সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬
ONP24
ব্রেকিং
আন্তর্জাতিক

বাংলাদেশ-পাকিস্তান-নাইজেরিয়ার শিক্ষার্থীদের ভর্তি সীমিত করছে যুক্তরাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়

মোহাম্মদ খাইরুল আমিন • 12 অক্টোবর 2026, 12:48 দুপুর • 7 বার পঠিত
বাংলাদেশ-পাকিস্তান-নাইজেরিয়ার শিক্ষার্থীদের ভর্তি সীমিত করছে যুক্তরাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়

ভিসা নীতিতে কড়াকড়ির কারণে যুক্তরাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বাংলাদেশ, পাকিস্তান এবং নাইজেরিয়ার মতো দেশগুলোর আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ভর্তির প্রস্তাব বাতিল বা স্থগিত করছে, যাতে নতুন নিয়মে ভিসা প্রত্যাখ্যানের হার নির্দিষ্ট সীমার ওপরে না যায়।

কারণ, এই নিয়ম ভাঙলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ভবিষ্যতে আর কোনও বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তির অনুমতি পাবে না। দ্য ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস এর একটি প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের তথ্য বিশ্লেষণ করে ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস জানিয়েছে , ২০২৬ সালের প্রথমার্ধের মধ্যে যুক্তরাজ্যে পড়াশুনা করতে যাওয়ার ভিসা আবেদনের ১০ দশমিক ৫ শতাংশ প্রত্যাহার বা বাতিল হয়েছে, যা এর আগের বছরগুলোর তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।গত বছরের একই সময়ে এই হার ছিল মাত্র ২ দশমিক ৩ শতাংশ এবং ২০২৩ সালে ছিল মাত্র ০ দশমিক ৪ শতাংশ।

ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের নতুন কড়াকড়ির কারণে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো তাদের আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ভর্তির লাইসেন্স হারানোর ঝুঁকিতে পড়ে অফার লেটার বা ভর্তি বাতিল করতে বাধ্য হচ্ছে।

চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে পাকিস্তানি শিক্ষার্থীদের আবেদন প্রত্যাহারের হার নাটকীয়ভাবে বেড়ে ৪০ দশমিক ৯ শতাংশ হয়েছে, যা আগের বছর একই সময়ে ছিল মাত্র ৩ শতাংশ।

বাংলাদেশি আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে এই হার ৭ দশমিক ১ শতাংশ থেকে বেড়ে ২৩ দশমিক ৫ শতাংশ হয়েছে এবং ভারতের ক্ষেত্রে এই হার ১ দশমিক ২ শতাংশ থেকে বেড়ে ৫ দশমিক ২ শতাংশ হয়েছে।

যুক্তরাজ্য সরকার আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের স্পন্সর করা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর জন্য নিয়ম কঠোর করার সঙ্গে সঙ্গে এই বৃদ্ধি ঘটেছে।

বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তি করার ক্ষেত্রে যুক্তরাজ্য সরকার নিয়ম আরও কঠোর করেছে। আগে নিয়ম ছিল, কোনও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আবেদন করা বিদেশি শিক্ষার্থীদের মধ্যে যদি ১০ শতাংশের বেশি শিক্ষার্থী ভিসা বাতিল হত, তবে সেই প্রতিষ্ঠান আর বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তি করতে পারত না।

এখন সেই নিয়ম কমিয়ে ৫ শতাংশ করা হয়েছে। অর্থাৎ, এখন কোনও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাত্র ৫ শতাংশর বেশি শিক্ষার্থীর ভিসা প্রত্যাখ্যান হলেই সেই প্রতিষ্ঠান বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তি করার যোগ্যতা হারাতে পারে।

অনেক বিদেশি শিক্ষার্থীর ভিসা প্রত্যাখ্যান হতে দেখে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বুঝতে পারে যে, এই শিক্ষার্থীদের ভিসা পাওয়ার সম্ভাবনা কম। তাই বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ নিজে থেকেই আগাম পদক্ষেপ হিসেবে তাদের ভর্তির অফার বাতিল করে দেয়।

বিদেশি শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের অফার লেটার (ভর্তির প্রস্তাব) পাওয়ার পরই কেবল স্টাডি ভিসার জন্য আবেদন করতে পারে। তার মানে, যদি সেই অফার লেটার বাতিল হয়, তবে ভিসার আবেদনও প্রত্যাহার হয়।

দ্য ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস-এর তথ্যানুযায়ী, ২০২৫ সালের একই সময়ের তুলনায় ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয় শিক্ষার্থী বা স্টাডি ভিসা প্রত্যাখ্যানের সংখ্যা দ্বিগুণ করেছে।

এই বৃদ্ধি মূলত এমন সব দেশের নাগরিকদের মধ্যে দেখা গেছে, যাদেরকে নিয়ে সরকারের সন্দেহ আছে যে, তারা রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থনার একটি মাধ্যম হিসেবে স্টুডেন্ট ভিসা ব্যবহার করছে।

উচ্চশিক্ষা খাতের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছর যুক্তরাজ্যের প্রায় ১৫টি বিশ্ববিদ্যালয় পাকিস্তান থেকে শিক্ষার্থী ভর্তি সম্পূর্ণভাবে স্থগিত করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ভিসা প্রসেসিং কোম্পানি 'এনরোলি' এর উপাত্ত থেকে আরও জানা যায় যে, প্রায় অর্ধেক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসা প্রত্যাখ্যানের হার ৫ শতাংশের সীমা ছাড়িয়ে গেছে।