বৃহস্পতিবার ০৫ মার্চ ২০২৬, ফাল্গুন ২১ ১৪৩২, ১৬ রমজান ১৪৪৭

ব্রেকিং

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মচারীর ছুরিকাঘাতে নারী শিক্ষক খুন ‘ই-হেলথ’ কার্ড চালু ও অব্যবহৃত ভবনে স্বাস্থ্যকেন্দ্র করার নির্দেশ ইরানে সম্ভাব্য সামরিক অভিযান নিয়ে ‘কুর্দিদের সঙ্গে আলোচনা করছে যুক্তরাষ্ট্র’ খামেনির রাষ্ট্রীয় জানাজা স্থগিত ইরানে নিহত বেড়ে ১,১৪৫, ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংসের কথা জানাল তুরস্ক দুইজন উপদেষ্টা এবং আটজন প্রতিমন্ত্রীর দপ্তর পুনর্বণ্টন মুন্সীগঞ্জে চোর সন্দেহে ‘গণপিটুনি’, হাসপাতালে ২ জনের মৃত্যু যুদ্ধ পরিস্থিতিতে জ্বালানি সরবরাহে চাপ, সাশ্রয়ে জোর জ্বালানিমন্ত্রীর ভূমধ্যসাগরে পরমাণু রণতরী ‘চার্লস দ্য গল’ পাঠাচ্ছে ফ্রান্স ফেব্রুয়ারি মাসের বেতন পরিশোধে ব্যবসায়ীদের বিশেষ ঋণ সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদের ব্যাংক হিসাব তলব ভিসা ও গ্রিন কার্ডের প্রসেসিং ফি বাড়ালো যুক্তরাষ্ট্র আটকা পড়া প্রবাসীদের জন্য দুবাইয়ে ইউএস-বাংলার দুটি বিশেষ ফ্লাইট ইরানের পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা খামেনির ছেলে: ইসরায়েলি ও মার্কিন সংবাদমাধ্যম

ফিচার

বাজিতপুর শিকলে বাঁধা ‘সুস্থ’ ছেলে, দেড় মাস পর ‘কঙ্কাল’ পেলেন বাবাা-মা

 আপডেট: ২২:৫৯, ১ জানুয়ারি ২০২২

বাজিতপুর শিকলে বাঁধা ‘সুস্থ’ ছেলে, দেড় মাস পর ‘কঙ্কাল’ পেলেন বাবাা-মা

কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর উপজেলার সরিষাপুর এলাকায় চুরিচামারি করতেন ২৫ বছর বয়সী অভি মিয়া। কোনো একটা অপরাধ ঘটিয়েই ছাড়তেন গ্রাম। কিছুদিন পর ফের হাজির হতেন। তবে হঠাৎ একদিন বাড়িতে হাজির হন রক্তাক্ত শরীরে। এরপর ঘুপচি ঘরে ছেলেকে শিকলে বেঁধে তালা লাগিয়ে রাখেন বাবা। এভাবেই দেড় মাস বন্দি রাখা হয়।
টানা দেড় মাস বেঁধে রাখলেও নিয়মিত খাবার দেননি সৎ মা। খোলেননি দরজাও। দিনের পর দিন খাবার না পেয়ে কঙ্কালসার হয়ে পড়েন অভি। খেতে না দিয়ে শেষমেশ ছেলের ‘কঙ্কালসার’ লাশ পেলেন বাবা-মা।

ঘটনাটি কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর উপজেলার সরিষাপুর গ্রামের। শুক্রবার দরজা খুলতেই তার মরদেহ দেখেন স্বজনরা। পরে মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। অভি মিয়া একই গ্রামের রেলওয়ে পুলিশের অবসরপ্রাপ্ত সদস্য মো. অহিদ মিয়া ও সৎ মা নারগীস বেগম দম্পতির ছেলে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, অভিকে বন্দি রাখলেও ঠিকমতো খাবার দেননি বাবা-মা। এভাবে তালাবদ্ধ করে ফেলে রাখলেও ছেলের চিকিৎসার ব্যবস্থা করেননি তারা। ফলে ক্ষুধা আর চিকিৎসার অভাবে ছেলেটি মারা যান।

পুলিশ জানায়, শনিবার কিশোরগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে ময়নাতদন্ত করা হবে। এ খবর পেয়েও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সরেজমিন পরিদর্শনে না যাওয়ায় এলাকায় সমালোচনার ঝড় বইছে।

বাজিতপুর থানার ওসি মো. মাজহারুল ইসলাম বলেন, অভিকে খাবার খেতে না দিয়ে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভি অবহেলা ও তাচ্ছিল্যজনিত মৃত্যুর শিকার হলে এর দায় বর্তাবে পরিবারের ওপর। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর এ বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

মো. অহিদ মিয়ার দ্বিতীয় স্ত্রীর সন্তান অভি। অভির মায়ের সঙ্গে ছাড়াছাড়ি হওয়ার পর তিনি লাপাত্তা। নারগীস বেগম মো. অহিদ মিয়ার তৃতীয় স্ত্রী।

এদিকে,অভির বাবা মো. অহিদ মিয়া জানান, অতিষ্ঠ হয়েই তিনি ছেলেকে তালাবদ্ধ করে রেখেছিলেন। ঠিকমতো খাবার না দেওয়ার অভিযোগ সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘অভি খেতে পারত না।’ অভির সৎ মা নারগীস বেগমও একই কথা বলেন।