স্মার্টফোনের দাম ২৫০০ টাকায় আনতে চায় সরকার: তথ্য উপদেষ্টা
সরকার স্মার্টফোনের দাম আড়াই হাজার থেকে তিন হাজার টাকার মধ্যে নামিয়ে আনতে চায় বলে জানিয়েছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় বিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ।
শনিবার (২৫ এপ্রিল) রাজধানীর হলি ডে ইন হোটেলে টেলিকম অ্যান্ড টেকনোলজি রিপোর্টার্স নেটওয়ার্ক বাংলাদেশ (টিআরএনবি) আয়োজিত ‘নতুন টেলিকম পলিসি: উদ্যোক্তাদের প্রত্যাশা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।
তিনি বলেন, আমাদের ডিভাইসের দাম সাশ্রয়ী ও সস্তা করা উচিত। ২০২৬ সালে এসেও বাংলাদেশের ৫০ শতাংশ মানুষের হাতে স্মার্টফোন নেই।
৮৯৯ টাকায় একজন ফিচার ফোন কিনতে পারেন, ৯০০ থেকে ১০০০ টাকা। আমাদের চিপেস্ট স্মার্টফোন হলো ৮৯৯৯ টাকা, ৯০০০ থেকে ১০০০০ টাকা।
আমি যারা খুচরা বিক্রেতা, ওনাদের সাথেও বসছি। যারা মোবাইল ম্যানুফ্যাকচারার, ওনাদের সাথেও বসছি যে, আমরা কীভাবে আরও কমাতে পারি।
আমি বাংলাদেশ ব্যাংকের সাথে কথা বলছি, মোবাইল অপারেটরের সাথে কথা বলছি।
তিনি বলেন, আমাদের টার্গেট ডিভাইস কস্ট (মোবাইল ফোনের) দাম ২৫০০ থেকে ৩০০০ টাকায় নিয়ে আসা। একজন কৃষক, দিনমজুর, রিকশাওয়ালাও যেন স্মার্ট ফোন ব্যবহার করতে পারেন।
উপদেষ্টা বলেন, আমরা এখানেও যে বসছি একটা অ্যানড্রয়েড ফোন ইউজ করবো, সেও যেন একটা গ্রামে বসেই সেটা যেন সাশ্রয়ী দামে পান। আমরা বাংলাদেশ ব্যাংক, এনবিআরের সঙ্গে কাজ করছি দেখি কি করতে পারি। যারা দেশের ম্যানুফ্যাকচারার, ওদের সঙ্গে আমরা কাজ করছি কি করে এটা দাম কমিয়ে আনা যায়।
কম্পিউটারের দাম নিয়ে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, আপনি যদি ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা দেখেন, সেখানে জিরো পার্সেন্ট ট্যাক্স। আমাদের দেশে কম্পিউটারের মনিটরের উপরে ৩৩ শতাংশ ট্যাক্স। এই জন্য আমি বলছি যে, আমরা ভ্যালু চেইন নিয়ে কাজ করবো। আমি কোনোভাবে, আমি কোনো কারণেই আপনাদেরকে এই ইম্প্রেশন দিতে চাই না যে আগামী দুই মাসে সবকিছু সমাধান করে ফেলবো। আমরা এই বাজেটের মধ্যে চেষ্টা করবো যতটুকু সম্ভব করার। আমরা যদি এখন সমাধান করতে না পারি সেটি শেষ নয়, শুরু। আমরা ভ্যালু চেইন সমাধান করতে চাই।
সেমিনারে বিশেষ অতিথি ছিলেন বিটিআরসি চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) এমদাদ উল বারী। সভাপতিত্ব করেন টিআরএনবি সভাপতি সমীর কুমার দে এবং সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মাসুদুজ্জামান রবিন।
ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (আইএসপিএবি) সভাপতি এম এ হাকিম, ফাইবার এট হোমের চেয়ারম্যান মইনুল হক সিদ্দিকী, মোবাইল টেলিকম অপারেটরস অব বাংলাদেশ (এমটব) মহাসচিব লেফট্যানেন্ট কর্নেল (অব.) মোহাম্মদ জুলফিকার, সাংবাদিক মাসুদ কামাল, আইজিডব্লিউ অপারেটরস ফোরামের (আইওএফ) চিফ অপারেটিং অফিসার মুশফিক মনজুর, টেলিকমিউনিকেশন ইনফ্রাস্ট্রাকচার অপারেটরস অব বাংলাদেশ (টিআইওবি) সাধারণ সম্পাদক মেজর (অব.) মো. দিদারুল ইসলাম বক্তব্য দেন।