পাল্টাপাল্টি হামলা আপাতত বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে ইরান ও ইসরায়েল
ইরান ও ইসরায়েল একে অপরের বিরুদ্ধে হামলা আপাতত বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের আহ্বানে সাড়া দিয়ে সোমবার ইসরায়েল ও ইরান এই ঘোষণা দেয়।
ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনায় পশ্চিম এশিয়ায় নতুন করে অস্থিরতা সৃষ্টি হওয়ায় তা আঞ্চলিক নিরাপত্তা, জ্বালানি বাজার এবং আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক প্রচেষ্টার ওপরও প্রভাব ফেলে।
এ পরিস্থিতিতে ট্রাম্প ট্রুথ সোশালে বার্তা দিয়ে দুই দেশকে হামলা বন্ধের আহ্বান জানিয়ে চলমান সংঘাত প্রশমনের প্রচেষ্টা নিয়েছিলেন। পরে আরেকটি পোস্টে ট্রাম্প এও বলেন যে, ইরান ও ইসরায়েল তাৎক্ষণিকভাবে একটি যুদ্ধবিরতি করার চেষ্টা করছে।
এরপরই ইরান ও ইসরায়েলের হামলা আপাতত বন্ধের ওই ঘোষণা এল। এক জ্যেষ্ঠ ইসরায়েলি কর্মকর্তার উদ্ধৃতি দিয়ে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম জানায়, ট্রাম্পের অনুরোধে ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে হামলা বন্ধ করেছে।
ওদিকে, ইরানের সামরিক বাহিনীও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে হামলা বন্ধ করেছে বলে জানিয়েছে। তবে তারা সতর্ক করে দিয়ে এও বলেছে যে, দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলের হামলা চলতে থাকলে আগের চেয়েও আরও কঠোর ও দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে।
দুই পক্ষ হামলা থামানের ঘোষণা দেওয়ার আগে সোমবার সকালে ইরানের দক্ষিণপশ্চিমাঞ্চলীয় খুজেস্তান প্রদেশের গুরুত্বপূর্ণ বন্দর শহর মাহশহরের কারুন পেট্রোকেমিক্যাল কোম্পানির কারখানায় আকাশ হামলা চালিয়েছিল ইসরায়েল।
গত ৮ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি শুরু হওয়ার পর এই প্রথম ইসরায়েল ইরানের জ্বালানি স্থাপনায় আঘাত হানে। ইরান উত্তর ইসরায়েলে হামলা চালানোর পর পাল্টা জবাবে ইসরায়েল এই হামলা চালায়।
এবার ইসরায়েল এই হামলা আপাতত থামানোর ঘোষণা দিলেও লেবাননে হিজবুল্লাহর ওপর হামলা চালিয়ে যাবে বলে জানিয়েছে।
ইরানের সতর্কবার্তা উপেক্ষা করে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ বলেছেন, সেনাবাহিনী দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহ ঘাঁটিতে হামলা চালিয়ে যাবে এবং ইসরায়েল আক্রান্ত হলে বৈরুতেও হামলা চলবে।