ধ্বংস হয়ে গেছে এবং বিপুল সংখ্যক মার্কিন সেনা হতাহত হয়েছে।
“ভারত মহাসাগরে থাকা মার্কিন নৌযানের জন্য জ্বালানি নিয়ে যাওয়া একটি এমএসটি-শ্রেণির যুদ্ধ সহায়ক জাহাজেও ইরানের একটি কাদের ৩৮০ ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে।
“বিমানবাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে আইআরজিসি নৌবাহিনী শত্রুদের ইউনিটগুলোর জন্য নরকের দরজা খোলা রাখবে,” বলেছে তারা।
ইরান বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত দুবাই বিমানবন্দরেও হামলা চালিয়েছে, শনিবার ওয়াশিংটন-তেল আবিব ও তেহরানের পাল্টাপাল্টি হামলার সময় থেকেই এ বিমানবন্দরটি বন্ধ রাখা হয়েছিল। বিমানবন্দরের আগে ইরান দুবাইয়ের বিখ্যাত স্থলদ্বীপ পাম এবং বিলাসবহুল হোটেল বুর্জ আল আরবেও হামলা চালিয়েছিল।
ইরানের বিমানবাহিনী পারস্য উপসাগরের দেশগুলোতে থাকা মার্কিন ঘাঁটি ও ইরাকের কুর্দিস্তানে হামলা চালিয়েছে।
তেহরানের সঙ্গে আলোচনা থমকে যাওয়ার পর শনিবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরান ফের পারমাণবিক কর্মসূচি শুরু করেছে এই অভিযোগ এনে তেহরানসহ একাধিক শহরে সামরিক-বেসামরিক, সরকারি অসংখ্য স্থাপনায় হামলা শুরু করে।
তাদের হামলায় সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ ডজনেরও বেশি নেতাকে হারায় ইরান। খামেনি ১৯৮৯ সাল থেকে ইরানকে নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন। তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়ার পর আইআরজিসি সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতার ‘হত্যাকারীদের’ সাজা দেওয়া এবং ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ‘ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ আক্রমণ’ চালানোর অঙ্গীকার করে।
“উম্মাহর ইমামের হত্যাকারীদের কঠোর, চূড়ান্ত ও মনে রাখার মতো শাস্তি না দেওয়া পর্যন্ত ইরানি জাতির প্রতিশোধের হাত তাদের ছেড়ে দেবে না,” টেলিগ্রামে দেওয়া এক পোস্টে এমনটাই বলে আইআরজিসি।
ওমানের মুসান্দম থেকে প্রায় ৫ নটিক্যাল মাইল দূরে পালাউয়ের পতাকাবাহী তেল ট্যাংকার ‘স্কাইলাইট’ হামলার শিকার হয়েছে বলে জানা গেছে।
আবু ধাবির ইতিহাদ টাওয়ার্স কমপ্লেক্সের আবাসিক ভবনের সামনের অংশে একটি ড্রোন প্রতিহত হওয়ার সময় পড়ে যাওয়া ধ্বংসাবশেষে একজন নারী ও তার শিশু আহত হয়েছে।
আল জাজিরা জানিয়েছে, সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের পূর্ব দিকেও বেশ কয়েকটি বিস্ফোরণ ঘটেছে বলে খবর পেয়েছে তারা।
এদিকে রোববারও ইরানের বিভিন্ন অংশে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা অব্যাহত রয়েছে। তেহরানে দেশটির প্রধান প্রশাসনিক কেন্দ্রগুলোতে হামলা চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী।
খামেনিকে হত্যার প্রতিবাদে ইরাকের বাগদাদে মার্কিন দূতাবাস ও পাকিস্তানের করাচিতে মার্কিন কনস্যুলেটে হামলাচেষ্টার খবরও পাওয়া গেছে।
জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্য ‘গুরুতর পরিণতির’ সতর্কবার্তা দিয়ে ‘অবিলম্বে সংঘাত বন্ধের’ আহ্বান জানিয়েছেন। ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং রাশিয়া সব পক্ষকে সংযত হওয়ার অনুরোধ করেছে।