বৃহস্পতিবার ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ফাল্গুন ১৪ ১৪৩২, ০৯ রমজান ১৪৪৭

জাতীয়

বরিশালে ৩ দাবিতে আদালত বর্জন আইনজীবীদের, ভোগান্তি বিচারপ্রার্থীদের

 প্রকাশিত: ১৬:০২, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

বরিশালে ৩ দাবিতে আদালত বর্জন আইনজীবীদের, ভোগান্তি বিচারপ্রার্থীদের

সভাপতির মুক্তিসহ তিন দাবিতে বরিশালের সব আদালত বর্জন করেছে আইনজীবী সমিতি। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন বিচারপ্রার্থীরা।

বৃহস্পতিবার সকাল থেকে এ কর্মসূচি শুরু করা হয় বলে জানিয়েছেন জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের আহ্বায়ক ও মহানগর দায়রা জজ আদালতের পিপি নাজিমউদ্দিন আহমেদ পান্না।

তিনি বলেন, “বরিশাল বারের সভাপতি সাদিকুর রহমান লিংকনকে গতকাল (বুধবার) গ্রেপ্তার করেছে। অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম তার অধীন্যস্ত কর্মচারীকে দিয়ে আমিসহ (পান্না) অন্যান্য সিনিয়র আইনজীবীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করিয়েছে।

“তার প্রতিবাদে গতকাল ছিলো দুইটি আদালত। আজ (বৃহস্পতিবার) বরিশালের সকল আদালত বর্জনের কর্মসূচি চলছে।”

বিচারপ্রার্থীদের ভোগান্তির বিষয়ে তিনি বলেন, “বড় একটা মঙ্গলের জন্য ছোট ক্ষয়ক্ষতি মেনে নিতে হয়।”

জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সদস্য সচিব আবুল কালাম আজাদ ইমন বলেন, “আমাদের তিনটা দাবি সমিতির সভাপতিকে মুক্তি দেওয়া, মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দরখাস্ত দেওয়া এবং যারা এ ঘটনার সাথে জড়িত তাদের কগনিজেন্স পাওয়ার না দেওয়া।”

তিনি বলেন, “আপাতত আমরা আদালত বর্জন কর্মসুচিতে আছি। পাশাপাশি বিষয়টি নিয়ে একটি সমঝোতার কথাও চলছে। আমরা চাই বিষয়টি ভালো একটি দিকে যাক। বার ও বেঞ্চের সম্পর্ক অটুট থাকুক।

“আপনারা জানেন, ইতিপূর্বে হাইকোর্টের দরজাও ভাঙচুর করা হয়েছিল। তাদের কিছু হয় নাই। এখানে যেটা হয়েছে, সেটা তাদের গাফেলতির কারণে। আমাদের জন্য নয়। ”

“আজকে যদি কোনো ফয়সালা নয় হয়, তাহলে কেন্দ্রীয়ভাবে কর্মসূচি ঘোষণা হচ্ছে। সেখান থেকে দেয়া কর্মসূচি অনুযায়ী সারা বাংলাদেশে এগিয়ে যাবো”, বলেন তিনি।

সাধারণ বিচারপ্রার্থীদের ভোগান্তির বিষয়ে বলেন, “আইনজীবীরা যদি বিচার না পায়, তাদের বিচার অঙ্গন থেকে ধরে নেয়া হয়, তাহলে সাধারণ মানুষ কোথায় নিরাপদ।”

নারী ও শিশু নির্যাতন অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালের এপিপি সাঈদ চৌধুরী বলেন, “ফ্যাসিবাদের সময় নিয়োগ পাওয়া বিচারকরা ফ্যাসিবাদকে জামিন দিয়েছে। তার প্রতিবাদ করায় বারের সভাপতিসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।

“কোর্ট প্রাঙ্গন থেকে সাধারণ মানুষ গ্রেপ্তার করার বিধান নাই। সেখানে বারের সভাপতিকে তার কার্যালয় থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তার মুক্তি না হওয়া পর্যন্ত কোর্ট বর্জন চলবে।”

তিনি বলেন, “মামলার আসামি হিসেবে ফ্যাসিবাদের কোর্ট থেকে জামিনও নেয়া হবে না। আমরাও ভিতরে থাকতে চাই।”

এদিকে আইনজীবীদের আন্দোলন করার কারণে কোর্ট চলছে না জানিয়ে বিচার প্রার্থী নারী সালেহা বেগম বলেন, “মেহেন্দিগঞ্জের আন্ধারমানিক থেকে এসেছি। বসে আছি কোর্ট খোলার অপেক্ষায়। অনেক দূরে তো চলে গেলে আসবো কিভাবে।”

ঢাকা থেকে মামলার হাজিরা দিতে আসা মো. মনির বলেন, “ঢাকা থেকে এসেছি। এখন যদি সমস্যার সমাধান না হয়, তাহলে আমরা তো বিপদে পড়ব। আমি চাই সভাপতি যদি ভালো হন, তাকে মুক্তি দিয়ে কোর্ট চলার ব্যবস্থা করা হোক।”

গত সোমবার বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তালুকদার মোহাম্মদ ইউনুসকে জামিন দেয় একটি আদালত।

তার জামিনের প্রতিবাদে মঙ্গলবার সকাল থেকে বরিশালের মুখ্য মহানগর হাকিম এবং অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম আদালত বর্জন করে বিক্ষোভ করেন বিএনপিপন্থি আইনজীবীরা।

বিক্ষোভ শেষে দুপুরে আদালতের এজলাসে হট্টগোল ও ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে। তখন বিচারক এস এম শরিয়তুল্লাহ এজলাস ছেড়ে যান।

এ ঘটনায় একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর বরিশালের অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতের বিচারক মহানগর পুলিশের কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন।

তারপরই বুধবার দুপুরে বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি সাদিকুর রহমান লিংকনকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।