মঙ্গলবার ১০ মার্চ ২০২৬, ফাল্গুন ২৬ ১৪৩২, ২১ রমজান ১৪৪৭

ব্রেকিং

ইরানের পাশে থাকার বার্তা পুতিনের, শুভেচ্ছা খামেনির ছেলেকে লেবাননে সাত দিনে ৮৩ শিশু নিহত হাদি হত্যার আসামিদের সাক্ষাৎ পেতে কনস্যুলার অ্যাকসেস চাইল বাংলাদেশ ভোজ্যতেলের দাম এক ফোঁটাও বাড়বে না: বাণিজ্যমন্ত্রী যাত্রাবাড়ীতে রগ কেটে যুবককে হত্যা জঙ্গল ছলিমপুরে ‘পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ’ প্রতিষ্ঠা হয়েছে, অস্ত্র উদ্ধার, আটক ১৫: ডিআইজি হাদি হত্যার আসামি ফেরাতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দুই প্রসিকিউটর নিয়োগ, একজনের পদত্যাগ ইরানের নতুন নেতা নিয়ে ‘খুশি নন’ ট্রাম্প, চীন বলছে ‘অভ্যন্তরীণ বিষয়’ ইরানি তেল স্থাপনায় ইসরায়েলি হামলায় ‘বিরক্ত, বিস্মিত’ যুক্তরাষ্ট্র মোজতবা খামেনি: ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা জঙ্গল সলিমপুরে যৌথবাহিনীর অভিযান মাদারীপুরে টর্চ লাইট জ্বালিয়ে ৪ ঘণ্টা ধরে সংঘর্ষ, শতাধিক হাতবোমার বিস্ফোরণ পিতার মত ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হলেন মুজতাবা খামেনি ইরানি হামলায় ইসরায়েলে ১৩ জন নিহত, প্রায় ২০০০ জন আহত ইরানে ৬৫ স্কুল ও ৩২ চিকিৎসাকেন্দ্র হামলার শিকার: রেড ক্রিসেন্ট

ফিচার

বাজিতপুর শিকলে বাঁধা ‘সুস্থ’ ছেলে, দেড় মাস পর ‘কঙ্কাল’ পেলেন বাবাা-মা

 আপডেট: ২২:৫৯, ১ জানুয়ারি ২০২২

বাজিতপুর শিকলে বাঁধা ‘সুস্থ’ ছেলে, দেড় মাস পর ‘কঙ্কাল’ পেলেন বাবাা-মা

কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর উপজেলার সরিষাপুর এলাকায় চুরিচামারি করতেন ২৫ বছর বয়সী অভি মিয়া। কোনো একটা অপরাধ ঘটিয়েই ছাড়তেন গ্রাম। কিছুদিন পর ফের হাজির হতেন। তবে হঠাৎ একদিন বাড়িতে হাজির হন রক্তাক্ত শরীরে। এরপর ঘুপচি ঘরে ছেলেকে শিকলে বেঁধে তালা লাগিয়ে রাখেন বাবা। এভাবেই দেড় মাস বন্দি রাখা হয়।
টানা দেড় মাস বেঁধে রাখলেও নিয়মিত খাবার দেননি সৎ মা। খোলেননি দরজাও। দিনের পর দিন খাবার না পেয়ে কঙ্কালসার হয়ে পড়েন অভি। খেতে না দিয়ে শেষমেশ ছেলের ‘কঙ্কালসার’ লাশ পেলেন বাবা-মা।

ঘটনাটি কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর উপজেলার সরিষাপুর গ্রামের। শুক্রবার দরজা খুলতেই তার মরদেহ দেখেন স্বজনরা। পরে মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। অভি মিয়া একই গ্রামের রেলওয়ে পুলিশের অবসরপ্রাপ্ত সদস্য মো. অহিদ মিয়া ও সৎ মা নারগীস বেগম দম্পতির ছেলে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, অভিকে বন্দি রাখলেও ঠিকমতো খাবার দেননি বাবা-মা। এভাবে তালাবদ্ধ করে ফেলে রাখলেও ছেলের চিকিৎসার ব্যবস্থা করেননি তারা। ফলে ক্ষুধা আর চিকিৎসার অভাবে ছেলেটি মারা যান।

পুলিশ জানায়, শনিবার কিশোরগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে ময়নাতদন্ত করা হবে। এ খবর পেয়েও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সরেজমিন পরিদর্শনে না যাওয়ায় এলাকায় সমালোচনার ঝড় বইছে।

বাজিতপুর থানার ওসি মো. মাজহারুল ইসলাম বলেন, অভিকে খাবার খেতে না দিয়ে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভি অবহেলা ও তাচ্ছিল্যজনিত মৃত্যুর শিকার হলে এর দায় বর্তাবে পরিবারের ওপর। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর এ বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

মো. অহিদ মিয়ার দ্বিতীয় স্ত্রীর সন্তান অভি। অভির মায়ের সঙ্গে ছাড়াছাড়ি হওয়ার পর তিনি লাপাত্তা। নারগীস বেগম মো. অহিদ মিয়ার তৃতীয় স্ত্রী।

এদিকে,অভির বাবা মো. অহিদ মিয়া জানান, অতিষ্ঠ হয়েই তিনি ছেলেকে তালাবদ্ধ করে রেখেছিলেন। ঠিকমতো খাবার না দেওয়ার অভিযোগ সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘অভি খেতে পারত না।’ অভির সৎ মা নারগীস বেগমও একই কথা বলেন।