ব্রেকিং:
সংরক্ষিত নারী আসনের ভোট ৪ মার্চ ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নির্বাচন উপলক্ষে ১৮ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন.

মঙ্গলবার   ১৫ অক্টোবর ২০১৯   আশ্বিন ২৯ ১৪২৬  

সর্বশেষ:
সংরক্ষিত নারী আসনের ভোট ৪ মার্চ ওয়েজবোর্ডের বিষয়টিকে আমরা বিশেষভাবে গুরুত্ব দিচ্ছি
১৬৯

উন্নয়নের স্বার্থে ভ্যাটের পরিধি বাড়ানো দরকার: লতিফ

ডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশিত: ২৬ জানুয়ারি ২০১৯   আপডেট: ২৭ জানুয়ারি ২০১৯


 
দেশের উন্নয়নের স্বার্থে ভ্যাটের পরিধি বাড়ানো দরকার মন্তব্য করে এম এ লতিফ এমপি বলেন, বাংলাদেশ জি টুয়েন্টি নয়, জি এইটে যাওয়ার সক্ষমতা রাখে। এজন্য প্রয়োজন সবার দেশপ্রেম ও সম্মিলিত প্রচেষ্টা।

শনিবার (২৬ জানুয়ারি) সকালে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস অডিটোরিয়ামে আন্তর্জাতিক কাস্টমস দিবস-২০১৯ উপলক্ষে আয়োজিত সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।


 
এম এ লতিফ বলেন, আমরা দেশ ও দেশের মানুষকে ইচ্ছা করলেই সাহায্য করতে পারি। আমাদের দেশের প্রত্যেক মানুষের সে সক্ষমতা রয়েছে। তাই দেশকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য সবার ইতিবাচক মনোভাব ধারণ করতে হবে। একজন রাজস্ব কর্মকর্তা রাজস্ব আহরণের পাশাপাশি পজিটিভ চিন্তার মাধ্যমে দেশকে সাহায্য করতে পারেন। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, কেন আমাদের ‘জি টুয়েন্টি’ তে ডাক পড়ে না। এর প্রধান কারণ সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে দেশের প্রত্যেকের পরিচ্ছন্ন চিন্তার অভাব এবং কর ফাঁকি দেওয়া।

তিনি বলেন, অতীতে আমরা রাজনীতিতে উন্নয়নের কথা শুনেছি কিন্তু দেখতাম না। তবে শেখ হাসিনার সরকার তা করে দেখিয়েছে। ব্যবসায়ী ও কর্মচারীদের মধ্যে অনেক অসাধু ব্যক্তি আছেন। তার মানে এই নয় যে সবাই খারাপ। দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য প্রত্যেকটা মানুষই ভূমিকা রাখতে পারেন।

লতিফ বলেন, দেশে এখন ধনী মানুষের অভাব নেই। অভাব আছে ভালো মানুষের।

চট্টগ্রাম বন্দরে যত দ্রুত সম্ভব পণ্য খালাসের ব্যবস্থা নেওয়া উচিত মন্তব্য করে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে আমাদের টিকে থাকতে হবে। তা না হলে আমরা আবার মিসকিনের দেশে পরিণত হব। একটি শিল্প প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া মানে ব্যবসায়ীর ক্ষতি সাধন নয়, বরং দেশের জন্য অনেক বড় ক্ষতি।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সদস্য (শুল্ক ও ভ্যাট প্রশাসন) প্রকাশ দেওয়ান বলেন, কাস্টমস এমন একটি প্রতিষ্ঠান যেখানে শুধু রাজস্ব আহরণ নয় সিকিউরিটিও দেখতে হয়। এ সিকিউরিটির জন্য আমরা অনেক কিছু করতে পারি না। আমরা চাই ব্যবসায়ীদের পণ্য দ্রুত খালাস করতে। কাস্টমসের কাজকে কীভাবে সহজ করা যায় আমরা এখন সেই লক্ষ্যে কাজ করছি।

চেম্বার সভাপতি মাহবুবুল আলম বলেন, ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে চট্টগ্রাম চেম্বার অটোমেশন সার্ভিস চালু করেছিল। আমদানি-রপ্তানির ক্ষেত্রে আমাদের কাছে সময় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সময়ের ওপর ভিত্তি করে আমরা ব্যবসা করছি। কিন্তু বন্দরের গেইটগুলোতে স্ক্যানার মেশিন না থাকায় দীর্ঘ যানজট লেগে থাকে। এতে প্রচুর সময় অপচয় হয়। তাই প্রত্যেক গেটে স্ক্যানার মেশিন বসানো উচিত। ব্যবসায়ীরা যেন অহেতুক ঝামেলায় না পড়ে সেদিকে কাস্টমসকে বিশেষ নজর দিতে হবে।

তিনি বলেন, অনেকে বলে ব্যবসায়ীরা বন্দরকে গোডাউন বানিয়ে রেখেছে। কিন্তু আমরা ব্যবসায়ীরা এটা চাই না। যারা এ ধরনের কাজ করে তাদের শাস্তি দিন। আমরা চাই যত তাড়াতাড়ি সম্ভব পণ্য যাতে বন্দর থেকে খালাস করতে পারি। বর্তমানে কাস্টমসে জনবল সংকট রয়েছে। এ সংকট দ্রুত নিরসন করতে হবে এবং কাস্টমস হাউজের বিল্ডিংকে আধুনিকায়ন করতে হবে।

স্বাগত বক্তব্যে কাস্টমস কমিশনার ড. এ কে এম নুরুজ্জামান বলেন, এখন সমস্ত চালান সন্দেহের তালিকা থেকে সরিয়ে রিস্ক ম্যানেজমেন্টে নিয়ে আসছি। ইন্টারন্যাশনাল কাস্টমসের কাজ শুধু রাজস্ব আহরণ নয়। রাজস্ব আহরণের পাশাপাশি মাদকসহ বিভিন্ন অবৈধ চোরাচালানরোধে কাজ করতে হয়। কাস্টমসের আধুনিকায়নের জন্য ২ হাজার ৪০০ কোটি টাকার প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে চট্টগ্রাম কাস্টমস আধুনিক ও যুগোপযোগী প্রতিষ্ঠানে পরিণত হবে।

চট্টগ্রাম কাস্টমস ক্লিয়ারিং এন্ড ফরওয়ার্ডিং এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক আলতাফ হোসেন চৌধুরী বাচ্চু বলেন, কাস্টমস দিবস প্রতি বছর আসে এবং আমরা অনেক ওয়াদাও করে থাকি সেমিনারে। কিন্তু তা বাস্তবায়িত হয় না। আমরা যে কথা বলে থাকি, তা আন্তরিকতার সঙ্গে বিশ্বাস করলে, বাস্তবায়ন করা হলে দেশে রাজস্ব ব্যবস্থার পরিবর্তন ও রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি পেত।

তিনি বলেন, রাজস্ব আহরণ করাই শুধু নয়, সময় ও খরচ বাঁচানোও কাস্টমসের লক্ষ্য। দেশের ৮০ শতাংশ রাজস্ব আহরণ হয় চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউস থেকে। কিন্তু কাস্টমস হাউসের এখন বড় সমস্যা লোকবল সংকট। এ সংকট দূর করা গেলে রাজস্ব আহরণের মাত্রা আরো বেশি বৃদ্ধি পাবে।

কাস্টমস কমিশনার ড. এ কে এম নুরুজ্জামানের সভাপতিত্বে সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সদস্য (শুল্ক ও ভ্যাট প্রশাসন) প্রকাশ দেওয়ান, কাস্টমস এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনার সৈয়দ গোলাম কিবরীয়া, চট্টগ্রাম কর অঞ্চল-১ কমিশনার মাহবুবুল আলম, চট্টগ্রাম চেম্বারের সভাপতি মাহবুবুল আলম ও মেট্রোপলিটন চেম্বারের সভাপতি খলিলুর রহমান।

এছাড়া বন্দর কর্মকর্তা, শিপিং এজেন্টের কর্মকর্তা, বিজিএমইএ, বিকেএমইএ’র কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে দিবসটি উপলক্ষে সকাল ৯টায় কাস্টমস হাউস থেকে এক বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের করা হয়।

প্রসঙ্গত, ওয়ার্ল্ড কাস্টমস অর্গানাইজেশনের ১৮২টি সদস্য দেশে দিবসটি পালিত হচ্ছে। এবারের প্রতিপাদ্য বিষয় ‘স্মার্ট বর্ডারস ফর সীমল্যাস ট্রেড, ট্যাভেল অ্যান্ড ট্রান্সপোর্ট (smart borders for seamless trade, travel and transport)’।


অনলাইন নিউজ পোর্টাল
অনলাইন নিউজ পোর্টাল
এই বিভাগের আরো খবর