ব্রেকিং:
সংরক্ষিত নারী আসনের ভোট ৪ মার্চ ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নির্বাচন উপলক্ষে ১৮ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন.

মঙ্গলবার   ১৫ অক্টোবর ২০১৯   আশ্বিন ২৯ ১৪২৬  

সর্বশেষ:
সংরক্ষিত নারী আসনের ভোট ৪ মার্চ ওয়েজবোর্ডের বিষয়টিকে আমরা বিশেষভাবে গুরুত্ব দিচ্ছি
৭০১

হাঙ্গর শুটকিতেই কোটি টাকা আয়

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৬ জানুয়ারি ২০১৯  

দক্ষিণ চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্থানে দিনদিন বাড়ছে হাঙ্গর শুটকি উৎপাদন। বৈদেশিক বাজারে এর চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় শতশত যুবক এ পেশায় আসছে। একই সাথে পুরনো শুটকি উৎপাদকরাও আর্থিক স্বচ্ছলতা ফিরে পাওয়ার পাশাপাশি কোটি টাকা পর্যন্ত আয় করছেন।

 

প্রতিদিন শতশত জেলেদের জালে বিভিন্ন প্রজাতির মাছের সাথে ধরা পড়ছে হাঙ্গর। পরে এসব হাঙ্গর দক্ষিণ চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্থানে গড়ে উঠা শুটকি পল্লীতে সরবরাহ করা হয়। সেখানে শুটকি করার পর তা আড়তে পাঠানো হয়। এরপর আড়তদাররা ব্যক্তিগত পর্যায়ে তা রপ্তানি করছে থাইল্যান্ড, মিয়ানমার, কোরিয়া, চীন এবং ফিলিপাইনে।

 

শুধুমাত্র দক্ষিণ চট্টগ্রামের পটিয়া, কর্ণফুলী, আনোয়ারা ও বাঁশখালী উপজেলার বেশ কয়েকটি এলাকার প্রায় শতাধিক শুটকীপল্লীতে হাঙ্গর শুটকী উৎপাদন হচ্ছে। এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে, পটিয়ার কোলাগাঁও, শিকলবাহা, কর্ণফুলীর ডাঙ্গারচর, ইছানগর, ফেরীঘাট, শাহ আমানত সেতু, আনোয়ারার রায়পুর, বাঁশখালীর খানখানাবাদ, কদমরসুল, শেখেরখিল, গন্ডামারা এবং ছনুয়া। 

এসব এলাকায় গড়ে উঠা শুটকি মহালগুলোতে লইট্যা, ছুরি, ফাইস্যা, পোপা, চিংড়িসহ অন্যান্য মাছের পাশাপাশি প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ হাঙ্গরও শুটকি বানানোর কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। 

 

শুটকি মহালের মালিকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, কাঁচা মাছ হিসাবে হাঙ্গরের চাহিদা কম হলেও শুটকির ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।  আর সে কারণে বেশিরভাগ মহাল মালিক হাঙ্গর শুটকির দিকে ঝুঁকছেন। বর্তমানে দেশিয় বাজারে প্রতি কেজি হাঙ্গর শুটকি চার থেকে পাঁচশত টাকা দামে বিক্রি হচ্ছে। সে হিসাবে প্রতি মাসে পাঁচ থেকে ছয় লাখ টাকার শুটকি আড়তে পাঠানো হয়। 

 

হাঙ্গর থেকে শুটকির উৎপাদন প্রসঙ্গে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক, হালদা বিশেষজ্ঞ প্রফেসর ড. মনজুরুল কিবরিয়া বলেন, হাঙ্গর আহরণের উপর কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। তবে অতিমাত্রায় আহরণ করা হলে সেক্ষেত্রে সমুদ্রে বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে। মুসলিম সমপ্রদায়ের মধ্যে মৎস্য হিসাবে হাঙ্গর খাওয়ার প্রচলন না থাকায় এটি থেকে উৎপাদিত শুটকির রপ্তানি বাণিজ্য সম্প্রসারিত করা যেতে পারে, আর তা করা গেলে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের খাত হিসাবে এটিও একটি খাতে পরিণত হবে। অধিকহারে যাতে হাঙ্গর শিকার করা না হয় সে ব্যাপারে নজর রাখতে হবে।

 

চট্টগ্রাম জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ মুমিনুল হক জানান, বিভিন্ন দেশে হাঙ্গরের শুটকির চাহিদা রয়েছে। বাংলাদেশে অপ্রচলিত মৎস্য হিসাবে পরিচিত হাঙ্গর থেকে তৈরি শুটকি বিদেশে রপ্তানি করা গেলে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের একটি খাত হিসাবে প্রতিষ্ঠা পাবে।


অনলাইন নিউজ পোর্টাল
অনলাইন নিউজ পোর্টাল
এই বিভাগের আরো খবর