ব্রেকিং:
সংরক্ষিত নারী আসনের ভোট ৪ মার্চ ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নির্বাচন উপলক্ষে ১৮ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন.

মঙ্গলবার   ১৫ অক্টোবর ২০১৯   আশ্বিন ২৯ ১৪২৬  

সর্বশেষ:
সংরক্ষিত নারী আসনের ভোট ৪ মার্চ ওয়েজবোর্ডের বিষয়টিকে আমরা বিশেষভাবে গুরুত্ব দিচ্ছি
২০৭

চন্দনাইশে ইটভাটাগুলো মানছে না প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা

ডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশিত: ১৬ নভেম্বর ২০১৮  

 

 চন্দনাইশ পূর্ব এলাহাবাদ ও হাশিমপুর মৌজার তিনটি গ্রামেই ইটভাটা গড়ে উঠেছে ৩২ টি। যার মধ্য কাঞ্চননগর গ্রামের পূর্ব অংশজুড়েই আছে ২০টি ইটভাটা।

গতবছরও সুউচ্চ পাহাড় ছিল চন্দনাইশ উপজেলার কাঞ্চনাবাদ ও হাশিমপুর ইউনিয়নের পূর্বাংশজুড়ে। কিন্তু ইঠভাটার ইট তৈরির জন্য মাটির যোগান দিতে ফসলি জমির ‘টপ সয়েল’ এর পাশাপাশি পাহাড় কেটে সাবাড় করছে পাহাড় খেকোরা।

সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার কাঞ্চননগর, হাশিমপুর, জোয়ারা ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় এস্কেভেটর দিয়ে কৃষি জমির উপরিভাগের উর্বর অংশ ও পাহাড় কেটে ট্রাক-ট্রলি করে মাটি সরিয়ে নেয়া হচ্ছে। কাঞ্চননগর ও হাশিমপুরের উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া খালের পাশের বালিও রক্ষা পাচ্ছে না। এতে করে খালের ভাঙ্গনে বিপর্যস্ত খালের পাশের ফসলি জমি।

এসব মাটি যাচ্ছে চন্দনাইশের কাঞ্চননগর ও হাশিমপুরের প্রায় ৩২ টি ইটভাটায়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই মাটি কাটার গভীরতার পরিমাণ ৮ থেকে ১৫ ফুট পর্যন্ত ছাড়িয়ে যাচ্ছে। অথচ বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ১৯৯৫, (১৯৯৫ সনের ১নং আইন) এর অধিকতর সংশোধন প্রকল্পে প্রণীত আইনের ৬ (খ) ধারাই বলা হয়েছে ‘কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান কর্তৃক সরকারি বা আধা সরকারি বা স্বায়ত্বশ্বাসিত প্রতিষ্ঠানের মালিকানাধীন বা দখলাধীন বা ব্যক্তি মালিকানাধীন পাহাড় ও টিলা কর্তন বা মোচন করা যাইবে না।’

২০১৩ সনের ৫৯ নং আইন ৫(১) ধারাই বলা হয়েছে, ‘আপাতত বলবৎ অন্য আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, কোন ব্যক্তি ইট প্রস্তুত করিবার উদ্দেশ্যে কৃষিজমি বা পাহাড় বা টিলা হইতে মাটি কাটিয়া বা সংগ্রহ করিয়া ইটের কাঁচামাল হিসাবে উহা ব্যবহার করিতে পারিবেন না’।


জানা যায়, কৃষি জমির টপ সয়েল কেটে নেয়ার কারণে ফসলের প্রধান খাদ্য নাইট্রোজেন, ফসফরাস, আয়রন, জিংক, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, পটাসিয়ামসহ বিভিন্ন জৈব উপাদানের ব্যাপক ঘাটতি হচ্ছে।

শামসুল আলম নামের এক কৃষক আক্ষেপ করে বলেন, আগে আমার জমিতে যা ধান আর অন্যান্য ফসল উৎপন্ন হত তা দিয়ে আমার পরিবারের সারা বছরের আয় হয়ে যেত। পাশের জমির মাটি কাটার ফলে আমার জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে আমার জমিরও মাটি কেটে ফেলি। এখন আমার জমিতে ৬ মাস ফসল উৎপাদন হয় যা আগের তুলনায় এক তৃতীয়াংশ।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে চন্দনাইশ উপজেলা পরিষদের নির্বাহী অফিসার আ ন ম বদরুদ্দোজা বলেন, পাহাড় ও ফসলি জমির টপসয়েল কাটা একটি দন্ডনীয় অপরাধ। এর আগে আমরা যা তথ্য পেয়েছি তা বন্ধ করেছি। তবে নতুনভাবে কেউ যদি পাহাড় বা কৃষি জমি কেটে থাকে তাহলে আমরা তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করবো।

তবে ফসলি জমির উপরিভাগের মাটি (টপ সয়েল) ও পাহাড় কেটে ইটভাটায় নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন ব্রিকফিল্ড মালিক সমিতির সভাপতি আব্দুর রহিম বাদশা। টপ সয়েল ও পাহাড় কাটার বিষয়টি অস্বীকার করলেও ইটভাটার জন্য প্রয়োজনীয় মাটির যোগান কোথা থেকে হয় এমন প্রশ্নের উত্তর দিতে পারেননি তিনি।


অনলাইন নিউজ পোর্টাল
অনলাইন নিউজ পোর্টাল