‘নীলসাগর’ দুর্ঘটনা: ট্রেন চলাচল শুরুর অপেক্ষা
বগুড়ার সান্তাহারে ‘নীলসাগর এক্সপ্রেস’ দুর্ঘটনার দীর্ঘ ১৭ ঘণ্টা পর ঢাকার সঙ্গে উত্তরাঞ্চলের রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে।
বুধবারের ওই দুর্ঘটনার পর থেকেই বন্ধ হয়ে যাওয়া রেল যোগাযোগ সচল করতে রেলওয়ের উদ্ধারকারী দল বিরতিহীনভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
বৃহস্পতিবার সকালে রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চল জোনের প্রধান প্রকৌশলী আহমেদ হোসেন মাসুম বলেন, দুর্ঘটনাকবলিত ট্রেনের উদ্ধারকাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে এবং সকাল ১০টা থেকে সাড়ে ১০টার মধ্যে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।
বেলা ১১টার দিকে তিনি বলেন, “দুর্ঘটনাস্থলে সব মেরামত কাজ শেষ হয়েছে। এখন থেকে ট্রেন চলাচল শুরু করতে পারবে। তবে দুর্ঘটনাকবলিত তিনশ মিটার এলাকায় ট্রেনের গতি সীমিত থাকবে।”
তিনি বলেন, “আমরা গত ১৭ ঘণ্টা ধরে অবিরাম কাজ করছি। ইতোমধ্যে ছয়টি বগি উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। বাকি চারটি বগি বর্তমানে লাইনের পাশে সরিয়ে রেখে রেললাইন মেরামতের কাজ চলছে।"
ঈদে ঘরমুখো যাত্রীদের নিয়ে বুধবার সকাল পৌনে ৭টায় ঢাকা থেকে নীলফামারীর চিলাহাটি যাচ্ছিল ‘নীলসাগর এক্সপ্রেস’।
বেলা ২টার দিকে ট্রেনটি সান্তাহার স্টেশনে থামে। সেখান থেকে ট্রেনটি তিলকপুর স্টেশনের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে।
কিছু সময় পর আদমদিঘি উপজেলার বাগমারি এলাকায় ট্রেনটি লাইনচ্যুত হয়। ট্রেনের নয়টি বগি লাইন থেকে বেরিয়ে যায়।
বগুড়ার সান্তাহারে নীলসাগর এক্সপ্রেস দুর্ঘটনার কবলে পড়ার পর ঢাকা থেকে সরাসরি উত্তরের কিছু জেলায় ট্রেন যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে।
ঈদযাত্রার চূড়ান্ত মুহূর্তে বুধবার দুপুরে এ দুর্ঘটনার পর উত্তরের পথের যাত্রীরা দুশ্চিন্তার মধ্যে পড়েন।
পরে রেলওয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এতে আহত হয় ৬৬ জন। এর মধ্যে নওগাঁ সদর হাসপাতালে ২০ জন চিকিৎসাধীন। ৪০ জনকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে এবং ছয় জনকে বগুড়া আদমদীঘি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
এ ঘটনায় রেলের প্রধান পরিবহন কর্মকর্তার নেতৃত্বে চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে৷ কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন যন্ত্র প্রকৌশলী, প্রধান প্রকৌশলী ও প্রধান সংকেত প্রকৌশলী।