শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
ONP24
ব্রেকিং
আন্তর্জাতিক

যুক্তরাষ্ট্রে জি-২০ জোটের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠক, ইউক্রেন ইস্যুতে অনড় রাশিয়া

আতাউল্লাহ পলাশ • 31 অক্টোবর 2026, 07:46 সকাল • 5 বার পঠিত
যুক্তরাষ্ট্রে জি-২০ জোটের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠক, ইউক্রেন ইস্যুতে অনড় রাশিয়া

ইউক্রেন ইস্যুতে নিজেদের অবস্থান থেকে সরে আসার কোনো ইঙ্গিত দেয়নি রাশিয়া। শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রে জি-২০ জোটের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠক শুরু হলেও ইউক্রেন ও ইরান যুদ্ধকে কেন্দ্র করে সদস্যদেশগুলোর মধ্যে মতবিরোধ আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

বৈঠকে বিভিন্ন বিষয়ে তীব্র মতপার্থক্য দেখা দেয়। ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক প্রধান কাজা কালাস ইউক্রেন যুদ্ধসহ বিভিন্ন বিষয়ে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভের বক্তব্যকে ‘মিথ্যা’ বলে আখ্যা দেন।

বৈঠকের ফাঁকে এএফপিকে কালাস বলেন, ‘তিনি (লাভরভ) অনেক মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দিয়েছেন। ইউরোপীয় প্রতিনিধিরা সেসব বক্তব্যের জবাব দিতে পেরেছেন।’

এদিকে, কৃষিপণ্য রপ্তানির গুরুত্বপূর্ণ পথ কৃষ্ণসাগরে যুদ্ধবিরতি কার্যকরের লক্ষ্যে মস্কোর ওপর আরও চাপ সৃষ্টির চেষ্টা করেন ইউরোপীয় কর্মকর্তারা।

অন্যদিকে, লাভরভের বক্তব্য বেশ ‘উসকানিমূলক’ ছিল বলে মন্তব্য করেছেন ইউরোপের একজন কূটনৈতিক সূত্র।

সংবাদ সম্মেলনে লাভরভ ইউরোপীয় দেশগুলোর ‘অহংকারী বর্জননীতি’র সমালোচনা করেন। একই সঙ্গে রাশিয়ার সঙ্গে আলোচনায় বসতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের আগ্রহের প্রশংসা করেন তিনি।

জি-২০ পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের প্রচলিত সম্মিলিত ছবি তোলার আয়োজনও বাতিল করা হয়। কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে এএফপি জানিয়েছে, লাভরভের সঙ্গে একই ছবিতে থাকতে আপত্তি জানান ইউরোপের কয়েকটি দেশের কর্মকর্তা।

ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযান শুরুর চার বছরের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও যুদ্ধ অব্যাহত রয়েছে। এ বছর জি-২০-এর অন্যান্য বৈঠকেও রুশ প্রতিনিধিদলের সঙ্গে ছবি তুলতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন ইউরোপীয় নেতারা।

এক মার্কিন কর্মকর্তা জানান, আনুষ্ঠানিক ছবি তোলার আয়োজন বাতিল করা হয়েছে, যাতে ‘একটি আনুষ্ঠানিক ছবি তোলার সুযোগ কূটনৈতিক মনোযোগ অন্যদিকে সরিয়ে দেওয়ার কারণ না হয়’।

যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টায় এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে দেশটির মধ্যবর্তী নির্বাচনের কয়েক দিন আগে। একই সঙ্গে আগামী ডিসেম্বরে ফ্লোরিডার মায়ামিতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ডোরাল রিসোর্টে অনুষ্ঠিতব্য জি-২০ নেতাদের শীর্ষ সম্মেলনের প্রস্তুতিও শুরু হয়েছে এ বৈঠকের মধ্য দিয়ে।

তবে বৈঠকটি এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যখন ইরানকে ঘিরে সংঘাতের কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম ব্যাপক বেড়েছে। গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানে হামলা চালানোর পর তেহরান পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে তেল ও গ্যাস পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল বাধাগ্রস্ত করে।

যুক্তরাষ্ট্র অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, বাণিজ্য ঘাটতি এবং জ্বালানি ও গুরুত্বপূর্ণ খনিজসহ সরবরাহব্যবস্থার সংকটের মতো বিষয়গুলোতে গুরুত্ব দিতে চাইলেও বৈঠক থেকে বড় কোনো অগ্রগতি আসবে বলে মনে করা হচ্ছে না।

চূড়ান্ত যৌথ ঘোষণার পরিবর্তে দুই দিনের আলোচনা শেষে শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি একটি সভাপতিমণ্ডলীর সারসংক্ষেপ প্রকাশ করা হতে পারে।

- সন্তোষজনক আলোচনা -

বৈঠকের উদ্বোধনী অধিবেশনে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, আন্তসংযুক্ত অর্থনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক সংকট মোকাবিলার ক্ষেত্রে বিশ্ব এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এক ‘সিদ্ধান্ত গ্রহণের মুহূর্তে’ দাঁড়িয়ে আছে।

তিনি জি-২০ জোটের সদস্যদেশগুলোকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান। জোটটিতে চীন, ফ্রান্স, জার্মানি, ভারত, জাপান ও রাশিয়াসহ বিশ্বের প্রধান অর্থনীতিগুলো রয়েছে।

রুবিও বিশেষ করে বৈশ্বিক জ্বালানি ও খাদ্য সরবরাহব্যবস্থার ওপর চাপ এবং আন্তর্জাতিক নৌপথে অবাধ চলাচলের স্বাধীনতার মতো হুমকি মোকাবিলায় সদস্যদেশগুলোর সহযোগিতা কামনা করেন।

বৈঠকের ফাঁকে রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী লাভরভের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করেন রুবিও। পরে লাভরভ জানান, তাদের মধ্যে ‘সন্তোষজনক আলোচনা’ হয়েছে।

ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে পশ্চিমা বিশ্বের অধিকাংশ দেশ রাশিয়াকে কূটনৈতিকভাবে অনেকটা বিচ্ছিন্ন করে রেখেছে। লাভরভ নিজেও আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছেন।

জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়োহান ওয়াডেফুল বলেন, ‘রাশিয়ার সঙ্গে কোনো কিছুই আর স্বাভাবিক নেই।’ তিনি আরও বলেন, কৃষ্ণসাগরে যুদ্ধবিরতি দিয়ে ইউক্রেনের দেওয়া প্রস্তাব অবশেষে মেনে নিতে রাশিয়ার প্রতি আবারও আহ্বান জানানো হবে।

আটলান্টায় রুবিও ও লাভরভের যোগাযোগের বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। কারণ, ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে কূটনৈতিক সমাধানের চেষ্টা চালানোর পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র জ্বালানির দাম নিয়ন্ত্রণে মস্কোর সহযোগিতাও চাইছে। আসন্ন মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে জ্বালানির দাম একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ইস্যু।

জি-২০ বৈঠকে লাভরভের অংশগ্রহণের আগে আগামী নভেম্বর মাসে মস্কো, কিয়েভ ও ওয়াশিংটনের মধ্যে নতুন দফার আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এ বছরের জি-২০-সংক্রান্ত বিভিন্ন আয়োজনে যুক্তরাষ্ট্র রুশ কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণের সুযোগ দিয়েছে। অন্যদিকে, সদস্যদেশ দক্ষিণ আফ্রিকাকে বাদ দেওয়া হয়েছে। ফলে লাভরভের উপস্থিতি খুব একটা অপ্রত্যাশিত নয়।

ডিসেম্বরে ফ্লোরিডায় রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন ট্রাম্প। এ ছাড়া জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় মার্কিন নাগরিকদের ওপর অর্থনৈতিক চাপ তৈরি হওয়ার মধ্যে রাশিয়ার কাছ থেকে ডিজেল কেনার একটি চুক্তির কথাও তুলে ধরেছেন তিনি। একই সঙ্গে মস্কোর ওপর আরোপিত কিছু নিষেধাজ্ঞাও শিথিল করেছেন।

আন্তর্জাতিক নৌপথের নিরাপত্তাও আলোচনায়

জি-২০ বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম অগ্রাধিকার হলো আন্তর্জাতিক নৌপথে অবাধ চলাচল নিশ্চিত করা।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘জরুরি সংকট মোকাবিলা এবং কোনো ধরনের হুমকি বা টোল ছাড়াই গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল সচল রাখতে দেশগুলোর অভিন্ন অঙ্গীকার রয়েছে।’

এদিকে, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত আরও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা বাড়ছে। ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, মঙ্গলবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে হামলা চালাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র।


#আন্তর্জাতিক #বাসস