রোববার ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ফাল্গুন ৩ ১৪৩২, ২৭ শা'বান ১৪৪৭

ব্রেকিং

প্রতিটি অঙ্গীকার পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করব: তারেক রহমান কোনো অন্যায় বা বেআইনি কর্মকাণ্ড বরদাশত করা হবে না: তারেক রহমান ‘প্রধান বিচারপতিও’ নতুন এমপিদের শপথ পড়াতে পারবেন: মন্ত্রিপরিষদ সচিব তারেকের শপথে মোদীকে আমন্ত্রণ জানাবে বিএনপি: ডব্লিউআইওএন তারেকের সঙ্গে আলোচনায় আপত্তি নেই জয়ের নির্বাচিতরা দুটি শপথ নেবেন: আলী রীয়াজ শপথ ১৭ ফেব্রুয়ারির মধ্যেই: প্রেস সচিব চাঁপাইনবাবগঞ্জে বিস্ফোরণ: এক কিলোমিটার দূরেও শোনা গেছে শব্দ কংগ্রেসকে পাশ কাটিয়ে নির্বাচন সংস্কারের হুমকি ট্রাম্পের ‘আপনার নেতৃত্বে জাতীয় ঐক্য সুদৃঢ় হবে’: তারেককে অভিনন্দন জানিয়ে ইউনূস গণভোটের ফলের গেজেট প্রকাশ নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের গেজেট প্রকাশ চাঁপাইনবাবগঞ্জে ‘ককটেল বানানোর সময়’ বিস্ফোরণে ২ জন নিহত, আহত ৩

সংস্কৃতি

সততার পুরস্কার

 প্রকাশিত: ২১:১৯, ২৪ ডিসেম্বর ২০২০

সততার পুরস্কার

একদিন যুবকটা জীবিকার উদ্দেশ্যে, মক্কার গলি দিয়ে হাঁটছিলো। হঠাত চোখে পড়লো, একটা হার পড়ে আছে। আশেপাশে আর কেউ নেই দেখে, হারটা উঠিয়ে নিলো। মালিকের খোঁজে হেরেমে এলো। এমন সময় একটা ঘোষণা গোচরীভূত হলো:

-আমি একটা হার হারিয়েছি। কোনও দয়ালু ভাই পেয়ে থাকলে, আল্লাহর ওয়াস্তে ফিরিয়ে দেবেন।

যুবকটা বললেন: আমি এগিয়ে গেলাম। বললাম:

-আপনার হারটা কেমম, বর্ণনা দিন তো?

বর্ণনা মিলে গেলে, হারটা হস্তান্তর করলাম। আশ্চর্য হয়ে গেলাম, লোকটা হারখানা নিয়ে টু-শব্দও করলো না। সোজা গটগট করে হেঁটে চলে গেলো। সামান্য ধন্যবাদ টুকুও না।

আমি আল্লাহর কাছে বললাম:

-ইয়া আল্লাহ! আমি যদি এই সামান্য কাজটুকু আপনাকে সন্তুষ্ট করার জন্যই করে থাকি, আপনি আমার জন্য এর চেয়েও ভালো প্রতিদান জমা করে রাখুন।

এরপর আমি রুজি-রোজগারের উদ্দেশ্যে, জাহাজে চড়ে বসলাম। তাকদীরের এমনই লিখন, জাহাজ পড়লো ঝড়ের কবলে। পুরো জাহাজ ভেঙে লণ্ডভণ্ড হয় গেলো। হাতের কাছে যে যা পেলো ওটা ধরেই ভেসে রইলো।

.

আমিও ভাসতে ভাসতে একটা দ্বীপে গিয়ে উঠলাম। ওখানে দেখলাম একটা মসজিদ। মন খুশি হয়ে উঠলো। মসজিদে গিয়ে নামায আদায় করলাম। আমার তো যাওয়ার আপাতত কোনও জায়গা নেই। ভবঘুরে।

মসজিদে একটা কুরআন শরীফ পেলাম। বসে বসে ওটাই তিলাওয়াত করতে শুরু করলাম।

আমাকে কুরআনখানা পড়তে দেখে সবাই আমাকে চারপাশ থেকে ঘিরে ধরলো। অবাক হয়ে প্রশ্ন করলো:

-আপনি কুরআন পড়তে পারেন?

-জ্বী, পারি।

তারা বললো:

-আমাদের কাছে এই কুরআন কারীম অনেক দিন ধরে পড়ে আছে। আমরা এটা পড়তে পারি না।

আমরা এটাকে পরম যত্নে রেখে দিয়েছি। এক নাবিকের কাছ থেকেই আমরা এটা কিনেছিলাম।

.

আমাদের এই দ্বীপে, আগে একজন ছিলেন, তিনি এই কুরআন পড়তে পারতেন। ঠিকঠাক করা ছিলো, তিনিই সবাইকে কুরআন শিক্ষা দিবেন। এরপর তিনি হজ্জে গেলেন। আর ফিরে আসেন নি। এখন আপনি আমাদেরকে, আমাদের

সন্তানদেরকে কুরআন শিক্ষা দিন। আমি দ্বীপের বাচ্চাদেরকে কুরআন কারীম শিক্ষা দিতে লাগলাম। তাদেরকে অন্যান্য লেখাপড়াও শেখাতে থাকলাম।

কিছুদিন পর এলাকার মুরুব্বিরা বললেন:

-আমাদের এলাকায় একজন ইয়াতীম মেয়ে আছে। সর্বগুণে গুণান্বিতা। আপনি কি তাকে বিয়ে করতে রাজি হবেন?

.

-আমার কোনও আপত্তি নেই। আমাদের বিয়ে হয়ে গেলো। বাসর রাতে স্ত্রীর সাথে আমার প্রথম দেখা। আমি তাকে দেখে কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে গেলাম। দেখলাম তার গলায় মক্কায় কুড়িয়ে পাওয়া সেই হার ঝুলছে। জানতে চাইলাম:

-এই হার তোমার কাছে কিভাবে এলো? নববধূ লাজুক মুখে উত্তর দিলো:

.

-আমার আব্বু সেবার হজে গেলেন। দুর্ভাগ্যক্রমে হারটা হারিয়ে গেলো। কিন্তু এক মহত ব্যক্তির বদান্যতায় হারটা ফিরে পেলেন। আব্বু সব সময় তার জন্য দু আ করতেন:আর বলতেন

“ইয়া আল্লাহ! আমার মেয়ের জন্য, মক্কার এই মহত ব্যক্তির মতো এমন একজন স্বামী মিলিয়ে দিন”

অনলাইন নিউজ পোর্টাল